খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জাল নথি তৈরি করে মামলা হয়েছে : আইনজীবীবৃন্দ
Published : Friday, 29 December, 2017 at 12:00 AM, Update: 28.12.2017 10:21:45 PM
খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জাল নথি তৈরি করে মামলা হয়েছে : আইনজীবীবৃন্দরফিক মৃধা, দিনকাল : জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার পে পঞ্চম দিনের মতো যুক্তি উপস্থাপন করেন আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন। রাজধানীর বকশীবাজারে স্থাপিত বিশেষ জজ আদালত ৫-এর বিচারক ড. আখতারুজ্জামানের আদালতে যুক্তি উপস্থাপনে খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মামলাটি রাজনৈতিক গন্ধ ও কালিমাযুক্ত। এ ধরনের মামলা রাজনৈতিক অশুভ ইঙ্গিত ছাড়া হতে পারে না। যারা মতায় থাকে, তারা আদালতের কাঁধে বন্দুক রেখে বিরোধীদের সাজা দিতে চায়। কিন্তু কিছু সৎ বিচারপতি রয়েছেন, যারা রক্তচুকে উপো করে ন্যায়বিচার করেন। এদিকে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার পে পরবর্তী যুক্তিতর্ক ২০১৮ সালের জানুয়ারির ৩ ও ৪ তারিখে উপস্থানের দিন ধার্য করেন আদালত। গতকাল বৃহস্পতিবার পুরান ঢাকার বকশীবাজারে স্থাপিত বিশেষ জজ আদালতে পঞ্চম দিনের মতো যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত এই তারিখ নির্ধারণ করেন। : এর আগে বেগম খালেদা জিয়া বেলা ১১টা ৩২ মিনিটে বকশীবাজারের আলিয়া মাদরাসা মাঠে স্থাপিত ঢাকার ৫ নং বিশেষ জজ ড. আখতারুজ্জামানের আদালতে উপস্থিত হন। বেগম খালেদা জিয়ার হাজিরার পর বেলা ১১টা ৩৭ মিনিটে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় পঞ্চম দিনের মতো তার পে যুক্তি উপস্থাপন শুরু করেন আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন। যুক্তি উপস্থাপনে তিনি এসব কথা বলেন। : যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময় খন্দকার মাহবুব বিচারকদের উদ্দেশে বলেন, এ মামলা ইতিহাসের পাতায় লিপিবদ্ধ হবে। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হলে যুগে যুগে মানুষ বিচারককে মনে রাখবে। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা না হলে ইতিহাসের পাতায় মানুষ ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করবে। জনগণই এর বিচার করবে। আইনজীবী আরো বলেন, সরাসরি কোনো নথিপত্র ছাড়াই বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়া হয়েছে। স্বারবিহীন ঘষামাজা ছায়ানথি দিয়ে কাউকে সাজা দেয়া যায় না। যদি বিন্দুমাত্র সন্দেহ থাকে, তাহলে আসামিপ এর সুবিধা পেয়ে থাকে। যদি ছায়ানথি দিয়ে সাজা দেয়া হয়, তাহলে সমস্ত দন্ডবিধি, আইন পরিবর্তন হয়ে যাবে। : যুক্তিতর্কে খন্দকার মাহবুব হোসেন আরো বলেন, বেগম খালেদা জিয়া তিনবারের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী এবং শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্ত্রী। সুনির্দিষ্ট কোনো নথিপত্র ছাড়া হালকাভাবে মামলা দায়ের করে তার সুনাম ুণœ করা হয়েছে। এই মামলা রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব ও কালিমাযুক্ত বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বিচারকের উদ্দেশে খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, আল্লাহতায়ালা বিচারকদের মতা দিয়েছেন আল্লাহকে হাজির রেখে বিচার করবেন, এটাই প্রত্যাশা করি। : তিনি জানান, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান, তার স্ত্রী ও ছেলের নামে এই ট্রাস্ট হয়েছিল। সেই ট্রাস্টেই টাকা জমা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বেগম খালেদা জিয়া সেই টাকা উত্তোলন এবং ব্যয় করেননি; বরং ট্রাস্টের চার কোটি টাকা এখন লাভে পরিণত হয়েছে। : তিনি বলেন, অ্যাকাউন্ট ফরম থেকে শুরু করে কোথাও বেগম খালেদা জিয়ার কোনো স্বার নেই। আছে শুধু ঘষা মাজা। আর ঘষা মাজার ওপর নির্ভর করে কোনো ক্রিমিনাল মামলায় সাজা দেয়া যায় না। তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান আরাফাতের ময়দানে নিম গাছ লাগিয়েছেন। তার আত্মার মাগফিরাতের জন্য বিদেশ থেকে এ টাকা পাঠানো হয়েছে। আর এ টাকায় কোনো শর্ত ছিল না। : এর আগে ১৯ ডিসেম্বর এ মামলার যুক্তি উপস্থাপন শুরু হয়। রাষ্ট্রপ ১৯ ডিসেম্বর তাদের যুক্তি উপস্থাপন শেষ করে খালেদা জিয়ার সর্বোচ্চ শাস্তির আবেদন করেন। ২০ ডিসেম্বর বেগম খালেদা জিয়ার পে যুক্তি উপস্থাপন শুরু করেন তার আইনজীবী আব্দুর রেজাক খান। এ দিন শেষ না হওয়ায় ২১ ডিসেম্বর পরবর্তী যুক্তি উপস্থাপনের দিন ধার্য করেন আদালত। ২১ ডিসেম্বর বেগম খালেদা জিয়ার পে যুক্তি উপস্থান শেষ না হওয়ায় ২৬, ২৭ ও ২৮ ডিসেম্বর পরবর্তী যুক্তি উপস্থাপনের জন্য দিন ধার্য করেন আদালত। পরে ২৬ ডিসেম্বর জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বেগম খালেদা জিয়ার পে যুক্তি উপস্থাপন করেন তার আইনজীবী আব্দুর রেজাক খান। এ দিন তার যুক্তি উপস্থাপন শেষ না হওয়ায় পরবর্তী যুক্তি উপস্থাপনের জন্য বুধবার দিন ধার্য করেন। এরপর ২৭ ডিসেম্বর জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট  মামলায় বেগম খালেদা জিয়ার পে যুক্তি উপস্থাপন করেন আইনজীবী আব্দুর রেজাক খান। তার যুক্তি উপস্থাপন শেষে খন্দকার মাহবুব হোসেন বেগম খালেদা জিয়ার পে যুক্তি উপস্থাপন শুরু করেন। এ দিন তার যুক্তি উপস্থাপন শেষ না হওয়ায় পরবর্তী যুক্তি উপস্থাপনের জন্য আজ দিন ধার্য করেন। : বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জবানবন্দির সময়ে আদালতে উপস্থিত ছিলেন ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, অ্যাডভোকেট আবদুর রাজ্জাক খান, অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, ব্যারিস্টার আমিনুল হক, অ্যাডভোকেট এজে মোহাম্মাদ আলী, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দীন খোকন, অ্যাডভোকেট সানাউলাহ মিয়া, অ্যাডভোকেট  মাসুদ আহমেদ তালুকদার, অ্যাডভোকেট বোরহান উদ্দিন, অ্যাডভোকেট  ওমর ফারুক ফারুকী, ব্যারিস্টার রাগীব রউফ চৌধুরী, অ্যাডভোকেট  আমিনুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট জাকির হোসেন ভূঁইয়া, অ্যাডভোকেট হেলাল উদ্দিন, অ্যাডভোকেট নুরুজ্জামান তপন  প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। : অপরদিকে আদালতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন, নিতাই রায় চৌধুরী, আব্দুল আউয়াল মিন্টু, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, আব্দুস সালাম, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, বিএনপি চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী শামছুুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, সমাজ কল্যাণ সম্পাদক কামরুজ্জামান রতন, মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস, সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, নির্বাহী কমিটির সদস্য নাজিম উদ্দিন আলম, সাঈদ সোহরাব, জামাল শরীফ হিরু, রফিক সিকদার, ঢাকা মহানগর যুবদল উত্তরের সভাপতি এসএম জাহাঙ্গীর হোসেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইং সদস্য শামসুদ্দিন দিদার উপস্থিত ছিলেন। : পুলিশি বাধা উপেক্ষা করে আদালতের আশে পাশে নেতাকর্মীদের ঢল : জিয়া অরফানেজ ট্রাষ্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাষ্ট মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার হাজিরা উপলক্ষে আদালতে যাওয়া ও আসার পথে মৎস্য ভবন, হাইকোর্ট, দোয়েল চত্বর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা, চানখাঁরপুল ও আদালত প্রাঙ্গণের আশেপাশের সড়কে বেগম খালেদা জিয়াকে বহনকারী গাড়িকে ঘিরে ব্যাপক শোডাউন তৈরি করে ঢাকা মহানগর বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠন। বুধবার সকাল ১০টা থেকেই এ সব অবস্থান নেতাকর্মীরা অবস্থান নেন। বুধবার বেলা আড়াইটার দিকে পুরান ঢাকার বকশীবাজার আলীয়া মাদরাসার মাঠে স্থাপিত বিশেষ আদালত থেকে বের হন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। আদালত থেকে বের হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মোড়ে আসলে অপেমাণ দলটির নেতাকর্মীরা তার গাড়িবহরে যুক্ত হন। গাড়িবহর হাইকোর্ট মাজারের সামনে এলে ভেতরে অপেমাণ বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী গাড়িবহরে যোগ দেন। এ সময় বিভিন্ন শ্লোগানে শ্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। “খালেদা জিয়া ভয় নাই, রাজপথ ছাড়ি নাই”, “খালেদা জিয়া এগিয়ে চল, আমরা আছি তোমার সাথে”, “জেল জুলুম হুলিয়া, নিতে হবে তুলিয়া” এ ধরনের অসংখ্য শ্লোগান নেতাকর্মীদের কণ্ঠে শোনা যায়। গাড়ি বহরে বিএনপির সভাপতি হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, সাহিত্য বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুল ইসলাম হাবিব, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হারুন অর রশিদ, সহ- নার্সেস ও স্বাস্থ্য সহকারী বিষয়ক সম্পাদক মিসেস জাহানারা সিদ্দিকী, নির্বাহী কমিটির সদস্য আ ক ম মোজ্জামেল হক, আমিনুল ইসলাম, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার, সহ-সভাপতি ইউনুছ মৃধা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ রবিউল আলম রবি, ঢাকা মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক আহসান উল্লাহ হাসান, সহ-সভাপতি রবিউল আউয়াল, দফতর সম্পাদক এবিএম রাজ্জাক, জাতীয়তাবাদী যুবদলের সভাপতি সাইফুল আলম নিরব, সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, সিনিয়র সহ-সভাপতি মোরতাজুল করিম বাদরু, সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন হাসান, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু, সাংগঠনিক সম্পাদক ইয়াছিন আলী, যুবদল ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি এসএম জাহাঙ্গীর হোসেন, সাধারণ সম্পাদক সফিকুল ইসলাম মিল্টন, সিনিয়র সহ-সভাপতি মোস্তফা কামাল রিয়াদ, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শরিফ উদ্দিন জুয়েল, যুবদল দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা শাহীন, ছাত্রদলের সভাপতি রাজিব আহসান, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ, সহ-সভাপতি আলমগীর হাসান সোহান, নাজমুল হাসান, আবু আতিক আল হাসান মিন্টু, ইকতিয়ার কবির, যুগ্ম সম্পাদক মিজানুর রহমান সোহাগ, ওমর ফারুক মুন্না, মেহবুব মাছুম শান্ত, মহসিন বিশ্বাস, কাজী মোখতার হোসেন, সেলিনা সুলতানা নিশিতা, দফতর সম্পাদক আব্দুস সাত্তার পাটোয়ারী, সহ-সাধারণ সম্পাদিকা আরিফা সুলতানা রুমা, স্বেচ্ছাসেবক দল ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি ফখরুল ইসলাম রবিন, সাধারণ সম্পাদক গাজী রেজওয়ানুল হোসেন রিয়াজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যাল ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক বাশার সিদ্দিকী, ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের দফতর সম্পাদক তানভীর আহমেদ খান ইকরাম প্রমুখ নেতৃবৃন্দও শোডাউনে অংশ নেন। : বিএনপির অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আটক : জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার হাজিরা দিতে আসা বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার গাড়ি বহর থেকে প্রায় অর্ধশতাধিক কর্মীকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত হাইকোর্ট, প্রেসকাব, মৎস্য ভবন এলাকা থেকে তাদের আটক করে রমনা ও শাহবাগ থানায় নেয়া হয়। : : :





প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

স্থানীয় নির্বাচনে কেন্দ্র দখল করে জালভোটের মহোৎসব চলেছে। এই ইসির অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে বলে মনে করেন?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
13550 জন