সড়ক-মহাসড়ক মেরামতের উদ্যোগ নেই : যোগাযোগ ব্যবস্থা নাজুক
Published : Tuesday, 5 December, 2017 at 12:00 AM, Update: 04.12.2017 10:38:07 PM
সড়ক-মহাসড়ক মেরামতের উদ্যোগ নেই : যোগাযোগ ব্যবস্থা নাজুকআবদুল্লাহ জেয়াদ, দিনকাল : সারাদেশে সড়ক-মহাসড়কের বেহাল অবস্থা। ফলে স্বাভাবিকভাবে চলতে পারছে না দূরপাল্লার যানবাহন। খানাখন্দে ভরা সড়ক-মহাসড়ক দিয়ে চলতে গিয়ে সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। ৪ ঘণ্টার পথ পাড়ি দিতে সময় লাগছে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা। ভাঙাচোরা সড়কের কারণে ইতিমধ্যে ট্রাকের ভাড়া প্রায় ৪০ শতাংশ বাড়িয়ে দিয়েছে মালিকরা। বর্ধিত ভাড়ার প্রভাব পড়েছে চালসহ তরিতরকারি ও নিত্যপণ্যে। সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে একদিকে দুর্ভোগ অন্যদিকে চালসহ নিত্যপণ্যের চড়াদামে খেসারত দিচ্ছে সাধারণ মানুষ। : নিম্নমানের কাজ ও সাম্প্রতিক বৃষ্টি-বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক নির্মাণ বা মেরামতের কোনো উদ্যোগও দৃশ্যমান নয়। খানাখন্দে ভরা এসব রাস্তায় এখন যানবাহন চলাচল কঠিন হয়ে পড়েছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দেশের ২১ জেলার ৭ হাজার ১৩০ কিলোমিটার সড়ক। দেশের চার মহাসড়কের মধ্যে সবচেয়ে বেশি খারাপ অবস্থা ঢাকা-টাঙ্গাইল-রংপুর-কুড়িগ্রাম মহাসড়কের। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ঢাকা-যশোর-খুলনা এবং তৃতীয় অবস্থানে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক। তবে এ তিন মহাসড়কের তুলনায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ক্ষতির পরিমাণ কম বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা। : সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদফতরের মহাসড়ক ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, দেশের ৩৯ শতাংশ সড়ক-মহাসড়ক ভালো অবস্থায় রয়েছে। ৩৭ শতাংশ সড়ক-মহাসড়ক ভাঙাচোরা, ২৪ শতাংশ সড়ক মোটামুটি চলনসই। তবে এর মধ্যে কিছু অংশে হালকা বা ভারী মেরামত প্রয়োজন। বাকি সড়ক পুনর্নির্মাণ করতে হবে। সওজ সূত্র জানায়, প্রতি বছর বর্ষায় রাস্তা ও ব্রিজ কালভার্টের কিছু ক্ষতি হয়। এবার বন্যা ও অতিবৃষ্টিতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সে তুলনায় অনেক বেশি। বহু জায়গায় সড়ক ধসে গেছে। বহু জায়গায় রাস্তা পুরোপুরি ওয়াশড আউট হয়ে গেছে। মাঝখানে রাস্তা নেই, ব্রিজ বানাতে হবে এমন অবস্থাও হয়েছে। এজন্য বাড়তি মেরামত কাজের প্রয়োজন হবে। জানা গেছে, সওজের অধীন সারাদেশে ১৯ হাজার ৩৮৭ কিলোমিটার পাকা সড়ক রয়েছে। এরমধ্যে বেহাল রয়েছে ১১ হাজার ৮২৬ কি.মি. সড়ক। গতবছর চার মাসে সড়ক-মহাসড়ক প্রত্যক্ষ পর্যবেক্ষণ করে সওজের এইচডিএম সার্কেল। এর প্রতিবেদনে সড়ক-মহাসড়কের বর্তমান চিত্র তুলে ধরে বলা হয়েছে, ভাঙাচোরা সড়ক মেরামতের জন্য চলতি অর্থবছরে ৯ হাজার ১৫৭ কোটি ৩৪ লাখ টাকা প্রয়োজন হবে। : সমীক্ষায় আরো বলা হয়েছে, সওজের ৬ হাজার ২০৭ কিলোমিটার বা ৩৭ দশমিক ৩৫ শতাংশ সড়কের অবস্থা খারাপ বা খুবই খারাপ। জেলা সড়কগুলোর অবস্থা সবচেয়ে খারাপ। সওজের প্রধান প্রকৌশলী গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, সওজের নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে নির্ধারিত সময় পরপর সারা দেশের সব সড়ক-মহাসড়ক পর্যবেক্ষণ করা হয়। এর ভিত্তিতে প্রণীত প্রতিবেদন ইতিমধ্যেই মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। : ধীর গতির সড়ক-মহাসড়কের সংস্কার কাজ কবে শেষ হবে তার নির্ধারিত কোনো দিন-তারিখ নেই। সারাদেশে সড়ক-মহাসড়কের বেহাল দশা সেই জোড়াতালি মার্কা কাজেরই সাক্ষী। প্রতি বছর সড়ক-মহাসড়ক সংস্কারে হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় করা হচ্ছে। তারপরেও দেশজুড়ে সড়ক-মহাসড়কের করুণ দশা। মহাসড়কে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজট এখন নিত্যদিনের ঘটনা। ঢাকা-টাঙ্গাইল, ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-সিলেট, ঢাকা-গাজীপুর, ঢাকা-আরিচা, ঢাকা-রাজশাহীসহ দেশের বেশিরভাগ মহাসড়কে যানজট এখন নিত্যসঙ্গী। এর প্রধান কারণ ভাঙাচোরা সড়কে নির্ধারিত গতিতে গাড়ি চলতে না পারা এবং সংস্কারের জন্য একদিকের রাস্তা বন্ধ থাকা। : এ প্রসঙ্গে এলজিইডির সাবেক প্রধান প্রকৌশলী মোঃ শহীদুল হাসান বলেন, বেহাল সড়কের হাল ফেরাতে দরকার পরিকল্পিত কর্মপরিকল্পনা। স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার মাধ্যমে এ সমস্যা থেকে পরিত্রাণের উপায় বের করতে হবে। : তিনি বলেন, আমাদের প্রতিটি স্তরে এক ধরনের নৈরাজ্য বিরাজ করছে। এজন্য আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। মহাসড়কে নসিমন, করিমন, ভটভটি ও ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল করছে উল্লেখ করে এলজিইডির সাবেক প্রধান প্রকৌশলী বলেন, অব্যবস্থাপনার কারণেই সারাদেশে এক সাথে বেহাল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। সুপরিকল্পিত ব্যবস্থাপনার জন্য দরকার আইনের শাসন। : বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. সামসুল হক একটি গণমাধ্যমকে বলেছেন, শুধু অর্থব্যয় করেই সড়ক-মহাসড়কের উন্নতি করা সম্ভব নয়। সারা দেশে সড়ক-মহাসড়ক রক্ষণাবেক্ষণের ধারণাটা খুব খারাপ। প্রতিবছর বর্ষার পর রাস্তা সংস্কারে যেতে হয়। পৃথিবীর আর কোথাও এই সংস্কৃতি নেই। সেখানে ১০/১২ বছর পর সংস্কার হয়। আমাদের দেশে বছর বছর এ খাতে অর্থব্যয় হচ্ছে অথচ কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। এর কারণ পানিবদ্ধতা এবং ওভারলোডিং। বাস্তবত, এটি যে কেউ প্রত্যক্ষ করেছেন যে, আমাদের দেশের সড়কগুলো যে মাত্রায় লোড বহনের উপযোগী করে তৈরি করা হয়েছে এখন ট্রানজিটের কারণে ভারতীয় অধিক পরিবহনে সক্ষম বাস ও ট্রাকগুলো চলাচলের কারণে অনেক সড়ক সহজেই বেহালদশায় পতিত হচ্ছে। অন্যদিকে সড়ক মেরামতের ঠিকাদারিতে নানা দুর্নীতি বিরাজ করছে। সেক্ষেত্রে কাজ হয় শুধু কাগজে-কলমে। এসব বাস্তবতা নিয়ে দেশের প্রধানমন্ত্রীও কথা বলেছেন। অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। বাস্তবে পরিস্থিতির কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন তো হয়নি, কোনো লক্ষণ রয়েছে বলেও মনে হয় না। ফলে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ জনগণকে। অন্যদিকে সড়কের বেহালদশার জন্য দেশের পরিবহনেরও ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। বর্তমানে পরিবহন খাতে প্রচুর পরিমাণে কর দিতে হয় অথচ সড়কের উন্নয়নে কোনো কার্যকর নজর নেই। :





প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, দুঃশাসন টিকিয়ে রাখতে খুনের  নেশায় মেতে উঠেছে আওয়ামী লীগ। আপনি কি তাই মনে করেন?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
35021 জন