স্থানীয় নির্বাচনে প্রমাণ হলো সিইসি হুদা-রকিবের প্রতিচ্ছবি : বিএনপি
Published : Saturday, 30 December, 2017 at 12:00 AM, Update: 29.12.2017 10:45:47 PM
স্থানীয় নির্বাচনে প্রমাণ হলো সিইসি হুদা-রকিবের প্রতিচ্ছবি : বিএনপিদিনকাল রিপোর্ট : বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেছেন, গতকাল পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ ও জেলা পরিষদের ১২৭টি এলাকায় বিভিন্ন পদে সাধারণ, স্থগিত নির্বাচন ও উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী সশস্ত্র ক্যাডারদের সে পুরনো তান্ডবের পুনরাবৃত্তি ঘটেছে।  গতকাল শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। রিজভী বলেন, বিভিন্ন এলাকার ভোট জালিয়াতির কিছুটা খন্ডচিত্র আজ আপনারা গণমাধ্যমে দেখেছেন। রকিব মার্কা নির্বাচনের পুনরাবৃত্তি হলো, সেই ভয়াবহ দৃশ্যই গতকালের নির্বাচনে দেখা গেল। সাংবাদিকরা তান্ডবের ছবি তুলতে গেলে ক্যামেরা ভাঙচুরসহ সাংবাদিকদের বেধড়ক মারধর করে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা। তিনি বলেন, প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া দিয়ে ভোটকেন্দ্র দখল করে আগের রাতেই বাক্স ভরে রাখা, সকাল ১০টার আগেই ভোট শেষ হয়ে যাওয়া, ব্যালট পেপার ছিনতাই, বিএনপি প্রার্থীর এজেন্ট ও ভোটারদের মারধর করে কেন্দ্র থেকে বের করে জালভোটের মহোৎসব, প্রকাশ্যে সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারসহ নির্বাচনি কর্মকর্তাদের জাল ভোট প্রদান, হামলা, ভাঙচুরসহ নানা তান্ডব চলে নির্বাচনি এলাকাগুলোতে। : বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব আরও বলেন, ভোটকেন্দ্র থেকে ভোটারদের মারধর করে বের করে দেয়া হয়েছে। এমনকি স্কুলছাত্রদেরও লাইন ধরে ভোট দিতে দেখা গেছে। কুমিল্লা, লক্ষ্মীপুর, ভোলা, ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গাসহ ১২৭টি এলাকায় পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ ও জেলা পরিষদের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বেশ কয়েকদিন ধরেই নির্বাচন এলাকাগুলোতে সশস্ত্র তান্ডব চালিয়েছে ক্ষমতাসীন দলের সন্ত্রাসী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। তারা বিএনপির প্রার্থী ও সমর্থকদের প্রচার-প্রচারণা পর্যন্ত করতে দেয়নি। : তিনি বলেন, বিভিন্ন স্থানে বিএনপির প্রার্থী ও সমর্থকদের ওপর সশস্ত্র হামলা চালিয়েছে শাসকগোষ্ঠীর নেতাকর্মীরা। বিএনপির পক্ষ থেকে বারবার প্রতিবাদ করলেও এমনকি আওয়ামী সন্ত্রাসীদের তান্ডব সুস্পষ্টভাবে মিডিয়ায় প্রচার হলেও বর্তমান সিইসিসহ নির্বাচনি কর্মকর্তারা কোনো কর্ণপাত করেননি। সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া দূরে থাক, নির্বাচনি পরিবেশ তৈরি দূরে থাক, তারাও ক্ষমতাসীন দলকে বিজয়ী করতে প্রকাশ্যে অবস্থান নেয়। : বিএনপির এই নেতা বলেন, গতকাল আমরা আবারও সেই রক্তাক্ত জালভোটের মহোৎসব দেখলাম। কেন্দ্র দখল করে আগের রাতে ব্যালট বাক্স ভরে রাখা, প্রার্থী, নির্বাচনি এজেন্ট, সমর্থক ও ভোটারদের মারধর করে, সশস্ত্র হামলা করে কেন্দ্র থেকে বের করে দিয়ে প্রকাশ্যে ভোট দেয়া, প্রিজাইডিং অফিসার ও নির্বাচনি কর্মকর্তরা প্রকাশ্যে সিল মারে। : তিনি বলেন, এ নির্বাচনের মাধ্যমে আবারও প্রমাণ হলো বর্তমান সিইসি নুরুল হুদার অধীনে কোনো নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না। তিনি যতই অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের কথা বলুন না কেন, সেটি জনগণের সঙ্গে ধাপ্পাবাজি ছাড়া কিছুই নয়। তিনি আওয়ামী সরকারের ছায়াঘেরা পথেই হেঁটে নির্বাচন পরিচালনায় নিজ প্রভুদের খুশি করবেন। এর বাইরে তিনি যেতে পারবেন না। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের অধীনে যেকোনো নির্বাচনই ইতিহাসে কলঙ্কমাখা নির্বাচনের স্মারক হয়ে থাকবে। কে এম নুরুল হুদা সাহেবকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার পদে বসানো হয়েছে জনগণকে কোণঠাসা করে ভোটকেন্দ্র সরকারি সন্ত্রাসীদের কাছে ইজারা দিতে। : রিজভী আরও বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় বকশীবাজারে অবস্থিত আদালতে হাজিরা দিতে গেলে গত তিন দিনে অপেক্ষমাণ বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর পুলিশ হামলা চালায় এবং বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করে। গত তিনদিনে যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে তারা হলেনÑ ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সহ-সভাপতি ইউনুস মৃধা, মো. মোহন, ঢাকা মহানগর কামরাঙ্গীরচর থানা বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন, ফারুক আহমেদ, শাহবাগ থানা ২০নং ওয়ার্ড বিএনপি নেতা গোলাম সারোয়ার অপু, রেজাউল, কলাবাগান থানা বিএনপি নেতা টিটু, সিদ্দিক, ইমরান, গেন্ডারিয়া থানা বিএনপি নেতা কাজী আশরাফুল ইসলাম মোড়ল, আশরাফ উদ্দিন পাপ্পু, কদমতলী থানা বিএনপি নেতা মো. হারুন, বংশাল থানা বিএনপি নেতা মো. এরশাদ আলী লাডলা, মতিঝিল থানা বিএনপি নেতা মো. কোরাইশী, যাত্রাবাড়ী থানা বিএনপি নেতা মো. জাবেদ এবং জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহ-সভাপতি বাহাউদ্দিন নোবেলসহ ৩০-৩৫ জন নেতাকর্মী। পুলিশি হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সহ-সভাপতি মীর হোসেন মীরু এবং মুগদা থানা বিএনপি নেতা নুরুল হুদা। এছাড়া গ্রেফতার করা হয়েছে ঢাকা মহানগর উত্তর জাতীয়তাবাদী যুবদলের সাবেক সহ-সভাপতি কফিলউদ্দিন ভুঁঞা, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আখতার হোসেন, খিলক্ষেত থানা বিএনপি নেতা নজরুল, তেজগাঁও থানা বিএনপি নেতা মো. হানিফ এবং মোহাম্মদপুর থানা বিএনপি নেতা মো. আহসান হাবিবকে। এছাড়া গ্রেফতার করা হয়েছে ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক মঈনুল হোসেন মানিক এবং ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এমদাদুল ইসলাম এমদাদ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা হারুন, রাসেল, ফরিদ, শরীফসহ বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীকে। : তিনি বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের গ্রেফতারের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান এবং অবিলম্বে তাদের নিঃশর্ত মুক্তির জোর দাবি করেন। : সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, আবুল খায়ের ভূঁইয়া, কেন্দ্রীয় নেতা মীর শরফত আলী সপু, এমএ মালেক, মুনির হোসেন, অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম, নবীউল্লাহ নবী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। : :





প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, দেশে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হচ্ছে না। আপনি কি একমত?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
1986 জন