অর্থ সঙ্কটে রোহিঙ্গা তহবিল
Published : Tuesday, 5 December, 2017 at 12:00 AM, Update: 04.12.2017 10:38:18 PM
অর্থ সঙ্কটে রোহিঙ্গা তহবিলদিনকাল ডেস্ক : রোহিঙ্গা শরণার্থী সঙ্কট মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় অর্থের মাত্র ৩৪ শতাংশ এখন পর্যন্ত সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে। শরণার্থী সঙ্কটের শততম দিনে সার্বিক অবস্থা বিষয়ে একটি প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তাকারী সংগঠনগুলোর জোট ইন্টার সেক্টর কো-অর্ডিনেশন গ্রুপ প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে। : শরণার্থীদের জায়গা দেয়া স্থানীয় বাসিন্দাসহ মোট ১২ লাখ মানুষকে সহায়তা দেয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ৪৩৪ মিলিয়ন পাউন্ডের মাত্র ৩৪ শতাংশ অর্থ এখন পর্যন্ত সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে। কক্সবাজারে ৮ লাখ ৩০ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা রয়েছে, যাদের ৬ লাখ ২৫ হাজার ২৫ আগস্টের পর বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। শরণার্থীরা দশটি আলাদা ক্যাম্পে ও সেখানকার স্থানীয়দের শরণার্থী হিসেবে থাকছেন। এর মধ্যে একটি ক্যাম্প পৃথিবীর বৃহত্তম ও সবচেয়ে দ্রুত বাড়তে থাকা শরণার্থী শিবিরে পরিণত হয়েছে, যেখানে অল্প জায়গায় গাদাগাদি করে প্রায় ৫ লাখ মানুষ প্রাথমিক স্বাস্থ্য বা চিকিৎসাসেবা ছাড়া থাকছেন। ২৫ আগস্ট থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত নেয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে তৈরি করা হয়েছে প্রতিবেদনটি। শরণার্থী ও তাদের জায়গা দেয়া স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনায় মানবাধিকার সংস্থাগুলো ও বাংলাদেশ সরকারের ভূমিকা তুলে ধরা হয় প্রতিবেদনে। সেখানে বলা হয় সাহায্যের প্রয়োজন রয়েছে এমন ১২ লাখ মানুষের অর্ধেকের কাছ পর্যন্ত পৌঁছাচ্ছে সহায়তা। প্রতিবেদনে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার নানা সমস্যাও তুলে ধরা হয়। : প্রতিবেদনে বাংলাদেশে জাতিসংঘ আবাসিক প্রতিনিধি মিয়া সেপ্পো বলছেন, মানবাধিকার সংস্থাগুলো দিনরাত কাজ করছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, জরুরি ভিত্তিতে ব্যাপক ত্রাণ কার্যক্রম চালানো প্রয়োজন আর প্রতিবন্ধকতাও অনেক। আরো অর্থায়ন প্রয়োজন। বাংলাদেশ পৃথিবীর সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ দেশগুলোর একটি, কিন্তু জনাকীর্ণ ক্যাম্পগুলোর অবস্থার উন্নতি করতে হলে আরও জায়গা প্রয়োজন। : ক্যাম্পে সংক্রামক রোগব্যাধি ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা ব্যাপক। মারাত্মক হতে পারে অতিবৃষ্টি বা সাইক্লোনের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাব। ক্যাম্পে থাকা শরণার্থীদের জীবন বাঁচানোর লক্ষ্যে কিছু সুপারিশও করা হয় প্রতিবেদনে। যার মধ্যে রয়েছে খাদ্যে পুষ্টিমান উন্নয়ন, রোগ সংক্রমণ প্রতিরোধ ও ব্যবস্থাপনা, নতুন ক্যাম্পের জন্য পর্যাপ্ত পরিকল্পনা ও সবকটি সমস্যা সমাধানে সতর্কতা বৃদ্ধি। : এদিকে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় জাতিসংঘ কার্যত তাদের কার্যকারিতা হারিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের এক সংসদ সদস্য (এমপি)। এর পরও আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন মাসুদ গোদারজি। তিনি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ক্রমবর্ধমান এই মানবিক সংকট সমাধানে একটি উপায় খুঁজে পেতে জাতিসংঘকে দ্বিগুণ গতিতে প্রচেষ্টা চালাতে হবে। ফিনান্সিয়াল ট্রিবিউনের খবরে বলা হয়, মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন অব্যাহত রেখেছে। এমপি মাসুদ মনে করেন, বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফিরিয়ে যাওয়া একেবারেই অসম্ভব হয়ে উঠেছে। : এদিকে রোহিঙ্গাদের দুর্দশা মোকাবিলা করা হচ্ছে অদক্ষতার সঙ্গে এমন অভিযোগ তুলে জাতিসংঘের সমালোচনা করেছেন আরেক এমপি আবুল ফজল হাসানবেইগি। তিনি বলেছেন, জাতিসংঘের নিষ্ক্রিয়তার কাছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী নৃশংসতা অব্যাহত রাখার শক্তি পেয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, দুর্ভাগ্যজনক হলো এ ক্ষেত্রে জাতিসংঘ তার কার্যকারিতা হারিয়েছে। তিনি বলেছেন, জাতিসংঘ শুধু রিপোর্ট বা বিবৃতি প্রকাশ করেই ক্ষান্ত হচ্ছে। এর কোনো আইনগত বাধ্যবাধকতা নেই। ফলে তাদের এমন ভূমিকায় প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। অন্যদিকে মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে সমঝোতা দলিল স্বাক্ষরিত হওয়ায় চীনের লাভ হয়েছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে প্রতিবেশী বন্ধু দেশ ভারত। ভারতের আফসোসের কারণ প্রায় চার মাস সময় পাওয়ার পরও রোহিঙ্গা প্রশ্নে দিল্লি কোনও নির্ণায়ক ভূমিকা নিতে পারেনি। মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে চীন হয়তো নাক গলাবে না, ভারতের এই ধারণা ভুল প্রমাণিত হলো। কারণ চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পেশ করা ফর্মুলার বেশকিছুটা প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই মেনে নিলো মিয়ানমার ও বাংলাদেশ। গত ২৩ নভেম্বর নেপিদোতে ওই দলিল স্বাক্ষরিত হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর বিকালে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে এই সমঝোতার বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হয়। তখন মুখপাত্র রবীশ কুমার নিজের অস্বস্তি গোপন করতে না পেরে বলে ফেলেন, ‘যেটা এখন ঘটছে সে বিষয়ে কী মন্তব্য করবো বলুন তো? আর রাখাইন প্রদেশের বাস্তুচ্যুত মানুষদের নিয়ে কী করা উচিত, তা আমরা আগে অনেকবারই বলেছি। মনে হয় না এর পুনরাবৃত্তির কোনও প্রয়োজন আছে। ভারতে তখন বেজেছে বিকাল সাড়ে ৪টা। : নেপিদোতে সই-সাবুদ শেষ হয়ে গেছে এর বেশ আগেই। ঘটনা হলো, তারপর প্রায় সাড়ে তিন দিন কেটে গেলেও ভারত এই সমঝোতা নিয়ে এখনও কোনও সরকারি প্রতিক্রিয়া দেয়নি। না গণমাধ্যমে, না সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারে। এদিকে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যে কথা মুখ ফুটে বলতে পারছে না, তা সরাসরি বলে দিলো দেশের প্রথম সারির সংবাদপত্র ‘দ্য হিন্দু’র সম্পাদকীয়। সেখানে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে স্বাক্ষরিত এই সমঝোতাকে ‘চায়না প্ল্যান’ বলে বর্ণনা করা হয়েছে। চীনের মধ্যস্থতাতেই যে মূলত দুই দেশ মুখোমুখি আলোচনার টেবিলে বসে দলিলে স্বাক্ষর করেছে তা পত্রিকাটির সম্পাদকীয়তে জানানো হয়েছিল। : :





প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, দুঃশাসন টিকিয়ে রাখতে খুনের  নেশায় মেতে উঠেছে আওয়ামী লীগ। আপনি কি তাই মনে করেন?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
35038 জন