রসিক নির্বাচনে প্রতীক বরাদ্দ : প্রচারণা শুরু
প্রতিশ্রুতি শুনতে নারাজ উন্নয়ন বঞ্চিত রংপুরবাসী
Published : Tuesday, 5 December, 2017 at 12:00 AM, Update: 04.12.2017 10:40:19 PM
প্রতিশ্রুতি শুনতে নারাজ উন্নয়ন বঞ্চিত রংপুরবাসীসালেকুজ্জমান সালেক, রংপুর, দিনকাল : প্রার্থীদের মধ্যে গতকাল সোমবার প্রতীক বরাদ্দ হয়েছে। এরই মধ্যে জমে উঠেছে রংপুর সিটি করপোরেশন (রসিক) নির্বাচন। ভোটারদের মন জয় করতে প্রার্থীরা ছুটছেন দ্বারে দ্বারে। ভোটব্যাংক বাড়াতে কেউ কেউ দিচ্ছেন নানা রকম প্রতিশ্রুতি। মেয়র প্রার্থীদের পাশাপাশি কাউন্সিলর প্রার্থীদের দেয়া উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি নিয়ে হিসেব কষতে বসেছেন ভোটাররাও। এদিকে রসিক নির্বাচনে প্রতীক বরাদ্দের পর গতকাল থেকে প্রচারণা শুরু করেছেন প্রার্থীরা। : বিশেষ করে রংপুর সিটি করপোরেশন (রসিক) এর উন্নয়ন বঞ্চিত বর্ধিত এলাকার ভোটাররা এবার বেশ ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়িয়েছে ভোটের হিসেব-নিকেশে। ৫ বছর আগে ২০১২ সালের ২০ ডিসেম্বর এক বুক আশা নিয়ে নবগঠিত রংপুর সিটি করপোরেশনে মেয়র নির্বাচন করেছিলেন তারা। কিন্তু নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির আলোকে তেমন কোনো উন্নয়ন না হওয়ায় এবার প্রার্থীদের কাছ থেকে প্রতিশ্রুতি শুনতে নারাজ উন্নয়নবঞ্চিত এলাকার ভোটাররা। রসিক সূত্রে জানা গেছে, মহানগর হওয়ার পূর্বে ৫২ কিলোমিটার আয়তনের রংপুর পৌরসভায় ছিল ১৫টি ওয়ার্ড। তখন স্বল্প এই আয়তনের মধ্যে লোকসংখ্যা ছিল সাড়ে তিন লাখ। ২০১২ সালের ২৮ জুন রংপুর সিটি করপোরেশন যাত্রার সময় আরো ১৮টি নতুন ওয়ার্ডের যোগ হয়। এতে প্রায় চার গুণ আয়তন বেড়েছে। বর্তমানে ২০৩.৬৩ বর্গকিলোমিটার আয়তন নিয়ে গঠিত এ সিটি করপোরেশনে লোকসংখ্যাও বেড়েছে দ্বিগুণের বেশি। যার বর্তমান জনসংখ্যা আট লাখ ছাড়িয়ে গেছে। এই জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশির বসবাস বর্ধিত এলাকায়। : সরেজমিনে দেখা গেছে, রংপুর সিটি করপোরেশনের ৩৩টি ওয়ার্ডের মধ্যে বর্ধিত এলাকার ১২টি ওয়ার্ডের অবস্থা একেবারেই নাজেহাল। এর মধ্যে ১ থেকে ৬ এবং ২৮ থেকে ৩৩ নং ওয়ার্ডেও অবস্থা খুবই করুণ। এসব ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের চারপাশ এখনো ঘিরে রয়েছে পল্লী বিদ্যুৎ। তারা সিটিতে বসবাস করলেও বর্ধিত এলাকার বাসিন্দা হওয়ায় ৩৪ পয়সা অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল বেশি দিতে হচ্ছে। শুধু তাই নয়, কোথাও কোথাও আবার একেবারেই বিদ্যুৎ পৌঁছেনি। : এসব এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগেরও অন্ত নেই। নগরীর ৩৩নং ওয়ার্ডের ভোটার আব্দুর রহিম, সোহাগী বেগম, নন্দিতা রানী, প্রণব কুমার বলেন, আমাদের এলাকার সড়কগুলোতে হাতেগোনা কিছু লাইট পোস্ট থাকলেও বাতিগুলো ঠিক মতো জ¦লে না। এমন অবস্থায় লাইট পোস্ট নেই বললেই চলে। নেই। সড়কের অবস্থাও বেহাল। শুধু খানাখন্দে ভরা আর ভাঙাচোরা। আমরা নামেমাত্র নগরীর বাসিন্দা। ৬নং ওয়ার্ডের কোবারু এলাকার বাসিন্দা জব্বার মিয়া, মজিবর মিয়া, সুফিয়া বেওয়া, ছালেহা বেগম, আইয়ুব আলীসহ অন্য ভোটাররা অভিযোগ করে বলেন, আগোত হামার ভালো আছিল। হামরা হামার এলাকাত ইউনিয়ন থাকি ইলিপ পাচনো। এ্যলা সিটি হবার পর তাকি হামরা ওই সউগ ইলিপ বন্ধ হইচে। হামরা এ্যলা সিটির উন্নয়ন থাকি বঞ্চিত। আগের সুবিধা থাকিও বঞ্চিত। এই জনতে কারো প্রতিশ্রুতি শুনতে আর হামার ভালো লাগে না।   : শুধু ভোটের সময়ই প্রার্থীরা লোভনীয় অফারের মতো নানা রকম প্রতিশ্রুতির ফুলঝুড়ি নিয়ে ভোটারদের কাছে আসেন বলে অভিযোগ ১৪নং ওয়ার্ডের আসলাম মিয়া, রমজান আলী, শাপলা বেগমের। তারা আক্ষেপের সুরে বলেন, আমরা ৫ বছরে উন্নয়ন  বৈষম্যের শিকার হয়েছি। এমন অভিযোগ শুধু উন্নয়ন বঞ্চিত বর্ধিত এলাকার বাসিন্দাদেরই নয়। পূর্বে পৌরসভায় থাকা ওয়ার্ডের ভোটাররাও ক্ষুব্ধ রয়েছেন। নগরীর ২৫নং ওয়ার্ডের পূর্ব শালবন এলাকার ভোটার মির্জা ও লাভলী বেগম বলেন, আমাদের এলাকায় লাইট পোস্ট আছে বাতি নেই। রাস্তা আছে ড্রেন নেই। অথচ ৫ বছর থেকে এলাকার কাউন্সিলরকে অনেকবার বলেছি। কাউন্সিলর আমাদের কথার কোনো মূল্য দেয়নি। : এদিকে রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দ শেষ হয়েছে। উৎসবমুখর পরিবেশে সোমবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে রংপুরের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং অফিসার সুভাষ চন্দ্র সরকার প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দ কার্যক্রম  শুরু করেন। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ৩৩টি ওয়ার্ডের ২১১ জন সাধারণ কাউন্সিলর ও  ৬৫ জন সংরক্ষিত কাউন্সিলর এবং ৭ মেয়র প্রার্থীর মাঝে প্রতীক বরাদ্দ দেয়া শেষ হয়েছে। রংপুরের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং অফিসার সুভাষ চন্দ্র সরকার প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দ কার্যক্রম শুরু করেন। : রংপুর আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মেয়র পদে বিএনপির কাওসার জামান বাবলার ধানের শীষ, আওয়ামী লীগ থেকে মনোনীত সরফুদ্দিন আহম্মেদ ঝন্টুর নির্ধারিত নৌকা প্রতীক, জাতীয় পার্টির মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফার লাঙ্গলসহ অন্যান্য মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের মাঝে নির্ধারিত বিভিন্ন প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনি প্রচারণা শুরু হয়। : মেয়র পদে উল্লেখিত তিন প্রার্থী ছাড়াও এ নির্বাচনে বাসদের আব্দুল কুদ্দুস, ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন বাংলাদেশের এটিএম গোলাম মোস্তফা বাবু, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির সেলিম আখতার এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদের ভাতিজা আসিফ শাহরিয়ার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। : আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং অফিসার সুভাষ চন্দ্র সরকার জানান, প্রথমে সাধারণ ও সংরক্ষিত কাউন্সিলরদেও প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। প্রসঙ্গত এ সিটি করপোরেশনে বর্তমানে ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৯৩ হাজার ৯৯৪। এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৯৬ হাজার ৩৫৬ ও মহিলা ১ লাখ ৯৭ হাজার ৬৩৮ জন। ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ২১ ডিসেম্বর। :





প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, দুঃশাসন টিকিয়ে রাখতে খুনের  নেশায় মেতে উঠেছে আওয়ামী লীগ। আপনি কি তাই মনে করেন?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
35019 জন