দুদকে বাচ্চুকে দ্বিতীয় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ
Published : Thursday, 7 December, 2017 at 12:00 AM, Update: 06.12.2017 10:08:58 PM
দুদকে বাচ্চুকে দ্বিতীয় দফায় জিজ্ঞাসাবাদদিনকাল রিপোর্ট : প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার ঋণ কেলেঙ্কারি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে বেসিক ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান প্রভাবশালী ব্যক্তি শেখ আব্দুল হাই বাচ্চু কি সত্যিই ধরা পড়বেন, না নানা কৌশলে বেরিয়ে যাবেন এমন প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে। আবার অনেকের ধারণা, দুদকের আগের চেয়ারম্যান মো. বদিউজ্জামান ও  সাবেক কমিশনার সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর  নেতৃত্বাধীন কমিশন বেসিক ব্যাংকের এই বাচ্চুকে রক্ষা করেছেন। তাদের আমলে বেসিক ব্যাংকের ঋণ কেলেঙ্কারির ঘটনায় ৫৬টি মামলা দায়ের হয়। অথচ একটি মামলায়ও বাচ্চুকে আসামি করা হয়নি। তবে দুদকের বর্তমান চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদের নেতৃত্বাধীন কমিশন সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনার পর বাধ্য হয়েছেন বেসিক ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান বাচ্চুকে ডেকে পর পর দুই দিন জিজ্ঞাসাবাদ করতে। এদিকে গতকাল বুধবার দ্বিতীয় দফায় দুদক কার্যালয়ে শেখ আব্দুল হাই বাচ্চুকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। গতকাল সকাল ১০টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত জিজ্ঞাসাবাদকালে বাচ্চু নার্ভাস বোধ করেন এবং হঠাৎ অসুস্থ বোধ করেন। পরে দুদক কার্যালয়ের ডা. জ্যোতির্ময় চৌধুরী নামে চিকিৎসক ডেকে বাচ্চুর স্বাস্থ্য পরীা করানো হয়েছে। দুুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। : তিনি বলেন, এর আগে গত ৪ ডিসেম্বর একই অভিযোগে বেসিক ব্যাংকের সাবেক  চেয়ারম্যান বাচ্চুকে টানা ৩ ঘন্টা জিজ্ঞাসাবাদ করে দুদক কর্মকর্তরা। ওই দিন জিজ্ঞাসাবাদকালে বেসিক ব্যাংকের কয়েক হাজার কোটি টাকার ঋণ জালিয়াতির বিষয়ে অনেকটা দম্ভ করেই বাচ্চু বলেছিলেন, তিনি ২শ কোটি টাকার মালিক। তিনি ব্যাংকের টাকা আত্মসাৎ করেননি। তার বিরুদ্ধে আনীত সব অভিযোগের জবাব দিয়েছেন। দুদকের তদন্ত কাজে ডাকা হলে তিনি আসবেন এবং তদন্তে সহযোগিতা করবেন। তিনি অহংকার করে বলেছিলেন, তাকে আবার ওই ব্যাংকের চেয়ারম্যান বানানো হলে জালিয়াতির মাধ্যমে লুটপাট হওয়া সব টাকা উদ্ধার করে দেবেন। : দুদক জনসংযোগ কর্মকর্তা বলেন, বেসিক ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান বাচ্চুকে দ্বিতীয় দিনে জিজ্ঞাসাবাদ করেন দুদক পরিচালক একেএম জায়েদ হোসেন খান ও পরিচালক সৈয়দ ইকবালের নেতৃত্বে  ১২ সদস্যের বিশাল তদন্ত টিমের সদস্যরা। কারণ বেসিক ব্যাংকের দুর্নীতির তদন্তের বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা এবং কয়েক দফা পর্যবেণ রয়েছে। এর আগে বাচ্চুর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে খ্যাত ওই ব্যাংকের পরিচালনা পর্যদের সাবেক ৯  সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। পর্ষদের সাবেক সদস্যরা হলেন, আনোয়ারুল ইসলাম, আনিস আহমদ, কামরুন নাহার আহমেদ, অধ্যাপক কাজী আকতার  হোসাইন, সাখাওয়াত হোসেন, ফখরুল ইসলাম, একেএম কামরুল ইসলাম, জাহাঙ্গীর আখন্দ সেলিম, শ্যাম সুন্দর শিকদার ও একেএম রেজাউর রহমান। : তবে দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ সাংবাদিকদের বলেন, এখন বেসিক ব্যাংকের ঋণ কেলেঙ্কারির ঘটনায় তদন্ত চলছে, তদন্ত কর্মকর্তারা কাজ শেষ করে সিদ্ধান্ত নেবেন আরো কারা এসব অভিযোগে আসামি হবেন। সুনিদিষ্ট তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতেই অভিযুক্তদের আসামি করা হবে। : এদিকে গতকাল বুধবার বেসিক ব্যাংকের অর্থ জালিয়াতির ঘটনায় আরো একটি মামলা দায়ের করেছে দুদক। দুদকের সহকারী পরিচালক মো. সিরাজুল হক বাদী হয়ে রাজধানীর বংশাল থানায় ৭ কোটি ৮৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে তিনজনকে আসামি করে এই  মামলাটি দায়ের করেন। কিন্তু এই মামলায় বেসিক ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল হাই বাচ্চুকে আসামি করা হয়নি। মামলার আসামি করা হয়েছে, ইকসল ফুড অ্যান্ড বেভারেজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইফুল ইসলাম, চেয়ারম্যান আতাউর রহমান ও বেসিক ব্যাংকের বাবুবাজার শাখার সাবেক শাখা ব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মো. সেলিমকে। আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে আগের বিক্রি করা জমির কাগজ এই ব্যাংকে বন্ধক রেখে ঋণ দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, বন্ধককৃত জমির অতিরিক্ত মূল্যায়ন করে, প্রয়োজনীয় রেকর্ডপত্র যাচাই না করে  ঋণ দিয়েছেন। এই মামলার বিষয়েও তৎকালীন ব্যাংকটির  চেয়ারম্যান আবদুল হাই বাচ্চুকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। বর্তমানে বেসিক ব্যাংকের ঋণ কেলেঙ্কারিতে ৫৭টি মামলা দায়ের করেছে দুদক। : সূত্র মতে, বেসিক ব্যাংক ঋণ কেলেঙ্কারির ঘটনায় ২০১৫ সালের ২১, ২২ ও ২৩  সেপ্টেম্বর তিন দিনে টানা ৫৬টি মামলা করেন দুদক। রাজধানীর মতিঝিল, পল্টন ও গুলশান থানায় দায়ের হওয়া এই ৫৬টি মামলায় আসামির সংখ্যা ১৫৬ জন। ব্যাংকের কর্মকর্তরাসহ ঋণ গ্রহীতাদের অনেকেই একাধিক মামলার আসামি রয়েছে। এরমধ্যে বেসিক ব্যাংকের কর্মকর্তা রয়েছেন ২৬ জন। বাকি ১৩০ জন আসামি ঋণগ্রহীতা ৫৪ প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী ও সার্ভে প্রতিষ্ঠানও রয়েছে। : তবে  কোনো মামলায়ই আবদুল হাই বাচ্চুকে আসামি করা হয়নি। এ নিয়ে জাতীয় সংসদ থেকে শুরু করে অর্থনীতিবিদ, ব্যাংক খাতের বিশেষজ্ঞ এবং সর্বশেষ  সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ পর্যন্ত দুদকের তদন্ত নিয়ে প্রচন্ড তিরস্কার ও সমালোচনা করেন। : আবদুল হাই বাচ্চুর নেতৃত্বাধীন পরিচালনা পর্ষদ ২০১২ সালের এপ্রিল থেকে ২০১৩ সালের মার্চ পর্যন্ত  নজিরবিহীন অনিয়মের মাধ্যমে ৩ হাজার ৪৯৩ কোটি ৪৩ লাখ টাকা ঋণের নামে বিভিন্ন জনকে দেয়ার তথ্য উদ্ধার করলেও বাস্তাবে এই অর্থের পরিমাণ আরো অনেক বেশি হবে বলে ধারণা দুদকের। বাংলাদেশ ব্যাংক তখন তদন্ত করে বলেছিল, ‘৪০টি দেশীয় তফসিলি ব্যাংকের কোনোটির েেত্রই পরিচালনা পর্ষদ কর্তৃক এ ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া পরিলতি হয়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে। এই ঋণ আদায়ের সম্ভাবনাও কম। : : :





প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

রসিক নির্বাচন অবাধ হবে না বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন প্রার্থীরা। আপনিও কি তাই মনে করেন?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
7254 জন