কুমিল্লা ইপিজেডে আগ্রহ কমছে বিনিয়োগকারীদের
গ্যাস, বিদ্যুৎ ও অবকাঠামো সমস্যাসহ নানা সংকট
Published : Monday, 4 December, 2017 at 12:00 AM
তরিকুল ইসলাম তরুণ, কুমিল্লা থেকে : রফতানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কুমিল্লা ইপিজেডে চাহিদা অনুযায়ী শিল্প প্লট তথা স্থান সংকুলানের অভাবে আগ্রহ হারাচ্ছেন দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীরা। ক্রমাগত গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট, শিল্প-কারখানা স্থাপনের জন্য শিল্প প্লট, স্থান সংকুলান, ইপিজেড সম্প্রসারণ, স্থানীয় শিল্পে উৎপাদনের খরচ বেড়ে যাওয়া এবং অবকাঠামো সমস্যাসহ নানা সংকটের কারণ কুমিল্লা ইপিজেডের বিনিয়োগ ও শিল্পায়নে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এতে তুলনামূলক হারে কুমিল্লা ইপিজেডে বিনিয়োগ ও শিল্পায়ন বাড়ছে না বলে জানান কুমিল্লা ইপিজেড বেপজার মহাপরিচালক মো. তানভীর হোসাইন। সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, কুমিল্লা ইপিজেডে আগ্রহী বিদেশি বিনিয়োগকারী ও বিদেশি কর্মরত লোকদের সঠিক আবাসন এবং আন্তর্জাতিক মানের সুযোগ-সুবিধার অভাব রয়েছে। এ ছাড়া স্থানীয় রাজনীতির বিভিন্ন উপ-দলীয় কোন্দল ইপিজেডকেন্দ্রিক বিভিন্ন কোম্পানি ও ব্যবসায় প্রভাব বিস্তার করতে চায়। শ্রমিকদের বিভিন্ন সময়ের বেতন-ভাতা ও দাবি আদায়ের আন্দোলনে সুযোগ নেয় বহিরাগতরা। এতে করে কারখানার মালিকরা ক্ষতির শিকার হন। কুমিল্লা ইপিজেড বেপজার মহাপরিচালক মো. তানভীর হোসাইন জানান, ঢাকা ও চট্টগ্রামের মাঝামাঝি স্থানে কুমিল্লা ইপিজেডের অবস্থান হওয়ায় পণ্য পরিবহনে বাড়তি সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে। ইপিজেড থেকে সামগ্রিক বন্দরে যোগাযোগে সুযোগ-সুবিধা রয়েছে, সুলভে কাঁচামাল প্রাপ্তি এবং শ্রমিকের প্রতুলতা ও সহজলভ্যে পাওয়া যায় বলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা এখানে আগ্রহী। তিনি বলেন, সরকারের উদ্যোগী ভূমিকায় কুমিল্লা ইপিজেডকে দেশের এক নম্বর ইপিজেডে রূপান্তর করা সম্ভব। কারণ, ইপিজেডের পাশেই পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে বিমানবন্দরটি। যদি ইপিজেড সম্প্রসারণ, শিল্প প্লট তথা স্থান সংকুলানের সমস্যা সমাধান করে ছোট পরিসরে হলেও ইপিজেডের সঙ্গে বিমানবন্দরটি চালু করা হয়, তাহলে রফতানি ও বিদেশি বিনিয়োগ বাড়বে বলে তিনি জানান।   : বাংলাদেশ রফতানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষ বেপজা সূত্রে জানা যায়, ২০০০ সালের ১৫ জুলাই কুমিল্লা বিমানবন্দর এলাকার ২৬৭ দশমিক ৪৬ একর জায়গা নিয়ে কুমিল্লা ইপিজেড প্রকল্প কার্যক্রম শুরু হয়। বর্তমানে এ ইপিজেডে দেশি, বিদেশি ও যৌথ উদ্যোগীসহ সর্বমোট ৪২টি পণ্য উৎপাদিত কারখানা রয়েছে। তার মধ্যে বিদেশি বিনিয়োগকারী কোম্পানি রয়েছে ২৩টি, দেশি ও বিদেশি যৌথ উদ্যোগী কোম্পানি রয়েছে ৭টি এবং বাংলাদেশি কোম্পানি রয়েছে ১২টি। এই ইপিজেডে উৎপাদিত পণ্য ইউরোপ, ইউকে, স্পেন, জার্মানি, দক্ষিণ আফ্রিকা ও অস্ট্রোলিয়াসহ ১৩টি উন্নত দেশে রফতানি করা হয়। এখানে ইটিপির আওতায় ইপিজেডের ৪২ কোম্পানির বর্জ্য পরিশোধন করা হয়। বর্তমানে কুমিল্লা ইপিজেডের ৪২টি কোম্পানিতে ২৮ হাজার ৫৬৮ জন পুরুষ ও নারী শ্রমিক কাজ করছেন। এ ছাড়া ১৯৫ জন বিদেশি জনবল কর্মরত রয়েছেন। জানা যায়, কুমিল্লা ইপিজেডে বর্তমানে ২৩৯টি প্লট রয়েছে। ২০১৩ সালে একটি প্রস্তাব হয়েছিল সীমানা বাড়িয়ে ৫৩১টি প্লট করার। বিশ্বব্যাংক ভূমি সম্প্রসারণের অর্থায়ন করবে। কিন্তু ৪ বছর অতিক্রম করলেও এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। : কুমিল্লা ইপিজেড বেপজার মহাপরিচালক মো. তানভীর হোসাইন জানান, কুমিল্লা ইপিজেডে গত ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৩৩৭ মিলিয়ন ডলারের পণ্য রফতানি করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরে পণ্য রফতানির লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে ৩০০ মিলিয়ন ডলার, যা সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত ১০০ মিলিয়ন ডলার অর্জিত হয়েছে। এ ইপিজেডে গ্লোবাল ব্র্যান্ড, কেনন ক্যামরার ব্যাগ, ফটোকপিয়ার ড্রাম উৎপাদন করা হয়। : এ ছাড়া সোয়েটার, ডেনিম ফেব্রিক্স, গার্মেন্টস, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, এইচএনএম, সিঅ্যান্ডএ, জুতা, জিপার, সুতা, পলিব্যাগ, প্লাস্টিকসামগ্রী ও কাপড় ছাড়াও রয়েছে ব্যতিক্রম পণ্য হেয়ার এক্সেসরিজ, মেডিসিন প্লেনার বক্স ও খেলনা তৈরির কারখানা। বাংলাদেশ রফতানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলের (বেপজা) মহাব্যবস্থাপক নাজমা বিনতে আলমগীর জানান, কুমিল্লা ইপিজেডের শুরু থেকে বিনিয়োগ ও রফতানি বেড়ে আসছে। পণ্য উৎপাদনে নতুন নতুন কারখানা যোগ হয়েছে। বর্তমানে চাহিদা অনুযায়ী শিল্প প্লট তথা স্থান সংকুলানের অভাব রয়েছে। এই ইপিজেড সম্প্রসারণ করতে হবে। তাহলে আসতে আসতে বিনিয়োগ ও শিল্পায়ন বাড়বে। : :





দেশের পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

বিএনপি স্থায়ী কমিটি সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, জনসমর্থন না থাকায় নির্বাচন নিয়ে আতঙ্কে আছে সরকার। আপনিও কি তাই মনে করেন?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
1500 জন