সৈয়দপুরে গার্মেন্টসে তৈরি পোশাক যাচ্ছে বিদেশে
* সরকারি দফতরগুলোর সহযোগিতা মিলছে  না বরং উল্টো হয়রানি * ক্ষুদ্র পোশাক মালিকদের জন্য আলাদা নীতিমালা প্রণয়নের দাবি
Published : Friday, 8 December, 2017 at 12:00 AM, Update: 07.12.2017 9:10:02 PM
সৈয়দপুরে গার্মেন্টসে তৈরি পোশাক যাচ্ছে বিদেশেমিজানুর রহমান মিলন, সৈয়দপুর থেকে : সৈয়দপুরে দিন দিন প্রসারিত হচ্ছে ঝুট কাপড়ের তৈরি পোশাক শিল্প। প্রায় দুই দশকে এখানে গড়ে উঠেছে প্রায় ৪০০ মাঝারি ও ক্ষুদ্র পোশাক কারখানা। এতে কর্মসংস্থান হয়েছে ৫ হাজার নারী-পুরুষের। এদের নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় তৈরি হচ্ছে শার্ট, প্যান্ট, ট্রাউজার, মোবাইল প্যান্ট, জ্যাকেট ও টুপিসহ নানাবিধ পোশাক। এসব তৈরি পোশাক দেশের চাহিদা মিটিয়ে রফতানি হচ্ছে প্রতিবেশী ভারত, নেপাল ও ভুটানে। সূত্র মতে জানা যায়, পোশাক তৈরির এসব কারখানা সারা বছর ব্যস্ত থাকলেও ব্যস্ততা বেড়ে যায় শীত মৌসুমে। এ ব্যবসার বড় মৌসুম শীতকাল। চলতি শীত মৌসুমে কয়েক গুণ অর্ডার নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন এর কর্মীরা এখন তাদের দম ফেলার ফুরসৎ নেই। সম্পূর্ণ ব্যক্তি মালিকানাধীন সরকারি প্রণোদনা ছাড়াই বেড়ে উঠেছে এ শিল্প। ফলে নানা সমস্যা নিয়ে চলছে তৈরি এসব পোশাক কারখানা। এ শিল্পের মালিকদের সংগঠন সৈয়দপুর রফতানিমুখী ক্ষুদ্র গার্মেন্টস মালিক গ্র“প নেতৃবৃন্দের অভিযোগ, তারা কোনো সরকারি সাহায্য-সহযোগিতা পান না। নিজস্ব পুঁজি, শ্রম ও মেধা দিয়ে তিলে তিলে এ শিল্প গড়ে তুলেছেন। দেশে বাজারজাতে তেমন সমস্যা নেই। তবে রফতানিতে তাদের সমস্যার অন্ত নেই। বিশেষ করে রফতানি কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সরকারি দফতরগুলো থেকে সহযোগিতা মিলছে না বরং উল্টো হয়রানি হতে হচ্ছে তাদের। তারা এর অবসানে এ শিল্পের জন্য ক্ষুদ্র পোশাক পল্লী গড়ে তোলা এবং ক্ষুদ্র পোশাক মালিকদের জন্য আলাদা নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানান। সূত্র জানায়, ২০০০ সালের আগে এ শিল্পের যাত্রা শুরু হয় সৈয়দপুরে। তখন মাত্র কয়েকজন ব্যবসায়ী ব্যক্তিগত উদ্যোগে গার্মেন্টস পণ্য তৈরি করেন। সে সময় ঢাকা, গাজীপুর, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে গার্মেন্টসের ঝুট কাপড় কিনে বিভিন্ন ধরনের পোশাক তৈরি করেন তারা। পরবর্তীতে তৈরি হওয়া এসব পণ্য ভারতে রফতানি করা হয়। সে সময় সৈয়দপুরে তৈরি জ্যাকেট, মোবাইল প্যান্ট, যেমনÑ শর্ট প্যান্ট, থ্রি-কোয়ার্টার প্যান্ট, ফোর কোয়ার্টার প্যান্ট, ট্রাউজারসহ অন্যান্য পোশাক ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। বিদেশের বাজারে বেড়ে যায় এসব পণ্যের চাহিদা। ফলে বিগত ২০০০ সালের পর সৈয়দপুরে ক্ষুদ্র ও মাঝারি গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বাড়তে থাকে। এরই প্রেক্ষিতে সৈয়দপুরে গড়ে ওঠে সৈয়দপুর রফতানিমুখি ক্ষুদ্র গার্মেন্টস মালিক গ্রুপ নামে এসব ক্ষুদ্র ও মাঝারি কারখানায় প্রায় ৩০-৩৫ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছেন উদ্যোক্তারা। ক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠানে ২ লাখ থেকে সর্বোচ্চ ১৫-২০ লাখ এবং মাঝারি ও বড় প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ রয়েছে ৪০-৫০ লাখ টাকা। প্রতিটি কারখানায় ৫ জন থেকে সর্বোচ্চ ৫০-৫৫ জন শ্রমিক নিয়োজিত রয়েছেন। বর্তমানে শীত মৌসুমে এসব শিল্প প্রতিষ্ঠানে জ্যাকেট, ট্রাউজার ও টুপি উৎপাদন করতে ব্যস্ত রয়েছেন শ্রমিক কারিগররা। পরবর্তীতে তৈরি হওয়া এসব পণ্য দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহের পাশাপাশি ভারতেও রফতানি করা হয়। শহরের মুন্সিপাড়া জোড়াপুকুর এলাকায় অবস্থিত আর এ গার্মেন্টসের উদ্যোক্তা মোছা. আঞ্জুয়ারা বেগম এবং পরিচালক গোলাম রব্বানী বলেন, তাদের এ শিল্পে ৩০টি মেশিনের মাধ্যমে বর্তমানে শীতের পোশাক জ্যাকেট তৈরি করা হচ্ছে। এসব তৈরিতে সার্বক্ষণিক কাজ করছেন ৪০-৪৫ জন শ্রমিক-কর্মচারী। উৎপাদন হওয়া এসব পোশাক দেশের বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ীরা নিয়ে যান। আবার রফতানিকারকরাও তার প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন শিল্পের মালিকের কাছে জ্যাকেট খরিদ করে ভারতে রফতানি করছেন।





দেশের পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর মানুষের আস্থা কমেছে। আপনিও কি তাই মনে করেন?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
32692 জন