স্থানীয় নির্বাচনও রকিব মার্কা
Published : Friday, 29 December, 2017 at 12:00 AM, Update: 28.12.2017 10:21:34 PM
স্থানীয় নির্বাচনও রকিব মার্কাদিনকাল রিপোর্ট : পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ ও জেলা পরিষদের ১২৭টি এলাকায় বিভিন্ন পদে সাধারণ, স্থগিত নির্বাচন ও উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণে রকিব উদ্দিন মার্কা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী সশস্ত্র ক্যাডারদের সে পুরানো তান্ডব আবারও ফুটে উঠেছে। সাংবাদিকরা তান্ডবের ছবি তুলতে গেলে ক্যামেরা ভাঙচুরসহ সাংবাদিকদের বেধড়ক মারধর করে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা। প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া দিয়ে ভোট কেন্দ্র দখল করে আগের রাতেই বাক্স ভরে রাখা, ব্যালট পেপার ছিনতাই, বিএনপি প্রার্থীর এজেন্ট ও ভোটারদের মারধর করে কেন্দ্র থেকে বের করে জাল ভোটের মহোৎসব, প্রকাশ্যে সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারসহ নির্বাচনি কর্মকর্তাদের জাল ভোট প্রদান, হামলা, ভাঙচুরসহ নানা তান্ডব চলে নির্বাচনি এলাকাগুলোতে। ভোট কেন্দ্রে লাইন ধরে ভোট দিয়েছে স্কুলের শিক্ষার্থীরাও। গতকাল রাতে কুমিল্লার বিভিন্ন এলাকার ২০টি কেন্দ্র দখল করে ব্যালট বাক্স ভরে রাখে। সকালে ভোটাররা সেসব কেন্দ্রে ভোট দিতে গেলে বলা হয়, ব্যালট পেপার নেই। তাই ভোট নেয়া যাবে না। ভোলায় তিনটি ইউনিয়নে আগের রাত থেকেই ভোট দেয়া শুরু করে আওয়ামী লীগ। সকালে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা ভোট কেন্দ্র দখল করে বাকি নির্বাচনি কাজ সম্পন্ন করে। বিএনপি নেতা-কর্মী, সমর্থক ও সাধারণ ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে ঢুকতে দেয়া হয়নি। : এদিকে ভোটগ্রহণ চলাকালে গতকাল কুমিল্লায় ইউপি নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীর এজেন্ট ও ভোটারদের বের করে দিয়ে কেন্দ্র দখল করে নেয় আ.লীগ। ভোট গ্রহণ শুরুর পরই আ.লীগের নেতা-কর্মীরা কেন্দ্র দখল ও ভোটারদের বের করে দেয়। এ সময় যুবলীগ-ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন কেন্দ্রে অস্ত্র নিয়ে অবস্থান করে। আ.লীগ কেন্দ্রে কেন্দ্রে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীর এজেন্ট ও ভোটারদের মারধর, হামলা ও ভাঙচুর করেছে। : কুমিল্লার চার উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নে গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও অধিকাংশ কেন্দ্রে রাতেই ব্যালটে সিল মেরে রাখে ক্ষমতাসীন দলে লোকেরা। এছাড়া বিভিন্ন কেন্দ্রে সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তারা প্রকাশ্যে ভোট দিয়েছেন। : কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার আদ্রা দণি ইউনিয়নের চাটিতলা, আটিয়াবাড়ি, ভোলাইন, তুগুরিয়া কেন্দ্রে প্রকাশ্যে নৌকা প্রতীকে ভোট দেয়া হয়। বিএনপির এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দিয়ে আওয়ামী লীগের লোকজনকে বিএনপির এজেন্ট সাজিয়ে বসিয়ে রাখা হয়। গণমাধ্যমের গাড়ি দেখে নিজেদের লোকজনকে লাইনে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। চাটিতলা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের ৬ নং বুথে সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারকে ভোট দিতে দেখা যায়। এখানে চেয়ারম্যান প্রার্থীর ব্যালট ভোটারদের দেয়া হচ্ছে না। : কুমিল্লার নাঙ্গলকোট ও লাকসাম উপজেলায় ইউপি নির্বাচনে ২০টি কেন্দ্রে ভোট দেয়ার জন্য চেয়ারম্যান পদের কোনো ব্যালট পায়নি ভোটাররা। কেন্দ্রগুলো হচ্ছে, লক্ষ্মীপদোয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রায়কোট উত্তর ইউনিয়নের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র  ও মাহিনি কেন্দ্র, রায়কোট দণি ইউনিয়নের মনতলি কেন্দ্র ও বেতাগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র, ভেল্টা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র ও আদ্রা উত্তর ইউনিয়নের উষা কেন্দ্র ইত্যাদি। আওয়ামী লীগের ক্যাডাররা রাতেই ব্যালটে সিল মেরেছে। এজন্য ভোটাররা ভোট দেয়ার জন্য ব্যালট পায়নি। নাঙ্গলকোটে কেন্দ্র দখল করে সিল মারার সময় ছবি তুলতে গেলে কুমিল্লা ডট টিভি নামে একটি অনলাইন টিভির সাংবাদিক শরীফ আহমেদ মজুমদারের ক্যামেরা ছিনিয়ে নিয়ে গেছে ছাত্রলীগ-যুবলীগ নেতাকর্মীরা। বুধবার রাত ১১টার দিকে নাঙ্গলকোটের রায়কোট ইউনিয়নের লক্ষ্মীপদোয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। : লক্ষ্মীপুরের রামগতির আলেকজান্ডার ইউপি নির্বাচনে জাল ভোট দিতে গিয়ে আটক হয়েছেন দুই নারীসহ চার জন। ওই ইউনিয়নের বিভিন্ন কেন্দ্রে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা সশস্ত্র তান্ডব চালায়। : কুমিল্লা, লক্ষ্মীপুর, ভোলা, ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গাসহ ১২৭টি এলাকায় পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ ও জেলা পরিষদের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বেশ কয়েকদিন ধরেই নির্বাচনি এলাকাগুলোতে সশস্ত্র তান্ডব চালাচ্ছে ক্ষমতাসীন দলের সন্ত্রাসী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। তারা বিএনপির প্রার্থী ও সমর্থকদের প্রচারণা পর্যন্ত করতে দেয়নি। বিভিন্ন স্থানে বিএনপির প্রার্থী ও সমর্থকদের ওপর সশস্ত্র হামলা চালিয়েছে শাসকগোষ্ঠীর নেতা-কর্মীরা। বিএনপির পক্ষ থেকে বার বার প্রতিবাদ করলেও এমনকি আওয়ামী সন্ত্রাসীদের তান্ডব ফলাও করে মিডিয়ায় প্রচার হলেও বর্তমান সিইসিসহ নির্বাচনি কর্মকর্তরা কোনো কর্ণপাত করেননি। সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া দূরে থাক, নির্বাচনি পরিবেশ তৈরি দূরে থাক তারাও ক্ষমতাসীন দলকে বিজয়ী করতে প্রকাশ্যে অবস্থান নেয়। গতকাল আবারও সেই রক্তাক্ত জালভোটের মহোৎসব চলে। কেন্দ্র দখল করে আগের রাতে ব্যালট বাক্স ভরে রাখা, প্রার্থী, নির্বাচনি এজেন্ট, সমর্থক ও ভোটারদের মারধর করে, সশস্ত্র হামলা করে কেন্দ্র থেকে বের করে দিয়ে প্রকাশ্যে ভোট দেয়া, প্রিজাইডিং অফিসার ও নির্বাচনি কর্মকর্তারা প্রকাশ্যে সিল মারে। এ নির্বাচনের মাধ্যমে আবারও প্রমাণ হলো রকিব উদ্দিনের পথেই হাঁটছেন বর্তমান সিইসি নুরুল হুদা। : :





প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

স্থানীয় নির্বাচনে কেন্দ্র দখল করে জালভোটের মহোৎসব চলেছে। এই ইসির অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে বলে মনে করেন?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
13561 জন