আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ম্যানেজ করে হাজরাকাটি এলাকায় অসামাজিক কার্যকলাপ
মনিরামপুরে আ’লীগ নেতার যোগসাজশে জুয়ার আসর!
Published : Thursday, 7 December, 2017 at 12:00 AM
মনিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি : মনিরামপুরে প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই জমজমাট জুয়ার আসর চলছেই। প্রতিনিয়ত সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত উপজেলার হাজরাকাটি-বেলতলা বাজারের পশ্চিমে মাঠের মধ্যে আ’লীগ নেতার নিজের ঘেরের পাড়ে টংঘর বেঁধে চলে এ জুয়ার আসর। এ জুয়ার আসরে প্রতিদিন প্রায় অর্ধকোটি টাকা লেনদেন হয় বলে জানা গেছে। প্রতিদিন বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে জুয়াড়িরা জড়ো হয়ে এ জুয়া খেলায় মেতে ওঠে। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিলেও ওই আ’লীগ নেতার ভয়ে কেউ টুঁ শব্দ করতে পারছেন না। স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে বার বার জানিয়েও কোনো প্রতিকার পাননি বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। জানা যায়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ কয়েকটি শাখাকে ম্যানেজ করে প্রায় ৮ মাস ধরে উপজেলার মশ্মিমনগর ইউনিয়নের হাজরাকাটি এলাকার আবুল হাসানের নিয়ন্ত্রণে এ জুয়ার আসর চলছে। এর আগে উপজেলার স্মরণপুর ও এনায়েতপুর গ্রামের কপোতাক্ষ নদের পাড়ে এ জুয়ার বোর্ড চলত। এ নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ওই জুয়ার বোর্ড উচ্ছেদ করে দেয়। এরপর থেকে উপজেলার বেলতলা নামক স্থানে চলছে জুয়ার বোর্ড। ওই ঘেরের পাড়ে দীর্ঘদিন জুয়ার বোর্ড চললেও প্রশাসন হস্তক্ষেপ না নেয়ায় স্মরণপুর, এনায়েতপুরের জুয়ার বোর্ড পরিচালনাকারীরা বেলতলার ঘেরপাড়ের জুয়ার বোর্ড চলার কথা প্রচার করে। এরপরই বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। হাজরাকাটি বাজারের পশ্চিমে মাঠের মধ্যে হাসানের নিজের ঘের পাড়ে টংঘর বেঁধে চলে এ জুয়ার আসর। মাঝেমধ্যে বেলতলা বাজার এলাকার একটি ইটভাটা-সংলগ্ন একটি ঘরে চলে জুয়ার আসর। জুয়ার বোর্ড নির্বিঘেœ চালাতে হাসানের সহযোগী হিসেবে আরো ৪ জন কাজ করে। কথা হয় জুয়ার বোর্ডে কাজ করা উপজেলার খালিয়া গ্রামের জাহান আলী নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে। তিনি হাসানের অধীনে কাজ করার কথা জানিয়ে অকপটে সব কথা বলে ফেলেন। তিনি নিজেকে শারীরিকভাবে অসুস্থ জানিয়ে বলেন, তার কাজ হলো দেশের নাম করা জুয়াড়িদের এ জুয়ার আসরে নিয়ে আসা। প্রতি জুয়াড়িকে নিয়ে আসা বাবদ ২০০ টাকা পেয়ে থাকেন। এ ছাড়া কলারোয়ার রেজাউল ইসলাম, বেলতলার রুহুল কুদ্দুস ও ইউসুফ আলী জুয়ার বোর্ডে অংশ নেয়া জুয়াড়িদের আপ্যায়নসহ জুয়ার বোর্ডের আশপাশের বিভিন্ন পয়েন্টে পাহারা দেয়। এ ছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কয়েকটি শাখাকে ম্যানেজ করেই চলে এ জুয়ার বোর্ড বলেও তিনি জানান। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে আবুল হাসান বলেন, নিজেদের মধ্যে ঝামেলার কারণে আপতত জুয়া খেলা বন্ধ রয়েছে। স্থানীয় অনেকেই নাম পরিচয় গোপন রাখার শর্তে অভিযোগ করে বলেন, প্রশাসনকে জানিয়ে কোনো লাভ হয়নি। কথা হয় স্থানীয় রাজগঞ্জ ফাঁড়ি ইনচার্জ এসআই আকরাম হোসেনের সঙ্গে। তিনিও ওইখানে জুয়ার বোর্ড চলার কথা শুনেছেন দাবি করে বলেন, অচিরেই ওসির সঙ্গে কথা বলে অভিযান চালানোর কথা বলেন। জানতে চাইলে ওসি (ডিবি) মো. মনিরুজ্জামান বিশেষ কাজে ঢাকায় আছেন জানিয়ে বলেন, লোকাল ওসিকে বিষয়টি অবহিত করেন। জানতে চাইলে মনিরামপুর থানার ওসি মোকাররম হোসেন বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেয়া হবে। : :





দেশের পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

রসিক নির্বাচন অবাধ হবে না বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন প্রার্থীরা। আপনিও কি তাই মনে করেন?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
7239 জন