সীতাকুণ্ডের ত্রিপুরা পাড়ার কমিউনিটি ক্লিনিকে নানাবিধ সমস্যা, মিলছে না ওষুধ
ক্লিনিকটা প্রয়োজনের তুলনায় ছোট, ভালো আসবাবপত্রও নেই
Published : Friday, 8 December, 2017 at 12:00 AM
চট্টগ্রাম অফিস : জেলার সীতাকুণ্ডের সোনাইছড়ির বার আউলিয়া ত্রিপুরা পাড়ায় হাম রোগে আক্রান্ত হয়ে ৯ শিশুর মৃত্যু এবং প্রায় দেড় শতাধিক শিশু আক্রান্তের পর বেশ ত্বরিত গতিতে যে একটি অস্থায়ী কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন করা হয়েছিল সে ক্লিনিক এখন অনেক অকার্যকর হয়ে পড়েছে। চালুর মাত্র ৫ মাসের মাথায় এখানে কোন ওষুধ মিলছে না। গত আগষ্টের ২ তারিখে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেল লাইনের পাশে এবং হাফিজ জুট মিলস এর নিজস্ব জায়গাতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশে এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেসের সহযোগীতায় ১২ হাজার রোগীর স্বাস্থ্য সেবা দেওয়ার প্রত্যয়ে এ ক্লিনিক স্থাপন করার পর এখানে প্রতিদিন গড়ে রোগী আসে ৩০ জনের মতো। তার মধ্যে ত্রিপুরা পাড়ার আদিবাসী আসে গড়ে মাত্র তিনজন। আর বাকী রোগী স্থানীয় এবং হাফিজ জুট মিলের ফ্যামিলী কলোনীতে বসবাসতরত শ্রমিকরা। ক্লিনিকটি চালু হওয়ার পর কিছুদিন বিভিন্ন রোগের ওষুধ পাওয়া গেলও বর্তামানে এখানে সব ওষুধ পাওয়া যায় না। ক্লিনিকে সরজমিনে দিয়ে দেখা যায় ওষুধ না পেয়ে রোগী ফেরত যাচ্ছে। উক্ত ক্লিনিকে কর্মরত সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সিএইচসিপি কাজী আসিফ উদ্দিন বলেন, উপজেলা থেকে যে ওষুধ দেওয়া হয় তা একেবারেই অপতুল্য। প্রতিদিন গড়ে ৩০ জনের মতো রোগী আসে কিন্তু সে তুলনায় ওষুধ থাকে না। ৩০ রকমের ওষুধ থাকার কথা থাকলেও মাত্র কয়েক প্রকার ওষুধ থাকে। রোগী আসলে আমি ওষুধ দিতে পারি না। তিনি আরো বলেন, মাসে একবার উপজেলা থেকে ১৫ দিনের জন্য যে ওষুধ দেওয়া হয় সেই ওষুধ বহণ করে আনার গাড়ি ভাড়াও দেওয়া হয় না। আমি প্রতিবারই নিজের থেকে টাকা খরচ করে ওষুধ আনতে হয়। এভাবে কতদিন চলবে। ক্লিনিকটা প্রয়োজনের তুলনায় ছোট, ভালো আসবাবপত্রও নেই। ফ্লোরটা পাকা না হওয়াতে ইঁদুর বড় বড় গর্ত করেছে। ওষুধ এবং দরকারী কাগজপত্র ইঁদুরে কেটে পেলে। ক্লিনিকে ডায়াবেটিস মাপার গ্নুকো মিটার না থাকায় রোগী আসলে ফেরত যেতে হয়। আসিফ উদ্দিন বলেন, এখানে একটি টয়লেট খুবি জরুরি। টয়লেট না থাকায় আমার নিজেরও খুব সমস্যা পোহাতে হয়। উল্লেখিত সমস্যার বিষয়ে জানতে চাইলে  উপজলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা নুরুল করিম রাশেদ বলেন, ক্লিনিকটি এখনো অস্থায়ী এটি স্থায়ী হলে সব সমস্যা মিটে যাবে। ইতিমধ্যে এখানে একটি স্থায়ী হাসপাতাল স্থাপনের জন্য সরকারী অনুমোদন হয়েছে। ফাইলটি জেলা প্রশাসক অফিসে আছে। চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জেন্ট ডা. আজিজুর রহমান সিদ্দিকী'র সাথে আলাপ হয় মুটো ফোনে তিনি বলেন, ক্লিনিকটি স্থায়ী হওয়ার কাজ চলছে। বর্তমানে ওষুধের যে সমস্যা চলছে এ ব্যাপারে আমি উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার সাথে কথা বলবো। ত্রিপুরা পাড়ার বেশ কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানাযায়, এখানে ৩০ রোগের ওষুধ দেওয়ার কথা ছিল তা আমরা পাচ্ছিনা। প্যারাসিটামল, ওরস্যালাইন আর ভিটামিন ক্যাপসুল ছাড়া অন্য ওষুধ সব সময় পাওয়া যায় না। : :





দেশের পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর মানুষের আস্থা কমেছে। আপনিও কি তাই মনে করেন?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
32683 জন