পুরো বিচার বিভাগকে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে সরকার : খসরু
Published : Tuesday, 5 December, 2017 at 12:00 AM, Update: 04.12.2017 10:21:13 PM
পুরো বিচার বিভাগকে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে সরকার : খসরুদিনকাল রিপোর্ট : সরকার বিচার বিভাগকে প্রকল্প বানিয়েছে বলে মন্তব্য করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, অবৈধ সরকারের সর্বশেষ বাধার জায়গা ছিল বিচার বিভাগ। সেটা তারা বুঝতে পেরে বিচার বিভাগকে একটা প্রকল্প হিসেবে নিয়েছে। প্রকল্পটা হচ্ছে পুরো বিচার বিভাগকে তাদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসতে হবে।  গতকাল সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি শীর্ষক এক নাগরিক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। এ নাগরিক সমাবেশের আয়োজন করে স্বাধীনতা অধিকার আন্দোলন। : আমির খসরু বলেন, দেশে আইনের শাসন নেই, এখানে শাসকের আইন চলছে। অর্থাৎ শাসক যেটা বলছে সেটাই আইন। শাসক তার ইচ্ছেমতো, সুবিধামতো আইন তৈরি করছে এবং প্রয়োগও করছে। এই অনির্বাচিত সরকার তাদের নিজেদের আইন প্রয়োগ করার জন্য সংবিধান পরিবর্তন করেছে। বিভিন্ন আইন করেছে অনির্বাচিত সংসদের মাধ্যমে। এবং প্রতিনিয়ত দেশবিরোধী আইনগুলো জনগণের উপর চাপিয়ে দিচ্ছে। আমি বলবো এটা সরকারের একটি প্রকল্প। : বেগম খালেদা জিয়া ও সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি এবং এস কে সিনহার বিদায়, এর মধ্যে একটা সম্পর্ক আছে। এটা একটি পরিকল্পিত বিষয়। প্রধান বিচারপতি দেশে ন্যায় বিচার ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতার জন্য কাজ করছিলেন। তিনি আরও বলেন, এস কে সিনহা বিচার বিভাগের স্বাধীনতার জন্য, অনির্বাচিত সরকারের হাত থেকে দেশকে বাঁচানোর জন্য ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় দিয়েছেন, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটা কোনো ব্যক্তিবিশেষের ব্যাপার নয়। এটা বাংলাদেশের আইনের শাসন থাকবে নাকি শাসকের আইন থাকবে এটা পরিষ্কার করার জন্য। যে কারণে প্রধান বিচারপতিকে দেশ ছেড়ে চলে যেতে হয়েছে। পদত্যাগ করতে হয়েছে। এই সরকার এই কাজগুলো অত্যন্ত সচেতনভাবে করে যাচ্ছে। বিচার-বিবেচনা করে তারা এই সিদ্ধান্তগুলো নিচ্ছে। : অবৈধভাবে ক্ষমতায় থাকতে সরকারের বাধার জায়গা ছিল বিচার বিভাগ মন্তব্য করে সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, একটা পর্যায় এই অবৈধ সরকার সর্বশেষ বাধার জায়গা ছিল বিচার বিভাগ। সেটা তারা ভালোভাবে বুঝতে পেরেছে। যে কারণে তারা বিচার বিভাগকে একটা প্রকল্প হিসেবে নিয়েছে। প্রকল্পটা হচ্ছে পুরো বিচার বিভাগকে তাদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসতে হবে এবং যার কারণে নিম্ন আদালত নির্বাহী বিভাগের অধীনে থাকবে অর্থাৎ শাসকের অধীনে থাকবে। উচ্চ আদালতের বিচারকদের নিয়ন্ত্রণ করার জন্য সংসদে ষোড়শ সংশোধনী করেছিল বিচারকদের তাদের উপর নির্ভরশীল করার জন্য। যেটা ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের মাধ্যমে (এস কে সিনহা) তিনি মুক্ত করার চেষ্টা করেছেন। সেটা তারা (সরকার) বুঝতে পেরে (এস কে সিনহা) তাকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করেছে, পদত্যাগ করতে বাধ্য করেছে। এটাই হচ্ছে দেশের বর্তমান বিচার বিভাগের অবস্থা। : বিএনপির এই নেতা বলেন, এই অবস্থার  পেছনে যে চিন্তা ছিল তার শিকার হয়েছেন বেগম খালেদা জিয়া। এসব পরিকল্পনার পেছনে উদ্দেশ্য ছিল বেগম খালেদা জিয়া। বেগম খালেদা জিয়াকে আগামী নির্বাচনে বাধাগ্রস্ত করবে, নির্বাচনে বাধাগ্রস্ত করে নির্বাচনি ফসল তারা ঘরে তুলে নিয়ে যাবে। একটা বৃহত্তর পরিকল্পনা করে তারা এগুলো করছে। কিন্তু আমরাও পরিষ্কার করে বলতে চাই এভাবে ফসল ঘরে তোলার কোনো সুযোগ নেই। ফসল তো তুলতেই পারবেন না, বরং এটার জন্য অনেক বড় মূল্য দিয়ে আপনাদের (আওয়ামী লীগকে) বিদায় নিতে হবে। আমরা চাই না সেভাবে আপনারা বিদায় হন। আপনারা রাজনীতিতে থাকুন। এজন্য একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দিন।  রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে মিয়ানমারের সাথে বাংলাদেশের যে চুক্তি হয়েছে তা কখনো বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না। নির্বাচনকে সামনে রেখে এই চুক্তি করা হয়েছে জনগণকে ধোঁকা দেয়ার জন্য, যা করে জনগণের সাথে প্রতারণা করা হচ্ছে। : আয়োজক সংগঠনের সভাপতি ড. কাজী মনিরুজ্জামান মনিরের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, প্রশিক্ষণবিষয়ক সম্পাদক এবিএম মোশাররফ হোসেন, নির্বাহী সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, জিনাপের সভাপতি মিয়া মোহাম্মাদ আনোয়ার, শাহবাগ থানা কৃষক দলের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ। : : :





শেষ পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, দুঃশাসন টিকিয়ে রাখতে খুনের  নেশায় মেতে উঠেছে আওয়ামী লীগ। আপনি কি তাই মনে করেন?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
34968 জন