পাকুন্দিয়ায় এক পরিবারের ৩ জনকে কুপিয়ে হত্যা
Published : Monday, 4 December, 2017 at 12:00 AM
পাকুন্দিয়া (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি, দিনকাল : কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় জমি-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে আপন ভাতিজা কর্তৃক চাচী, চাচাতো ভাইবোনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এছাড়া চাচা গুরুতর আহত রয়েছেন। গত শনিবার সকালে উপজেলার তারাকান্দি পূর্বপাড়া গ্রামের শহর উল্লার বাড়িতে এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেনÑ তারাকান্দি পূর্বপাড়া গ্রামের রাজমিস্ত্রি মোশারফ হোসেনের স্ত্রী তাসলিমা আক্তার (২৮), পুত্র নিলয় (১০) ও কন্যা রাইসা আক্তার (৮)। এ সময় মোশারফ হোসেন (৩৫) গুরুতর আহত হন। হত্যাকান্ডের পরপরই একই গ্রামের শামছুল আলমের পুত্র মবিন (২৫) কে এলাকাবাসী আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। ঘটনার পরপরই পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও কিশোরগঞ্জ র‌্যাব-১৪ কর্মকর্তাগণ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। নিহতদের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন যাবত মোশারফ হোসেন এবং তার চার ভাইয়ের মধ্যে ১০ শতাংশ বসতভিটার বন্টন নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। ৫ ভাইয়ের মধ্যে ২ ভাই সৌদি প্রবাসী। বাকি ৩ জন এলাকায় রাজমিস্ত্রির কাজ করেন। জমির ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে এর আগে বেশ কয়েকবার গ্রাম্য সালিশ করা হয়। এতে কোনো প্রতিকার হয়নি। তন্মধ্যে প্রবাসী শামছুল আলমের স্ত্রী, এক পুত্র ও এক কন্যা নিয়ে কিশোরগঞ্জ শহরে ভাড়া বাসায় থাকেন। বড় ছেলে ঘাতক মবিন (২৫) গুরুদয়াল সরকারি কলেজে হিসাববিজ্ঞান বিভাগে অনার্সসহ মাস্টার্স ফাইনাল পরীক্ষা শেষ করে। ঘটনার আগের দিন শুক্রবার রাতে শহর থেকে গ্রামের বাড়ি তারাকান্দি পূর্বপাড়া এসে রাত কাটায়। পরদিন শনিবার ভোর ৭টার দিকে মোশারফ হোসেনের স্ত্রী তাসলিমা আক্তার সকালের নাস্তা তৈরি করতে রান্নাঘরে প্রবেশ করলে আগে থেকেই ওত পেতে থাকা ঘাতক মবিন তাসলিমা আক্তারকে মাথার পিছন দিকে দা দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। তার ডাকচিৎকারে প্রথমে তার শিশু পুত্র নিলয় (১০) ও পরে রাইসা (৮) এগিয়ে এলে তাদেরও উপর্যুপরি কোপাতে থাকে। এ সময় ঘুমের ঘরে থাকা মোশারফ হোসেন এগিয়ে এলে তাকেও মারাত্মকভাবে জখম করে। এতে ঘটনাস্থলে তাসলিমা আক্তার (২৮), নিলয় (১০) ও রাইসা (৮) নিহত হয় এবং আহত মোশারফ হোসেনকে এলাকাবাসী উদ্ধার করে প্রথমে পাকুন্দিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে কিশোরগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন। এই সময় ঘাতক মবিনকে এলাকাবাসী আটক করে গাছের সাথে বেঁধে রেখে পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে দাসহ ঘাতক মবিনকে আটক করে। এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজমুল হোসেন, সদর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মাসুদ আনোয়ার, কিশোরগঞ্জ র‌্যাব-১৪ ডিএডি তাহের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। নিহত তাসলিমা আক্তারের ছোট ভাই মো. বাতেন মিয়া বাদী হয়ে গত শনিবার বিকেলে ঘাতক মবিনকে একমাত্র আসামি করে পাকুন্দিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজমুল হোসেন সাংবাদিকদের জানান, ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিতভাবে ঘটানো হয়েছে। ঘাতক মবিনকে আটক করে থানা হেফাজতে নেয়া হয়েছে। তদন্তসাপেক্ষে ঘটনার রহস্য জানা যাবে।  এ ব্যাপারে পাকুন্দিয়া থানার ওসি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনার বিষয়ে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বিষয়টি জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে মনে হচ্ছে। তদন্তসাপেক্ষে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে। : :





প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

বিএনপি স্থায়ী কমিটি সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, জনসমর্থন না থাকায় নির্বাচন নিয়ে আতঙ্কে আছে সরকার। আপনিও কি তাই মনে করেন?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
1433 জন