সমবায় বিধি ও বাংলাদেশ ব্যাংকের আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি
হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ক্যাল্ব-এর বিরুদ্ধে
Published : Tuesday, 5 December, 2017 at 12:00 AM
স্টাফ রিপোর্টার, দিনাজপুর : সমবায় বিধি ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সকল নিয়ম, বিধি ও আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে কাল্ব কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করছে বলে বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লিমিটেডের সদস্যদের অভিযোগ। ইতিমধ্যেই দিনাজপুরের কাহারোলের পৌরিয়া শংকরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের  ২ জন শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট সমিতির ম্যানেজারের বিরুদ্ধে ২ কোটি ১২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ প্রকাশিত হওয়ার পর এসব ঘাপলার খবর ফাঁস হয়ে পড়ছে। সুষ্ঠু তদন্ত হলে হাজার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির তথ্য ধরা পড়বে বলে সমিতিগুলোর অভিযোগ। : জানা যায়, কাল্ব-এর সদস্য জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লিমিটেডগুলো। কেন্দ্রীয় কাল্ব এসব সদস্য সমিতির মাধ্যমেই কেবল আমানত গ্রহণ করতে পারবে। সরাসরি আমানত গ্রহণ করার সমবায় মন্ত্রণালয়ের কোনো বিধি নেই এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনো আইন নেই। এসব বিধি ও আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে কাল্ব কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ কোটি কোটি টাকা সরাসরি আমানত গ্রহণ করছে। দিনাজপুর কসবা মিশন, সেন্ট ফিলিফস হাইস্কুল, মিশন হাসপাতাল ও সুইহারী মিশনের কয়েকজনের কাছ থেকে ৫০ কোটি টাকা কাল্ব কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ গ্রহণ করেছে যা সম্পূর্ণ অনিয়ম ও বাংলাদেশ ব্যাংকের আইনবহির্ভূত।  কাল্ব কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ শুধু সদস্য সমিতিগুলোর কাছ থেকে আমানত গ্রহণ করতে পারবে। সমবায় বিধি ও আইন ভঙ্গ করে এসব আমানত গ্রহণ করছে। এসব আমানত গ্রহণ করে কতিপয় দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা আঙ্গুল ফুলে গাছ হচ্ছে। সরকারি ভ্যাট ফাঁকি দিয়ে গোপনে এই দুর্নীতি অবাধে চালিয়ে যাচ্ছে। অথচ কাল্ব আমানতকারীদের সুদ দিচ্ছে ১৬-১৭ শতাংশ, যা বাংলাদেশ ব্যাংকের আইনবহির্ভূত। এতে কাল্ব- এর কর্মকর্তারা হাজার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি করছে বলে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লিমিটেডগুলোর অভিযোগ। দিনাজপুরে আকরাম নামের একজন স্কুল শিক্ষককে পরিচালক নিয়োগ করে কি কারণে তাকে মাসে ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা ভাতা দিচ্ছে কাল্বই জানে। কাল্বের সদস্য সমিতিগুলোর প্রশ্ন, কেন তাকে এই বিশাল অংকের টাকা দেয়া হচ্ছে? : বিভিন্ন উপজেলার কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লিমিটেডগুলো পরিদর্শন করে জানা যায়, কাল্বের সাথে সম্পৃক্ত দিনাজপুরের ৫২টি সদস্য সমিতির অধিকাংশ আর্থিক দুর্নীতির কারণে ধ্বংস হয়ে গেছে। উদাহরণস্বরূপ নবাবগঞ্জ উপজেলার আফতাবগঞ্জ কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লিমিটেডটি ৩ কোটি টাকা খেলাপি। এসব টাকা আদায় হওয়ার কোনো লক্ষণ নেই। কারণ যাদের ঋণ দিয়েছে তারা কেউ সমিতির সদস্য নয়। এছাড়া সমিতির নেতারা নামে বেনামে ঋণ দেখিয়ে নিজেরাই আত্মসাৎ করেছে। এটা আদায়ের আর কোনো সুযোগ নাই। এছাড়া দিনাজপুর শহরের সুইহারী মিশন ও ৬নং উপশহর মহিলা সমবায় সমিতিটিও নির্বাচন জটিলতা দেখিয়ে ৬ কোটি আর ৩ কোটি টাকা খেলাপি দেখিয়ে চুপচাপ আছে। সমিতি দুটি আজ ধ্বংসের শেষ প্রান্তে। কর্মকর্তারা নামে বেনামে ঋণ দিয়ে কর্মকর্তারা নিজেরাই আত্মসাৎ করেছে বলে অভিযোগ সদস্যদের। দিনাজপুর কসবা মিশন, সেন্ট ফিলিফস হাইস্কুল, সেন্ট জোসেফ স্কুল, বালুবাড়ী নির্মল শিশু বিদ্যালয় ৫০ কোটি টাকা কেন্দ্রীয় কাল্ব-এর কাছে সরাসরি আমানত হিসাবে জমা দিয়েছে, যা সমবায় বিধি লংঘন বলে সমবায় সমিতির কর্মকর্তাদের অভিযোগ। কাল্ব-এর দুর্নীতির কারণে কেন্দ্রীয় কমিটির বিগত কমিটির ওপর ১২০ কোটি টাকা দায় চাপানো আছে। এই ১২০ কোটি টাকার কোনো সুরাহা হয়নি। এখন নতুন করে শত শত কোটি টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে। সারা দেশের কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লিমিটেডগুলোর অভিযোগ। সারাদেশের  ৫১৭টি কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লিমিটেডের সদস্যদের মাঝে এখন হতাশা আর নিরাশা ছাড়া আশার কোনো আলো দেখতে পাচ্ছে না। এই ৫১৭টি কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লিমিটেড কাল্বের সদস্য। কিন্তু এসব সদস্যের কোনো মূল্যায়ন বা সঠিক তদারকি না থাকায় হাজার হাজার সদস্যের ভবিষ্যৎ অন্ধকার। : এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির ব্যাপারে বিভিন্ন সমিতির পক্ষ থেকে  চেয়ারম্যান কাল্ব, ঢাকা, বারবার লিখিত অভিযোগ করার সত্ত্বেও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করে তাদেরকে উৎসাহ দিয়ে নিজের পকেট ভরছে। দিনাজপুরসহ বিভিন্ন দফতরে লিখিত অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার হ”েচ্ছ না। দিনাজপুর ব্রাঞ্চের অনিয়ম ও দুর্নীতি দূর করতে কয়েক মাস হলো উজ্জল মিত্র নামে একজন ম্যানেজারকে কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ নিয়োগ দিলেও তিনি নিজেও জড়িয়ে পড়েছেন দুর্নীতিতে। তবে তিনি এই প্রতিনিধিকে জানান, ‘আমি দিনাজপুরে দায়িত্ব নেয়ার পর বেশ কিছু সমিতিতে অনিয়ম ও অস্বচ্ছতা ছিল যা তা দূর করা হয়েছে। বর্তমানে ২-১টি সমিতি ছাড়া সকল সমিতি স্বচ্ছ ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে চলছে। তবে তিনি কাহারোল উপজেলা সমিতির দুর্নীতির কথা স্বীকার করেন এবং বলেন, তদন্ত চলছে।। তদন্তে অনিয়ম প্রমাণিত হলে সমবায় বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে। মিশনারীদের ৫০ কোটি টাকা সরাসরি কাল্ব কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জমা দেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন। : কাল্বের দুর্নীতির উদাহরণস্বরূপ সমিতিগুলো সূত্রে জানা যায়, দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলা কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লিমিটেডের ম্যানেজার সাইফুল ইসলাম, সংশ্লিষ্ট সমিতির চেয়ারম্যান শংকরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাইদুর রহমান ও সংশ্লিষ্ট সমিতির সেক্রেটারি প্রধান সহকারী শিক্ষক অরুন কুমার রায় সমিতির বড় পদে দায়িত্বরত অবস্থায় তারা একত্রিত হয়ে ১২০০ সাধারণ সদস্যদের জমাকৃত সঞ্চয়, আমানতের অর্থ মৃত ব্যক্তির নামে ও বেনামে সমিতির ভুয়া সদস্য বানিয়ে এবং স্বাক্ষর জাল করে প্রায় ২ কোটি ১২ লাখ টাকা ঋণদান দেখিয়ে আত্মসাৎ করে। বিষয়টি উপজেলা ব্যবস্থাপক এবং কমিটির মধ্যে ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে মতের অমিল হলে সাধারণ সদস্যদের মাঝে তা প্রকাশ হয়ে যায়। এছাড়া সাইফুল ইসলাম কাহারোল বুলিয়াবাজার কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক ও কাহারোল উপজেলা শিক্ষক কর্মচারী কো-অপারেটিভের শাখা ব্যবস্থাপক হিসেবে ২টি পদেই অধিষ্ঠিত আছেন। সাইফুল ইসলাম এবং অরুন কুমার রায় সমিতির নাম ভাঙিয়ে দীর্ঘদিন দাদন ব্যবসা চালিয়ে আসছেন। : :





শেষ পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, দুঃশাসন টিকিয়ে রাখতে খুনের  নেশায় মেতে উঠেছে আওয়ামী লীগ। আপনি কি তাই মনে করেন?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
34976 জন