রোহিঙ্গা ইস্যু দ্রুত সমাধানে আশাবাদী হওয়ার সুযোগ নেই : ড. আবরার
Published : Friday, 29 December, 2017 at 12:00 AM, Update: 28.12.2017 10:22:36 PM
রোহিঙ্গা ইস্যু দ্রুত সমাধানে আশাবাদী হওয়ার সুযোগ নেই : ড. আবরারদিনকাল রিপোর্ট : রোহিঙ্গাদের ফেরত নেয়ার বিষয়ে মিয়ানমার আরও কালপেণ করবে বলে মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিটের (রামরু) সমন্বয়ক অধ্যাপক সি আর আবরার। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের পরিচয় যাচাইসহ বেশির ভাগ বিষয়ই মিয়ানমারের করার কথা। তাছাড়া ওই সমস্যা সমাধানের ব্যাপারে মিয়ানমারের রাজনৈতিক সদিচ্ছার কোনো প্রকাশ নেই। রাখাইনে যে এত বড় মানবিক সমস্যা হলো, সেটা কিন্তু সে দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্ব এখনো স্বীকৃতি দেয়নি। তাই এই ব্যবস্থাপত্রটি সফল করার ব্যাপারে মিয়ানমারের দিক থেকে আন্তরিকতার যথেষ্ট অভাব আছে। এ নিয়ে দেশটি সময়পেণ করবে। এই পরিস্থিতিতে সমস্যা সমাধানে আশাবাদী হওয়ার সুযোগ নেই। গতকাল বৃহস্পতিবার দেশের একটি জাতীয় দৈনিককে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি কথা বলেন। তিনি বলেন, মিয়ানমার যে পুরো রাখাইন অঞ্চলকে রোহিঙ্গাশূন্য করার পরিকল্পনা নিয়ে আসছে, তার প্রায় চূড়ান্ত রূপ দেখছি এবারের রোহিঙ্গা ঢলে। ১৯৬২ সালে নে উইন মতা দখলের পর মিয়ানমারকে শুধু বৌদ্ধদের রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত করানোর রাজনৈতিক প্রক্রিয়া শুরু করেন। এই ল্য অর্জনের ল্যবস্তুতে পরিণত করা হয় রোহিঙ্গাদের। তাই ’৭৮ সালে, ১৯৯১-৯২ সালের পর গত বছরের অক্টোবরে আর এবার রোহিঙ্গাদের রাখাইন ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে। এ দফায় এসেছে সাড়ে ছয় লাখের বেশি। নিরাপত্তার জন্য রাখাইনে অভিযানের যে ভাষ্য মিয়ানমার দেয়, সেটা মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়। সন্ত্রাসী ধরার নামে মাত্রাতিরিক্ত বলপ্রয়োগ, নৃশংসতা আর ঘরবাড়ি পোড়ানো রাখাইনকে রোহিঙ্গাশূন্য করার প্রায় চূড়ান্ত রূপ বলা যায়। : সি আর আবরার বলেন, যে সময় সারা বিশ্বে অভিবাসী আর শরণার্থীদের প্রতি অন্যায় আচরণ করা হচ্ছে, সে সময় বাংলাদেশ মানবিকতার উৎকৃষ্ট উদাহরণ দেখিয়েছে। তবে যেকোনো শরণার্থী সমস্যাই দ্বিপীয় নয়, আন্তর্জাতিক বিষয়। উৎস রাষ্ট্র মর্যাদা ও নিরাপত্তার সঙ্গে তার নাগরিকদের ফিরিয়ে নেবে এটাই সবচেয়ে ভালো সমাধান। অর্থাৎ সমস্যা সমাধানে দ্বিপীয় উদ্যোগ প্রয়োজন। তবে এটি না হলে তৃতীয় দেশে শরণার্থীদের নিতে হবে। অথচ এটি ইদানীং শোনা যায় না। তাই বাংলাদেশের বলতে হবে, এই সমস্যার সমাধান করতে হলে আন্তর্জাতিক গোষ্ঠীকেও দায়িত্ব নিতে হবে। তাদের নিজেদের বাসস্থানে ফেরানো সম্ভব না হলে তৃতীয় গন্তব্যে নিতে হবে। কারণ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কেও এ েেত্র দায়িত্ব পালন করতে হবে। : এদিকে রোহিঙ্গা সমস্যার দ্বিপীয় সমাধানের জন্য মিয়ানমার বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তি সই করেছে। এরপরও রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে আসছে। এই পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, প্রত্যাবাসনের জন্য বাংলাদেশ এমন একটা সময়ে ব্যবস্থাপত্র সই করেছে, তাতে কিছুটা হতাশ ও অবাক হয়েছি। রোহিঙ্গাদের ওপর নৃশংসতার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপ ক্রমশ বাড়ছিল। কেউ কেউ ওই নৃশংসতাকে ‘জাতিহত্যা’ আর ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’ হিসেবে অভিহিত করেছে। বৃহৎ পরিসরে যখন মিয়ানমার কোণঠাসা হচ্ছিল, এমন একটা সময়ে এত তাড়াহুড়া করে কেন এটা সই করতে হলো, সেটা স্পষ্ট নয়। তা ছাড়া এমন সব শর্ত বাংলাদেশ মেনে নিল, যা আগে যেভাবে বলা হচ্ছিল, তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। সবচেয়ে বড় বিষয়টি হলো, ব্যবস্থাপত্র সই করায় মিয়ানমারের ওপর চাপ বহুলাংশে লাঘব হলো। এটি না হলে দেশটির ওপর চাপ থাকত। কাজেই এই ব্যবস্থাপত্র দিয়ে টেকসইভাবে রোহিঙ্গাদের ফেরানো যাবে কি না সেটা পরিষ্কার নয়। : সি আর আবরার মনে করেন, এ বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অনেক কিছু করার আছে। যে নৈতিক চাপ জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় দিয়েছে, তা অব্যাহত রাখতে হবে। দ্বিপীয়ভাবে কোনো কোনো দেশ ব্যবস্থা নিচ্ছে। বিচারের কথাও বলছে, যা অত্যন্ত ইতিবাচক। এ ধরনের সমস্যা যেহেতু রাতারাতি শেষ হয় না, এসব কিছুই জারি রাখতে হবে। : :





প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

স্থানীয় নির্বাচনে কেন্দ্র দখল করে জালভোটের মহোৎসব চলেছে। এই ইসির অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে বলে মনে করেন?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
13553 জন