আমতলীর কৃষিজমিতে ইটভাটা
Published : Thursday, 7 December, 2017 at 12:00 AM
আমতলীর কৃষিজমিতে ইটভাটাআমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি : ইটভাটা নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৩-এর নীতিমালা লঙ্ঘন করে বরগুনার আমতলী উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ফসলি জমিতে গড়ে উঠেছে একাধিক ইটভাটা। এতে একদিকে যেমন আবাদি জমির পরিমাণ কমে আসছে তেমনি কাঠ পোড়ানো ও ড্রাম চিমনি ব্যবহারের ফলে এলাকার পরিবেশ প্রতিবেশের উপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে। স্থানীয় প্রশাসন ব্যবস্থা নিলেও প্রতি বছরই পুরোদমে এসব ভাটা তাদের কার্যক্রম চালিয়ে আসছে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আমতলী বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ১০টিরও বেশি ভাটায় ইটভাটা নিয়ন্ত্রণ আইন লঙ্ঘন করে করে ড্রাম চিমনি ব্যবহার করে কাঠ দিয়ে ইট পোড়ানোর কাজ চলছে। নিয়মানুসারে পরিবেশ অধিদফতর বন বিভাগের ছাড়পত্র নিয়ে ইটভাটা নিয়ন্ত্রণ আইন মেনে ভাটা স্থাপনের সুনির্দিষ্ট নিয়ম থাকলেও এদের কেউ ন্যূনতম শর্তও মানছেন না। সরেজমিনে বেশ কয়েকটি ভাটায় গিয়ে দেখা যায়, এসব ভাটায় খননযন্ত্র ব্যবহার করে ফসলি জমিতে গভীর খাদ করে মাটি কেটে সেসব মাটি ইট তৈরিতে ব্যবহার করা হচ্ছে। চালিতাবুনিয়া এলাকায় একটি ভাটায় আমতলী উপজেলায় পরিবেশগত ছাড়পত্র ও জেলা প্রশাসনের লাইসেন্স ছাড়াই অনেক ইটভাটায় ইট পোড়ানোর কার্যক্রম শুরু করছে। পরিবেশগত বিপর্যয়ই জনস্বাস্থ্যের মারাত্মক হুমকির আশঙ্কা রয়েছে। স্বল্প উচ্চতার ড্রাম চিমনি ইটভাটা স্থাপন এবং ১২০ ফুট উচ্চতার স্থায়ী চিমনি ইটভাটার কাজ শুরু হতে যাচ্ছে। জ্বালানি হিসেবে অনেক ইটভাটায় কয়লার পরিবর্তে কাঠ ব্যবহারের জন্য গ্রাম থেকে বিভিন্ন জাতের গাছ কেটে ভাটায় স্তূপ করে রাখছে। গাছ কাটায় পরিবেশের ভারসম্য বিনষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করছেন পরিবেশবাদীরা। প্রধানমন্ত্রী একাধিকবার কৃষিজমিতে ইটভাটাসহ শিল্প-কারখানা না করার জন্য মালিকদের আহ্বান জানালেও তাদের কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। কৃষিজমিতে ইটভাটা করায় ফসলি জমি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। দিন দিন কমে যাচ্ছে ফসলি জমি। আমতলী উপজেলার আমতলী সদর, হলদিয়া, চাওড়া, কুকুয়া, গুলিশাখালী, আঠারোগাছিয়া, ইউনিয়নে একাধিক ঝিকঝাক ও ড্রাম চিমনি এবং পাজা ইট পোড়ানোর প্রস্তুতি চলছে। বরিশাল পরিবেশ অধিদফতরের সহকারী পরিদর্শক আরেফিন বাদল জানান, কৃষি অফিস থেকে আমাদের একটি তালিকা দেবে ওই তালিকায় কৃষি জমিতে ইটভাটা থাকলে সেখানে কোনো ছাড়পত্র দেয়া হবে না। যারা করেছে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে। আমতলী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এস এম বদরুল আলম জানান, আমার কাছে পরিবেশ অধিদফতর কৃষিজমিতে ইটভাটা হয়েছে কিনা তার কোনো তালিকা চায়নি। তিনি আরো জানান, কৃষিজমিতে ইটভাটা করায় যেমন ফসলি জমি নষ্ট হচ্ছে তেমনি ফসলেও মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। : :





দেশের পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

রসিক নির্বাচন অবাধ হবে না বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন প্রার্থীরা। আপনিও কি তাই মনে করেন?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
7223 জন