জৈন্তাপুরে খাসি নদীতে বোমা মেশিনে পাথর উত্তোলন!
Published : Monday, 4 December, 2017 at 12:00 AM, Update: 03.12.2017 9:42:55 PM
জৈন্তাপুরে খাসি নদীতে বোমা মেশিনে পাথর উত্তোলন!জৈন্তাপুর (সিলেট) প্রতিনিধি : জৈন্তাপুর উপজেলা খাসিয়া হাওরে যন্ত্র দানব বোমা মেশিন দিয়ে পাথর আহরণ করছে একটি পাথরখেকো চক্র। এতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদফতর নীরব ভূমিকা পালন করছে। গত ১ ডিসেম্বর শুক্রবার জৈন্তাপুর উপজেলার সীমান্তের ১২৭৮ নম্বর আন্তর্জাতিক পিলারের ৫ এস নম্বর পিলার এলাকায়  সরেজমিনে পরিদর্শন করে দেখা যায়, ভারত থেকে সৃষ্ট খাসি ঝরনার কারণে বাংলাদেশ অংশে খাসি নদী জন্ম হয়। নদীর উৎসমুখে স্থানীয় প্রভাবশালী পাথরখেকো চক্র দৃষ্টি পড়ে পাথরের উপর। কোনো প্রকার কোয়ারি ঘোষণার আগেই গত ১ সপ্তাহ ধরে খাসি নদীর উৎসমুখে বোমা মেশিন ব্যবহার করে পাথর উত্তোলন করছে চক্রটি। এরই মধ্যে চক্রটি প্রায় ৩৫টি বোমা মেশিন স্থাপন করে পাথর আহরণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। নদীর প্রায় ১০ একর জায়গাজুড়ে চক্রটি বোমা মেশিনের মাধ্যমে পরিবেশ বিধ্বংসে মহাযজ্ঞ চালাচ্ছে। ১২৭৮ নম্বর আন্তর্জাতিক পিলারের ৫ এস পিলার থেকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ ১৫০ গজ দূরে খুঁটি পুঁতে দিয়েছে। অপরদিকে খাসি নদীর উৎস্যমুখ থেকে বোমা মেশিন ব্যবহার করে পাথর উত্তোলনের ফলে নদীর তীরবর্তী প্রায় শ’ শ’ একর ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে বলে ধারণা করছে সচেতন মহল তা ছাড়া অবৈধ পন্থায় এই নদী থেকে পাথর আহরণের ফলে সরকার রাজস্ব হারাবে। সচেতন মহলের দাবি, খাসি নদী থেকে দ্রুত পাথরখেকোদের কার্যক্রম বন্ধ না করা হলে এলাকার পরিবেশ ধ্বংসের মুখে পড়বে। তাই এখনই সময় এদের উচ্ছেদ করা। এ বিষয়ে জানতে সারি নদী বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি গবেষক ও লেখক আব্দুল হাই আল হাদি জানান, জাফলংয়ের মতো আর কোনো স্থান যেন পাথরখেকোর হাতে ধ্বংস না হয় সে জন্য শুরুতেই প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপের মাধ্যমে তা বন্ধ করতে হবে। অন্যথায় নদী হারাবে তার জীববৈচিত্র্য, ফসলি জমি বিলীন হবে, পরিবেশ হবে ধ্বংস। সে জন্য সংশ্লিষ্ট সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।এ বিষয়ে জানতে বেলার সিলেট বিভাগীয় সমন্বয়ক শাহ সাহেদা আখতার জানান, যেহেতু এটি কোনো কোয়ারি নয় এবং সরকার কোনো ইজারা নেই সে ক্ষেত্রে এখানে পাথর উত্তোলন সম্পূর্ণ বেআইনি। বোমা মেশিন ব্যবহারের মাধ্যমে পাথর আহরণ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। আমি সংশ্লিষ্ট পরিবেশ অধিদফতর, জেলা প্রশাসক, বিভাগীয় কমিশনার এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দৃষ্টি আর্কষণ করছি অভিলম্বে এসব বেআইনি কাজ বন্ধ করার দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য। এ বিষয়ে জানতে জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মৌরিন করিমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রতিবেদকে জানান, খাসি নদীর বিষয়ে আমার কাছে কোনো তথ্য নেই বা এখান থেকে পাথর আহরণ বিষয়ে আমি কোনো অভিযোগ পাইনি। বিষয়টি আমি খতিয়ে দেখছি। : :





দেশের পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

বিএনপি স্থায়ী কমিটি সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, জনসমর্থন না থাকায় নির্বাচন নিয়ে আতঙ্কে আছে সরকার। আপনিও কি তাই মনে করেন?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
1489 জন