পটিয়ায় কারখানার বিষাক্ত বর্জ্যে বোরো চাষ অনিশ্চিত
Published : Sunday, 31 December, 2017 at 12:00 AM, Update: 30.12.2017 8:57:45 PM
পটিয়ায় কারখানার বিষাক্ত বর্জ্যে বোরো চাষ অনিশ্চিত পটিয়া (চট্টগ্রাম) থেকে সেলিম চৌধুরী : চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার বেশ কয়েকটি শিল্প-কারখানার বিষাক্ত বর্জ্য খালে পড়ে পরিবেশের মারাত্মক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। তাছাড়া দূষিত পানির কারণে চলতি বোরো মওসুমে তিন শতাধিক একর ধানি জমিতে বোরো চাষাবাদ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। পরিকল্পিতভাবে উপজেলার জঙ্গলখাইন ইউনিয়নের শহীদ সার্জেন্ট মহি আলম খালের পানি দূষিত হয়ে দুর্গন্ধ চারিদিকে ছড়িয়ে পড়েছে। প্রান্তিক কৃষকদের অভিযোগÑ বিষাক্ত বর্জ্য খালে পড়া এখনো বন্ধ হয়নি। অভিযোগ উঠেছে, বিষাক্ত বর্জ্য খালে পড়ে পানি দূষিত করে তুললেও পরিবেশ অধিদপ্তর অজানা কারণে নীরব রয়েছে। সরেজমিন ঘুরে জানা গেছে, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পাশে উপজেলার শহীদ সার্জেন্ট মহি আলম খালে ফুলকলিসহ বিভিন্ন কারখানার বিষাক্ত বর্জ্য পড়ে দূষিত ও দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে প্রতিনিয়ত। জোয়ার-ভাটার এই খালটির সঙ্গে চাঁনখালী, বোয়ালখালী খাল ও কর্তফুলী নদীর সংযোগ রয়েছে। ফলে জোয়ার ও ভাটার সময় কর্তফুলী নদীতেও বিষাক্ত বর্জ্য পতিত হচ্ছে। দূষিত পানির কারণে খালে জেলেদের মাছ ধরা বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে সার্জেন্ট মহি আলম খালের পানি বিষাক্ত নীল ও কালচে রং ধারণ করছে ও দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে। খালের আশপাশের বাড়িঘর, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ছাড়াও বহু মসজিদের মুসল্লিরা নামাজ পর্যন্ত আদায় করতে পারছেন না। খালের পাশ দিয়ে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের প্রতিদিন শত শত যাত্রীকে ভোগান্তিতে পড়তে হয় বিষাক্ত পানির দুর্গন্ধে। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পার্শ্বে পটিয়া উপজেলার আমজুর হাট মোড় থেকে শুরু করে মনসা বাদামতল এলাকার প্রায় ১৫ কিলোমিটার বিস্তীর্ণ সার্জেন্ট মহি আলম খাল। এই খালের পানি দিয়ে উপজেলার উজিরপুর, নাইখাইন, গৈড়লা, এয়াকুবন্ডী, তিয়ারকুল, পৌর এলাকার উজিরপুর, উনাইনপুরা ও পৌরসভার আল্লাই এলাকার কয়েকশ’ কৃষক ধানিজমিতে প্রতি মৌসুমে চাষাবাদ করে থাকেন। উজিপুর গ্রামের সেচ পাম্প ম্যানেজার নুরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, মহাসড়কের পাশে পটিয়া শাহগদী মার্কেট এলাকায় শাহ আমানত নিটিং এ্যান্ড ডাইং ও জঙ্গলখাইন কৃষি উচ্চ বিদ্যালয়ের সম্মুখে গড়ে ওঠা ফুলকলি ফুড প্রোডাক্টসের বিষাক্ত বর্জ্য খালে ছেড়ে দেয়ার কারণে পরিবেশ বিপর্যয় ও চাষাবাদ বন্ধ হয়ে পড়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক মকবুল হোসাইন বলেন, ‘ইতিপূর্বে উচ্চ আদালতের নির্দেশে কয়েকটি শিল্পপ্রতিষ্ঠান সিলগালা করা হয়। বর্তমানে মহি আলম খালের পানি কোন্ প্রতিষ্ঠানের বিষাক্ত বর্জ্যরে পানিতে দূষণ হচ্ছে তা খতিয়ে দেখে সেই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রঘুনাথ সাহা বলেন, শিল্প-কারখানার বিষাক্ত বর্জ্যরে কারণে খালের পানি দূষিত হয়ে পড়েছে। এলাকার কৃষকদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে খালের পানি পরীক্ষা করে দূষিত হওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এতে এই খালের পানিতে এসিডিটির মাত্রা ৪.২ পাওয়া গেছে। সাধারণত পানিতে ৬.৫ থেকে ৭ পর্যন্ত এসিডিটির মাত্রা থাকে। খালের এই পানি দিয়ে বোরো চাষাবাদ করলে ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে।  চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সড়কে যাত্রী বাহার উদ্দিন জানান, ‘প্রতিদিন আমাকে এই রুট দিয়ে চট্টগ্রাম শহরে যেতে হয়। এই রুটের গৈড়লার মোড় থেকে বাদামতল এলাকা পর্যন্ত যে বাজে দুর্গন্ধ এতে নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে যায়। এই দুর্গন্ধ বন্ধ করার জন্য মনে হয় কেউ নেই।’ জঙ্গলখাইন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গাজী মুহাম্মদ ইদ্রিস বলেন, ‘শহীদ সার্জেন্ট মহি আলম খালটি পটিয়া ইন্দ্রপুল ও কয়েকটি শাখা খাল পেরিয়ে কর্তফুলী নদীর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। জোয়ার-ভাটার এই খালে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বিষাক্ত বর্জ্য প্রবাহিত হওয়ায় এবার বোরো মৌসুমে এলাকার কয়েকশ’ কৃষক চাষাবাদ করতে পারছেন না। : :





দেশের পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেছেন, আবারও বিতর্কিত নির্বাচন হলে দেশ বিপর্যয়ে পড়বে। আপনিও কি তাই মনে করেন?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
7210 জন