একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে পার্লামেন্ট ভেঙে দিতে হবে
Published : Monday, 4 December, 2017 at 12:00 AM, Update: 03.12.2017 11:07:45 PM
একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে পার্লামেন্ট ভেঙে দিতে হবেআলী মামুদ, দিনকাল : একটি জাতীয় সংসদ বহাল রেখে পরবর্তী জাতীয় সংসদের নির্বাচন শুধু অস্বাভাবিকই নয়, অনৈতিকও বটে। কারণ এমন পরিস্থিতিতে মাঠে একই সময়ে দুটি সংসদের নির্বাচিত এমপিদের সাক্ষাৎ পাওয়া সম্ভবপর। এ ধরনের আজব নির্বাচন এদেশে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির আগে কখনো হয়নি। সে জন্যই দাবি উঠেছে চলতি দশম জাতীয় সংসদ ভেঙে দিয়ে একাদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচনের আয়োজন করা। অবশ্যই সেই নির্বাচন হতে হবে নির্দলীয় সরকারের অধীনে। : বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ এ প্রসঙ্গে বলেন, পরবর্তী সংসদ নির্বাচনের আগেই বর্তমান জাতীয় সংসদ ভেঙে দেয়া আবশ্যক। বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ড. মিজানুর রহমান শেলীর মতে নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে গেলে বর্তমান সংসদ ভেঙে দিতেই হবে। নবম জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ জয়নাল আবেদিন ফারুক বলেন, একটি সংসদ বহাল থাকা অবস্থায় আরেকটি সংসদ নির্বাচন কোনো স্বাভাবিক নির্বাচন নয়। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আইনজীবী ও এনপিপি চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ বলেন, বর্তমান সংসদ ভেঙে দিয়ে সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য অন্যান্য শর্তগুলোও পূরণ করতে হবে। সেই নির্বাচন হতে হবে নির্দলীয় সরকারের অধীনে। উল্লেখ্য, ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এমপি সম্প্রতি বলেছেন যে, প্রধানমন্ত্রী ইচ্ছা করলে যে কোনো সময় নির্বাচন দিতে পারেন। নির্বাচন নিয়ে সাম্প্রতিক আলাপ-আলোচনা ও দাবি-দাওয়ার প্রেক্ষাপটে তার এই মন্তব্য খুবই যুক্তিযুক্ত বটে। দলীয় প্রধানের মন বুঝেই যে তিনি এমন একটি কথা মাঠে ছেড়েছেন, তা বলা যায়। : আন্দোলন ও সংশোধন : বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগ নবম জাতীয় সংসদে তার সংখ্যাগরিষ্ঠতার সুযোগে তাদেরই আন্দোলনের ফসল তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে। একই সঙ্গে সংবিধানে বিপরীতমুখী এক সংশোধনী আনে। ১৯৯০-এ স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের সফলতায় একটি নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হয়। প্রধান বিচারপ্রতি সাহাবুদ্দিন আহমদের নেতৃত্বে অস্থায়ী সরকারের অধীনে ১৯৯১ সালে একটি নিরপেক্ষ ও সর্বমহলের অংশগ্রহণে একটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচন-উত্তর প্রতিক্রিয়ায় সন্ধ্যার পর আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ জাতীয় প্রেসক্লাবে গিয়ে বলেন, ‘সুষ্ঠু-নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়েছে।’ কিন্তু মধ্যরাতের পর পূর্ণাঙ্গ ফল প্রকাশের পর দেখা যায় বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে। আওয়ামী লীগের পক্ষে ওই নির্বাচন মেনে নেয়া ছাড়া উপায় ছিল না। তবু তারা এই নির্বাচনকে ‘সূক্ষ্ম-কারচুপির নির্বাচন’ বলে অভিহিত করে। পরে এই আওয়ামী লীগের দীর্ঘ আন্দোলন ও প্রচণ্ড দাবিতেই দেশে তত্ত্বাবধায়ক পদ্ধতির সরকার ব্যবস্থার প্রবর্তন। কিন্তু সেই তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকেও ছুঁড়ে ফেললো এই দলটি। আরো সহজ করে বলা যায় যে, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে বিজয়ী হয়ে সরকারে বসে সেই ব্যবস্থাটিকে বাতিল করা হলো। : বর্তমানে সংশোধিত বাংলাদেশের সংবিধানের ১২৩/৩/তে বলা হয়েছে : ‘সংসদ সদস্যদের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হইবে (ক) মেয়াদ অবসানের কারণে সংসদ ভাংগিয়া যাইবার ক্ষেত্রে ভাংগিয়া যাইবার পূর্ববর্তী নব্বই দিনের মধ্যে; এবং (খ) মেয়াদ অবসান ব্যতীত অন্য কোন কারণে সংসদ ভাংগিয়া যাইবার ক্ষেত্রে ভাংগিয়া যাইবার পরবর্তী নব্বই দিনের মধ্যে : তবে শর্ত থাকে যে এই দফার (ক) উপ-দফা অনুযায়ী অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে নির্বাচিত ব্যক্তিগণ, উক্ত উপ-দফায় উল্লিখিত মেয়াদ সমাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত, সংসদ সদস্যরূপে কার্যভার গ্রহণ করিবেন না’। : উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হয় ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচন। বস্তুত তখন পর্যন্ত ৯ম জাতীয় সংসদ অটুট ছিল। অর্থাৎ একই সময়ে দুটি সংসদের এমপিরা বহাল ছিলেন। একই সময় ৩০০ আসনের সংসদে দ্বিগুণ এমপির চলাচল নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এমন কি তাদের পাওনাদি পরিশোধে সরকারি রাজস্ব বিভাগে আর্থিক টান পড়ার কথা। ওই সময়ে বিরোধী দলের চিফ হুইপ জয়নাল আবেদিন ফারুক এই প্রতিবেদকের এক জিজ্ঞাসার উত্তরে বলেন, এনিয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রশ্ন তুলেছেন। একই সময় দুটি সংসদের অবস্থান নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে তা রাজনীতিতে এক অমীমাংসিত বিষয়ও বটে। : সংসদ ভেঙে নতুন নির্বাচন হোকÑঅধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ : এ বিষয়ে বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ দৈনিক দিনকালকে বলেন যে, বর্তমান জাতীয় সংসদ ভেঙে দেয়া ছাড়া অপর সংসদ নির্বাচন হতে পারে না। গত ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন সেই কারণে এখনো বিতর্কিত হয়ে রয়েছে। এখন অধিকাংশ দলই তাই চাইছে এই সংসদ ভেঙে দিয়ে নতুন নির্বাচন হোক। এটাই মানুষ চাইছে। : এই সংসদ না ভেঙে নতুন নির্বাচন সুষ্ঠু হবে নাÑড. মিজানুর রহমান শেলী : আন্তর্জাতিক রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ড. মিজানুর রহমান শেলী বর্তমান সংসদ ভেঙে দেয়ার পক্ষে জোরালো মত দিয়েছেন। তিনি বলেন, বর্তমান সংসদ ভেঙে দেয়া ছাড়া সুষ্ঠু অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আশা করা যায় না। একটি দৈনিকে প্রকাশিত মন্তব্যে তিনি বলেন, বিতর্ক ও সংঘাত এড়াতে আগামী সংসদ নির্বাচনের আগে বর্তমান সংসদ ভেঙে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড সৃষ্টি করা উচিত। : সংসদ না ভাঙলে বৈষম্য হবেÑজয়নাল আবেদিন ফারুক : সাবেক সংসদ সদস্য জয়নাল আবেদিন ফারুক সম্প্রতি এ বিষয়ে বলেন, একটা সংসদ বহাল থাকা অবস্থায় আরেকটি সংসদ নির্বাচন কোনো সুষ্ঠু চিন্তার ফসল নয়। আগের সংসদের এমপি থেকে পরের সংসদের প্রার্থীদের সঙ্গে একই সঙ্গে নির্বাচনী প্রচারণা বা চলাচলে বৈষম্য হবেই। বহাল এমপি যারা প্রোটোকল পাবেন, হবু এমপিরা তা পাবেন না। তাহলে কেমন হলো? বিএনপি নেতা জয়নাল আবেদিন ফারুকের মতে সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্বাচনের ঘোষণা দিলে সরকারের সদিচ্ছা প্রকাশ পাবে। : ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক দল ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি) চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ বলেন, সংসদ ভেঙে দিলেই হবে না, নির্বাচনের পরিবেশ গড়ে তুলতে পদক্ষেপ নিতে হবে। বিরোধী দলের লাখ লাখ নেতাকর্মীকে জেলে রেখে কি এমন একটি রাজনৈতিক নির্বাচন হতে পারে? তিনি আরো প্রশ্ন রাখেন যে, যেখানে এখনো মানুষের মতামত প্রকাশের সুযোগ নেই, মিটিং-মিছিল করতে দেয়া হয় না, সেখানে রাজনৈতিক দলগুলো তাদের মতামত প্রকাশ করবে কিভাবে? কাজেই নির্বাচনের আগেই এর সুষ্ঠু পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে। এজন্য সবার জন্য সমানাধিকার নিশ্চিত করতে হবে। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আইনজীবী ও নড়াইলের সন্তান ড. ফরহাদ বলেন, ২০ দলীয় জোটনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে কৌশলে জেলে নিলেও সংসদ নির্বাচন সম্ভব হবে না। :





প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

বিএনপি স্থায়ী কমিটি সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, জনসমর্থন না থাকায় নির্বাচন নিয়ে আতঙ্কে আছে সরকার। আপনিও কি তাই মনে করেন?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
1436 জন