জাতিসংঘে ঢাকার প্রস্তাব পাস
Published : Thursday, 7 December, 2017 at 12:00 AM, Update: 06.12.2017 10:08:21 PM
দিনকাল ডেস্ক : জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের বিশেষ অধিবেশনে মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গাদের অধিকার সুরাবিষয়ক একটি প্রস্তাব পাস হয়েছে। তবে চীনের বিরোধিতায় প্রস্তাবটি সর্বসম্মতভাবে পাস না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ। গত মঙ্গলবার জেনেভায় কাউন্সিলের ২৭তম বিশেষ অধিবেশনে বাংলাদেশের আনা প্রস্তাবটি ৩৩-৩ ভোটে পাস হয়েছে। তবে চীন, ফিলিপাইন ও পূর্ব আফ্রিকার দেশ বুরুন্ডি বিপে ভোট দেয়ায় প্রস্তাবটি সর্বসম্মতভাবে পাস হয়নি। ভারত, জাপানসহ ৯টি দেশ ভোট দেয়া থেকে বিরত ছিল। : বাংলাদেশের অনুরোধে জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিল গতকাল ‘মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গা মুসলিম জনগোষ্ঠী ও অন্য সংখ্যালঘুদের মানবাধিকার পরিস্থিতি’ শীর্ষক বিশেষ অধিবেশনটি ডেকেছিল। অধিবেশনে বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের বিষয়ে একটি প্রস্তাবের খসড়া দেয়। বিশেষ অধিবেশনের প্রথম পর্বে ৪৩টি দেশের প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন। তাদের মধ্যে ছিলেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার জেইদ রাদ আল হুসেইন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী  শাহরিয়ার আলম ও জেনেভায় জাতিসংঘে মিয়ানমারের স্থায়ী প্রতিনিধি তিন লিন। দ্বিতীয় পর্বে ২৯টি দেশের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ অন্তত ১২টি মানবাধিকার সংগঠনের প্রতিনিধিরা বক্তৃতা দেন। বক্তৃতা পর্ব শেষে প্রস্তাবটি নিয়ে সংেেপ সৌদি আরব ও বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা কথা বলেন। এরপর মিয়ানমারের স্থায়ী প্রতিনিধি তিন লিন প্রস্তাবের বিরোধিতা করে বলেন, মানবাধিকারের েেত্র সবার জন্য সুরা অপরিহার্য, সেখানে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রস্তাবটি বাজে দৃষ্টান্ত তৈরি করতে যাচ্ছে। তা ছাড়া প্রস্তাবে যা বলা হয়েছে, তা মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তেেপর শামিল। : আলোচনায় অংশ নিয়ে জেনেভায় চীনের স্থায়ী প্রতিনিধি মা ঝাওজু বলেন, দ্বিপীয় প্রক্রিয়াই রোহিঙ্গা সমস্যার একমাত্র সমাধান। এ সমস্যা সমাধানে চীনের দেয়া তিন ধাপের প্রস্তাবে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও স্বাগত জানিয়েছে। দুই দেশ এ নিয়ে ২৩ নভেম্বর চুক্তি সই করায় চীন সন্তুষ্ট। এখন এটির বাস্তবায়ন গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রোপটে চীন মনে করে, কাউন্সিলে প্রস্তাব সমস্যা সমাধানে সহায়ক হবে না, বরং পুরো প্রক্রিয়ায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে। তাই চীন প্রস্তাবটি ভোটাভুটিতে দেয়ার অনুরোধ জানাচ্ছে। চীন বিপে ভোট দেবে। : জেনেভায় ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি রাজীব চন্দর বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারকে সহযোগিতা করে আসছে ভারত। দেশ দুটির মধ্যে ২৩ নভেম্বর যে চুক্তি হয়েছে তা যৌক্তিক উপায়ে, আস্থা ও সুপ্রতিবেশীসুলভ দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে সমস্যা সমাধানে ভূমিকা রাখবে বলে ভারত আশা করে। এই পরিপ্রেেিত প্রস্তাবটি সমস্যা সমাধানে সহায়ক হবে না বলে ভোটাভুটি থেকে ভারত বিরত থাকবে। পরে অধিবেশনের সভাপতি ও জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান জোয়াকুইন আলেক্সান্ডার মাজা মার্তেল্লির উপস্থিত সদস্যদের ভোটে অংশ নেয়ার আহবান জানান। ভোটের ফলাফলে তিনি জানান, প্রস্তাবের পে ৩৩টি ও বিপে ৩টি দেশ ভোট দিয়েছে। ভোট দেয়া থেকে বিরত থেকেছে ৯টি দেশ। : এর আগে ২০০৭ সালের অক্টোবরে কাউন্সিলের পঞ্চম বিশেষ অধিবেশনে মিয়ানমারের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার পর একটি প্রস্তাব পাস হয়েছিল। ভোটের ফলাফলের পর জেনেভায় বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি শামীম আহসান অধিবেশনে বলেন, মানবিক ও মানবাধিকার সুরার এমন একটি প্রস্তাব নিয়ে ভোটাভুটি হওয়ায় বাংলাদেশ অত্যন্ত মর্মাহত হয়েছে। কারণ প্রস্তাবটি নৈর্ব্যক্তিকভাবে নেয়া হয়েছে, কোনো রাজনৈতিক বিবেচনায় নয়। খসড়া প্রস্তাবটি নিয়ে সদস্যদের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছিল। অধিবেশনের উদ্বোধনী পর্বে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার জেইদ রাদ আল হুসেইন বলেন, রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর চরম নৃশংসতার জন্য গণহত্যার দায়ে মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর বিচার হতে পারে। : :





প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

রসিক নির্বাচন অবাধ হবে না বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন প্রার্থীরা। আপনিও কি তাই মনে করেন?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
7227 জন