ট্রাম্পের ঘোষণায় বিশ্বব্যাপী ক্ষোভ
Published : Friday, 8 December, 2017 at 12:00 AM, Update: 07.12.2017 10:30:15 PM
ট্রাম্পের ঘোষণায় বিশ্বব্যাপী ক্ষোভদিনকাল ডেস্ক : গত বুধবার জেরুজালেম খ্যাত ফিলিস্তিনের বাইতুল মোকাদ্দাস শহরকে ইহুদিবাদী ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি মার্কিন দূতাবাস তেল আবিব থেকে জেরুজালেমে সরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু করারও নির্দেশ দিয়েছেন। ট্রাম্পের এই ঘোষণার পর তার বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী সমালোচনার ঝড় উঠেছে। তার এই ঘোষণায় ফুঁসে উঠেছে গোটা আরব বিশ্ব। : ট্রাম্পের ব্যাপক বিতর্কিত ঘোষণার পর গাজা স্ট্রিপজুড়ে তীব্র বিােভ ছড়িয়ে পড়েছে। ট্রাম্পের এই ঘোষণা কয়েক দশকের মার্কিন পররাষ্ট্র নীতিকে চূর্ণবিচূর্ণ করে দিয়েছে এবং একই সঙ্গে ফিলিস্তিনীদের বিুব্ধ করে তুলেছে। তারা শহরের রাস্তা অবরোধ করে মার্কিন পতাকা ও টায়ার জ্বালিয়ে বিােভ করে এবং গগণবিধারী চিৎকার করে আমেরিকা বিরোধী সেøাগান দেন। বিােভ জর্ডানের রাজধানী আম্মানেও প্যালেস্টাইনি উদ্বাস্তুরা রাস্তায় জড়ো হয়ে বিােভ করেন। আম্মানের সীমান্তবর্তী বাকারা শরণার্থী ক্যাম্পের শত শত লোক রাস্তায় অবস্থান নিয়ে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বিােভ করেন এবং ইসরাইলের সঙ্গে ১৯৯৪ সালের শান্তি চুক্তি বর্জনের জন্য জর্ডানের প্রতি আহ্বান জানান। ‘আমেরিকা নিপাত যাক’, ‘আমেরিকা সন্ত্রাসের জননী’ মুহুর্মুহু সেøাগানে রাজপথ কম্পিত করে তোলে ুব্ধ ফিলিস্তিনীরা। ট্রাম্পের এই ঘোষণার আগে সারা বিশ্ব থেকে সতর্ক করা হয় যে, এ ধরনের ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সহিংসতা ছড়িয়ে দেবে। কিন্তু ট্রাম্প এসব সতর্ক বার্তা মোটেই আমলে নেননি। গাজা উপত্যকা ও বেথলহাম শহরে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছবি এবং গাঁজা উপত্যকায় ট্রাম্পের কুশপুত্তলিকা পোড়ানো হয়েছে। এছাড়া, ট্রাম্পের ঘোষণার প্রতিবাদে বেথেলহাম শহরে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের লোকজন বড়দিন উপলে সাজানো ক্রিসমাস ট্রির আলোকসজ্জার সুইচ বন্ধ করে দেন। এদিকে ফিলিস্তিনীদের বিবদমান গ্রুপগুলো সাধারণ ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন এবং গতকাল বৃহস্পতিবার মধ্যরাত পর্যন্ত রাস্তায় অবস্থান নিয়ে প্রতিবাদ জানান। গাজা উপত্যকার উত্তরের জাবালিয়া শরণার্থী শিবিরের শত শত ফিলিস্তিনী রাস্তায় নেমে এসে ট্রাম্পের ঘোষণার বিরুদ্ধে বিােভ করেন। গাজা সিটির কেন্দ্রস্থলেও অনুরূপ দৃশ্য দেখা গেছে। সেখানে বিােভকারীরা জাতীয় পতাকা এবং প্যালেস্টাইনের প্রয়াত প্রেসিডেন্ট ইয়াসির আরাফাতের ছবি বহন করে বিােভে অংশ নেয়। এ ছাড়া সৌদি আরব, তুরস্কের আঙ্কারা ও ইস্তাম্ব^ুলে বিােভ হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। সেই সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে তোলপাড়। এই ইস্যুতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য জরুরি বৈঠকের ডাক দিয়েছে নিরাপত্তা পরিষদসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠন। এই ইস্যুতে বৈঠকের ডাক দিয়েছে ওআইসি। সংস্থাটির সভাপতি দেশের প্রধান হিসেবে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান এই বৈঠক আয়োজনের ঘোষণা করেছেন। ট্রাম্পের এই ঘোষণাকে ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবিলা করার জন্য মুসলিম দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট রেসেপ তায়েপ এরদোয়ান। অন্যদিকে, তুর্কি প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র ইব্রাহিম কালিন বুধবার বলেছেন, জেরুসালেম ইস্যুতে স্পর্শকাতর পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ায় আগামী ১৩ ডিসেম্ব^র ওআইসির সদস্য দেশগুলোর নেতারা ইস্তাম্ব^ুলে  বৈঠকে বসবেন। মুসলিম দেশগুলো জেরুজালেমের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের বিষয়ে ঐক্যবদ্ধ পদেেপর ঘোষণা দিতে পারেন বলে জানা গেছে। এনিয়ে আগামীকাল শনিবার বৈঠকে করবেন আরবলীগ। ট্রাম্পের ঘোষণার পরপরই জরুরি বৈঠকের ডাক দিয়েছে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ। আজ শুক্রবার বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে জেরুজালেমকে স্বীকৃতি দেয়ার ব্যাপারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হবে। বুধবার পরিষদের নেতা বৈঠকের এ ঘোষণা দেন। : জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ট্রাম্পের ঘোষণার সমালোচনা করেছেন। ট্রাম্পের ঘোষণার সময়টিকে ‘বিরাট দুশ্চিন্তা মুহূর্ত’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, এটি ওই অঞ্চলের শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগকে আরও কঠিন করে তুলবে। গুতেরেস বলেন, ইসরাইল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে সরাসরি আলোচনার মাধ্যমেই কেবলমাত্র  জেরুজালেমের বিষয়ে চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হতে পারে। এেেত্র তিনি একতরফা কোনো পদেেপর কঠোর সমালোচনা করেন। : তিনি বলেন, ফিলিস্তিন ও ইসরাইলের েেত্র ‘দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের কোনো বিকল্প নেই।’ ট্রাম্পের এই স্বীকৃতিকে ‘অন্যায্য ও দায়িত্বজ্ঞানহীন’  তৎপরতা হিসেবে উল্লেখ করেছে সৌদি আরব। সৌদি রয়েল কোর্ট এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘যুক্তরাষ্ট্রের এই ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্য শান্তি প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করবে। এর মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্য ইস্যুতে নিরপে অবস্থান হারালো আমেরিকা। ট্রাম্পের এই ঘোষণাকে প্রত্যাখ্যান করে ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস বলেছেন, ভবিষ্যতে অবিভক্ত জেরুজালেম হবে স্বাধীন ফিলিস্তিনের রাজধানী। যুক্তরাষ্ট্রের এই একপেশে ঘোষণার সমালোচনা করে তিনি আরো বলেন, ‘বিশ্বনেতৃত্ব এবং জাতিসংঘসহ বিভিন্ন সংস্থার আহ্বান অগ্রাহ্য করে জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী ঘোষণায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার অবস্থান হারিয়েছে। ট্রাম্পের এই ঘোষণার প্রতিবাদে তিন দিনের বিােভ কর্মসূচি পালনসহ প্রতিবাদ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি নেতারা। : ফিলিস্তিনের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস ও ফিলিস্তিন মুক্তি সংস্থা পিএলও আলাদা বিবৃতিতে  মার্কিন প্রেসিডেন্টের এ পদেেপর ঘোর বিরোধিতা করেছে। হামাস বলেছে, ট্রাম্প বাইতুল মোকাদ্দাসকে দখলদার ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে ফিলিস্তিনি জাতির প্রতি প্রকাশ্য শত্রুতা শুরু করেছেন। ট্রাম্পের এই ঘোষণার বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানানোর জন্য ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে হামাস। হামাসের পলিটিক্যাল ব্যুরোর প্রধান ইসমাইল হানিয়া, ট্রাম্পের ঘোষণা ফিলিস্তিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার শামিল বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি ট্রাম্পের এই পদেেপ আরেকটি গণ-অভ্যুত্থানের ডাক দিয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার গাজায় দেয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেন, এই ঘোষণার মাধ্যমে ট্রাম্প ইসরাইল-ফিলিস্তিন শান্তি প্রক্রিয়াকে নস্যাৎ করে দিয়েছে। : তিনি বলেন, শুক্রবার দিনব্যাপী বিােভ আন্দোলনে যোগ দিয়ে একটি নতুন গণ-অভ্যুত্থান শুরু করার জন্য আমরা ফিলিস্তিনের জনগণের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। : হানিয়া আরো বলেন, আগামীকাল (আজ) আমাদের লোকেরা দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে ইন্তিফাদা (গণ-অভ্যুত্থান) শুরু করবে। বিজয়ী হওয়ার ব্যাপারে আমরা আত্মবিশ্বাসী। তিনি বলেন, হামাসের সকল ইউনিটকে যে কোনো ধরনের হুমকি মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তিনি মধ্যপ্রাচ্য শান্তি প্রক্রিয়া ভেঙ্গে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। ফিলিস্তিনের আরেকটি প্রতিরোধ আন্দোলন ইসলামি জিহাদ বলেছে, এই ঘোষণার মধ্যদিয়ে মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ইসলামি জিহাদ আন্দোলনের উপ-মহাসচিব জিহাদ নাখালা ট্রাম্পের এই পদেেপর বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ আন্দোলন গড়ে তোলার জন্য ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান ট্রাম্পের ঘোষণার কঠোর নিন্দা জানিয়েছে। :  ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বুধবার রাতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ট্রাম্পের এ ঘোষণাকে আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছে। নিন্দা জানিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র বলে পরিচিত জর্দান, কাতার, পাকিস্তান ও তুরস্ক। : মার্কিন প্রেসিডেন্টের ঘোষণার নিন্দা জানিয়ে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে বলেছেন, ট্রাম্পের এ ঘোষণা ‘অগঠনমূলক’। বিরোধী দল লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিন একে ‘শান্তির জন্য একটি বেপরোয়া হুমকি’ বলে উল্লেখ করেছেন। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাকরন ট্রাম্পের একতরফা ঘোষণাকে ‘দুঃখজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন। জার্মানির চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল তার মুখপাত্রের মাধ্যমে জানিয়েছেন, দশকের পর দশক ধরে ফিলিস্তিন-ইসরাইল বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নীতি ভঙ্গ করে ট্রাম্প যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তা তিনি সমর্থন করেন না। ‘পৃথক দুই রাষ্ট্র’-নীতির মাধ্যমেই এ সমস্যার সমাধান বলে তিনি মনে করেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কর্মকর্তা ফেডেরিকা মোগেরিনি এবং সুইডেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ম্যারগট ওয়ালস্ট্রোম মার্কিন প্রেসিডেন্টের ঘোষণাকে ‘বিপর্যয়কর’ বলে মন্তব্য করেছেন। : মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই ঘোষণাকে মেনে নেবে না বলে জানিয়েছেন জার্মান চ্যান্সেলর এঙ্গেলা মেরকেল। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কর্মকর্তা ফেডেরিকা মোগেরিনি এবং সুইডেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ম্যারগট ওয়ালস্ট্রোম মার্কিন প্রেসিডেন্টের ঘোষণাকে ‘বিপর্যয়কর’ বলে মন্তব্য করেছেন। : বলিভিয়ার রাষ্ট্রদূত সাচে সার্জিও লরেন্টি সোলিজ ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্তকে অপরিণামদর্শী ও অনেক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে অভিহিত করেন। বলেছেন, এ সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক আইন ও নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব বিরোধী। : এ দূত আরো বলেন, ট্রাম্পের এ স্বীকৃতি ‘কেবলমাত্র শান্তি প্রক্রিয়ার জন্যই হুমকি নয়, এটি আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার েেত্রও চরম হুমকি।’ সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের কার্যালয় থেকে ট্রাম্পের জেরুজালেম সিদ্ধান্তের নিন্দা জানানো হয়েছে। এক বিবৃতিতে তার কার্যালয় থেকে বলা হয়, ‘জেরুজালেমের ভবিষ্যৎ কোনো রাষ্ট্র বা প্রেসিডেন্টের দ্বারা নির্ধারিত হতে পারে না।’ লেবাননের প্রধানমন্ত্রী সাদ হারিরি স্বাধীন ফিলিস্তিন প্রতিষ্ঠার েেত্র ফিলিস্তিনিদের চাওয়া ও অধিকারের ব্যাপারে সর্বোচ্চ একাত্মতা প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, আরব বিশ্ব কখনোই ট্রাম্পের এমন সিদ্ধান্ত মেনে নেবে না। জর্ডান সরকারের মুখপাত্র মোহামেদ মোমানি এ ব্যাপারে রাষ্ট্রের অবস্থানের কথা জানিয়ে বলেন, ট্রাম্প জেরুজালেম ঘোষণার মাধ্যমে জাতিসংঘ সনদ ও আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছেন। : মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মিছিলের ডাক দিয়েছেন। জেরুজালেমের অবস্থা সংরতি রাখতে এবং অপ্রয়োজনীয় সংঘাত এড়ানোর জন্য সকলের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন ক্যাথলিক খ্রিষ্টানদের ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস। গতকাল বৃহস্পতিবার ভ্যাটিকান সিটিতে সাপ্তাহিক সাধারণ প্রার্থনা সভায় অংশ নিয়ে তিনি বলেন, ‘সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ঘটে যাওয়া পরিস্থিতে আমার উদ্বেগ বৃদ্ধি নিয়ে আমি চুপ থাকতে পারি না।’ : তিনি বলেন, ‘এবং একই সময়ে জেরুজালেমের স্থিতাবস্থা বহাল রাখার জন্য আমি সকলের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি।’ পোপ বলেন, ‘জেরুজালেম একটি অনন্য শহর। এটি মুসলিম, খ্রিষ্টান ও ইহুদিদের জন্য অত্যন্ত পবিত্র একটি শহর। শহরটি শান্তির বিশেষ বার্তা বহন করে।’ : পোপ তার দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, ‘আমি ইশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি যেন এই পবিত্রস্থান, মধ্যপ্রাচ্যসহ সারাবিশ্বে তার অনুগ্রহ বর্ষিত হয়। স্রষ্টা তাদের সবাইকে জ্ঞান দিক যেন যে কোনও সহিংসতা এড়াতে পারে তারা।’ বুশ ও কিনটন প্রশাসনের সাবেক উপদেষ্টা এবং উড্রো উইলসন সেন্টারের ভাইস প্রেসিডেন্ট অ্যারন ডেবিড মিলার বলেন, ‘জেরুজালেমের স্থিতাবস্থায় কোনো আঘাত করলে এটির জ্বলে ওঠার প্রবণতা রয়েছে।’ : প্রসঙ্গত, ১৯৪৮ সালে আরব-ইসরাইল যুদ্ধের পর জেরুজালেমের পশ্চিমাংশ দখল করে নেয়া হয়। পরে ১৯৬৭ সালে সিরিয়া, মিশর ও জর্ডানের সঙ্গে যুদ্ধের পর পূর্বাংশ দখল করে নেয় ইসরাইল। দখলের পর থেকেই ঐতিহাসিকভাবে পবিত্র এ শহরটিতে নিজেদের পুরো কর্তৃত্ব খাটানোর চেষ্টা করছিল ইসরাইল। এই ইস্যুতে অসংখ্যবার ইসরাইলি ও ফিলিস্তিনি, ইহুদি, খ্রিষ্টান ও মুসলিমদের পবিত্র ভূমিতে আগুন জ্বলতে দেখে গেছে। ধর্মীয়ভাবে জেরুজালেম মুসলিম, খ্রিষ্টান, ইহুদি এই ধর্মাবলম্বীদের কাছেই সমান গুরুত্বপূর্ণ। : : সূত্র: বিবিসি, আল জাজিরা, ইন্ডপেন্ডেন্টসহ বিভিন্ন গণমাধ্যম : : : : : : : : : : : : : : : : : : :





প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর মানুষের আস্থা কমেছে। আপনিও কি তাই মনে করেন?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
32695 জন