বর্বর অনাচার টিকিয়ে রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে লেলিয়ে দিয়েছে সরকার : রিজভী
ঢাকায় বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর পুলিশের হামলা-গুলি : আটক ৩০
Published : Wednesday, 6 December, 2017 at 12:00 AM, Update: 05.12.2017 10:36:16 PM
ঢাকায় বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর পুলিশের হামলা-গুলি : আটক ৩০দিনকাল রিপোর্ট : বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় বকশীবাজারে অবস্থিত আদালতে হাজিরা দিয়ে ফেরার পথে তাঁর গাড়িবহরে হামলা করে পুলিশ। এতে আহত হন বিএনপি ও তার অঙ্গ সংগঠনের শতাধিক নেতাকর্মী। শুধু বিএনপির নেতাকর্মীই নয় পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় পাঁচজন সাংবাদিককেও আটক করে পুলিশ। গ্রেফতার করা হয় ৩০-৩৫ জন নেতাকর্মীকে। : পুলিশি হামলা ও গ্রেফতারের নিন্দা জানিয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, সরকার অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন ঠেকানোর জন্যই পুলিশি রাজত্বকে টিকিয়ে রাখবে। কারণ চোরাই নির্বাচন এবং চোরাই পার্লামেন্টের যে মজা তারা পেয়েছেন সেটা কোনোভাবেই হারাতে রাজি নয় তারা। হাসিনা মার্কা গণতন্ত্রের সুষ্ঠু নির্বাচন, শান্তি, স্থিতি, মানুষের নিরাপত্তার কোনো স্থান নেই। এরা নির্দয় কর্তৃত্ববাদী একদলীয় দুঃশাসনের জাঁতাকলে জনগণকে পিষ্ট করে যাবে। যার একটি নিষ্ঠুর প্রতিফলন দেখা গেল গতকাল বিএনপি চেয়ারপারসন আদালতে হাজিরা দিতে গেলে পথে অভ্যর্থনা দিতে দাঁড়িয়ে থাকা বিএনপি নেতাকর্মীদের উপর পুলিশের নিষ্ঠুর হিংস্র আচরণে। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। : রিজভী বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় বকশীবাজারে অবস্থিত আদালতে হাজিরা দিতে গেলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জলকামান, সাঁজোয়া যান নিয়ে অভ্যর্থনার জন্য অপেক্ষারত বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের অসংখ্য নেতাকর্মীর উপর বেপরোয়া আক্রমণ চালায়। বেধড়ক লাঠিচার্জ এবং বৃষ্টির মতো রাবার বুলেট ছুড়তে থাকে পুলিশ। সেখান থেকে বিএনপির ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক ও জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল হককে গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ। হাইকোর্টের সামনে অপেক্ষমাণ নেতাকর্মীদের উপর দাঙ্গা পুলিশ, ডিবি পুলিশ আকস্মিক আক্রমণ চালিয়ে অসংখ্য নেতাকর্মীকে আহত করে। এখানে গুরুতর আহতদের মধ্যে টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সভাপতি কৃষিবিদ সামছুল আলম তোফাসহ বেশ কিছু নেতাকর্মী রয়েছেন। পুলিশি হামলা চালিয়ে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রাসেল, ওয়ারী থানা বিএনপি নেতা গোলাম মোস্তফা সেলিম, বিএনপি নেতা হাজী মো. ফারুক, দুলাল হোসেন, আব্দুল আউয়াল, আব্দুর রহিম, কামাল হোসেনকে গ্রেফতার করে। তাইজুদ্দিন আহমেদ তাইজু, আবু সুফিয়ান, রাইসুল ইসলাম চন্দন, সুমন, শামসুল হক শামসু, দেলোয়ার, হারুন, জহির, লিটনসহ অসংখ্য নেতাকর্মী পুলিশি আক্রমণে আহত হয়। এছাড়া টাঙ্গাইল জেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান উজ্জল, সদস্য সোহেল রানা, রাজধানীর তিতুমীর কলেজ ছাত্রদল নেতা মাইনুল হোসেন সোহাগ এবং রামপুরা থানা ছাত্রদল নেতা অনিকুর রহমান জাফরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। : তিনি বলেন, বকশীবাজার অস্থায়ী আদালত প্রাঙ্গণে জড়ো হওয়া নেতাকর্মীদের ওপর বেধড়ক লাঠিচার্জ করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। লাঠিচার্জে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েল, ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি ফখরুল ইসলাম রবিনসহ ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের অসংখ্য নেতাকর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন। সবচেয়ে দুর্ভাগ্যের বিষয় এই যে, বর্তমান নিপীড়ক সরকারের আজ্ঞাবহ পুলিশ বাহিনী বকশীবাজার আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের উপরও চড়াও হয়। আদালতে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার হাজিরা উপলক্ষে পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময়  দৈনিক দিনকাল পত্রিকার সিনিয়র সাংবাদিক রাশেদুল হক এবং সিনিয়র নারী সাংবাদিক ও ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির নবনির্বাচিত সদস্য মাহমুদা ডলি, রিপোর্টার বাবুল খন্দকারসহ পাঁচজন সাংবাদিককে আটক করে পুলিশ। সাংবাদিকদের পরিচয়পত্র দেখানোর পরও পুলিশ তাদের টানাহেঁচড়া করে ভ্যানগাড়িতে তোলে ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে। যদিও পরে সাংবাদিকদের প্রতিবাদের মুখে তাদেরকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয় পুলিশ। : বিএনপির এই নেতা বলেন, আমি বিএনপির পক্ষ থেকে বিএনপির ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক ও জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল হকসহ ঢাকা মহানগর এবং দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে নেতাকর্মীদেরকে গ্রেফতারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে তাদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও নিঃশর্ত মুক্তির জোর দাবি করছি। আহত নেতাকর্মীদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি।  গতকাল বকশীবাজার আদালত প্রাঙ্গণে পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় কর্তব্যরত সাংবাদিকদের ওপর পুলিশি হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এছাড়া সাতক্ষীরা জেলার সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য কাজী আলাউদ্দিনসহ শতাধিক নেতাকর্মী এবং নাটোর জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি সাবিনা ইয়াসমিন ছবিসহ ২৪ জন নেতাকর্মীর নামে মিথ্যা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। : সংবাদ সম্মেলনে রিজভী বলেন, ভোটারবিহীন আওয়ামী সরকারের স্বভাবের কোনো পরিবর্তন হয়নি। আদালতে হাজিরা দিতে গেলে বিএনপি চেয়ারপারসনকে রাস্তায় অভ্যর্থনা জানাতে বিএনপির নেতাকর্মীদের উপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আগ্রাসী আচরণে আগাম উপলব্ধি করা যায়, শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচন কত বীভৎস্য রূপ ধারণ করবে। আওয়ামী মন্ত্রীরা যতই তত্ত্ব কথা শোনাক আওয়ামী সরকার সৃষ্ট নিত্যকার সহিংস ঘটনা ভিন্ন বার্তা দিচ্ছে দেশবাসীকে। এই সরকার গণতন্ত্র, নির্বাচন ও আইনের শাসনের সঙ্গে প্রতারণাকারী একটি সরকার। এরা বারবার জনগণের সাথে মোনাফেকী করেছে। তাই প্রতারণার জন্য জনগণ এই সরকারকে ৪২০ সরকার বলে মনে করে। : শাসক দল আওয়ামী লীগ এখন সন্ত্রাসের ল্যাবরেটরিতে পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করে রিজভী বলেন,  নানামুখী সন্ত্রাসের অভিনব কায়দা  আবিষ্কার করে ভোটারবিহীন সরকার তা জনগণের উপর প্রয়োগ করছে। ভিন্ন কায়দায়  সরকারের আক্রমণে এর প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। সরকার বেগম খালেদা জিয়াকে রাজনীতি থেকে উৎখাত করতে সিরিজ চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়ে এখন তাদের প্রতিহিংসার মাত্রা তীব্র রূপ ধারণ করেছে। আওয়ামী লীগ দুর্নীতি, প্রতিহিংসা ও ক্ষমতা দখলের নির্লজ্জ প্রতিষ্ঠান। তাই এই অনাচারমূলক প্রতিষ্ঠান টিকিয়ে রাখতে এরা  বিরোধিতা, সমালোচনাকারী বিরোধীদল ও বিরোধীমত সহ্য করার শক্তি হারিয়ে ফেলে দিগি¦দিক জ্ঞানশূন্য হয়ে আওয়ামী চেতনায় রঞ্জিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দিয়ে গণতান্ত্রিক শক্তিকে সমূলে ধ্বংস করতে বেসামাল হয়ে পড়েছে। সরকারের কুশাসনের মধ্যে  গতকাল বিএনপি নেতাকর্মীদের উপর পুলিশের নাৎসিদের পন্থায় আক্রমণ ইতিহাসের জঘন্যতম অধ্যায় হয়ে থাকবে। : গণবিরোধী সরকার জনগণ দ্বারা প্রত্যাখ্যাত বলে দাবি করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, আওয়ামী সরকার এখন রাজনীতির পরগাছা। সেদিন আর বেশি দূরে নয় গৌরবময় প্রতিবাদী ভূমিকায় জনগণের ক্রোধ যেকোনো মুহূর্তে কালবৈশাখী ঝড়ের মতো বর্তমান দুঃশাসনকে শিকড়সহ উৎপাটিত হয়ে যাবে।  সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন নবী খান সোহেল, স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু প্রমুখ। : : : :





প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

টিআইবির নেতৃবৃন্দ বলেছেন, দুর্নীতিমুক্ত দেশ ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় সরকারের সদিচ্ছা জরুরি। আপনিও তাই মনে করেন?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
34010 জন