বছরজুড়ে আলোচনায় প্রশ্নফাঁস
ধ্বংসের তলানিতে শিক্ষা ব্যবস্থা
Published : Sunday, 31 December, 2017 at 12:00 AM
বাবুল খন্দকার, দিনকাল : জাতিকে ধ্বংসের সব আয়োজনই সম্পূর্ণ করেছে আওয়ামী লীগ সরকার। ধ্বংসের তলানিতে নেমে এসেছে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা। বিদায়ী ২০১৭ সালের আলোচনায় ছিলো শিক্ষা খাত। সারা বছর জুড়েই প্রশ্ন ফাঁস ও শিক্ষামন্ত্রীর নানা মন্তব্য আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিলো। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই শিক্ষা খাতে কেলেঙ্কারি আর বিশৃৃঙ্খলা লেগেই আছে। প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে অস্থিরতা যেন পিছু ছাড়ছে না কিছুতেই। পাবলিক পরীক্ষায় বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়মিত ঘটনায় পর্যবসিত হলেও প্রাথমিকে প্রশ্নপত্র ফাঁসের মধ্য দিয়ে এ ক্ষেত্রে ষোলকলা পূর্ণ করেছে আওয়ামী লীগ সরকার। শিক্ষার মান নিয়েও হয়েছে ব্যাপক সমালোচনা। : সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রশ্নপত্র ফাঁস একটি বিষফোঁড়া। প্রশ্ন ফাঁস ভেঙে দেয় জাতির মেরুদন্ড। সুপরিকল্পিতভাবে দেশের মেধা ধ্বংস করে দিতেই শিক্ষা ব্যবস্থার এই বেহাল দশা। এই অবস্থা চলতে থাকলে আগামীতে দেশের জন্য অবস্থা ভয়াবহ হতে পারে। : এ বছর পাবলিক পরীক্ষা থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ও চাকরিতে নিয়োগের পরীক্ষা- সব ক্ষেত্রেই প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে। সর্বশেষ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বার্ষিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার পর ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। অন্যদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিতে জালিয়াতি নতুন ভাবনায় ফেলেছেন মেধাবীদের। দেশের প্রাথমিক শিক্ষা থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। : বিগত সময়ে প্রাথমিক সমাপনী থেকে শুরু করে উচ্চশিক্ষা এবং নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস হলেও প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির প্রশ্ন ফাঁস এবারই প্রথম। অবিশ্বাস্য হলেও এ বছর প্রথম এবং দ্বিতীয় শ্রেণির প্রশ্ন ফাঁসের বিষয়টি গণমাধ্যমে শিরোনাম হয়েছে। : ফেব্রুয়ারিতে এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ওঠে। বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আদান-প্রদান হওয়া প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকেরা। পরীক্ষার প্রশ্নপত্র শুরু থেকেই হোয়াটস্ অ্যাপ, ফেসবুক, ভাইবারের মতো মাধ্যমে আদান-প্রদানের অভিযোগ পাওয়া যায়। : বিদায়ী বছর প্রাথমিক সমাপনী থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে। আর নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের চিত্র ছিলো ভয়াবহ। বিশেষ করে ব্যাংক নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস মেধাবী শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের হতাশ করছে বারবার। বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সিনিয়র স্টাফ নার্স নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস ছিলো বছরের আলোচিত বিষয়। চলতি বছর ১৯ মে অগ্রণী ব্যাংকের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা পদের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারণে পরীক্ষা বাতিল করা হয়। গত অক্টোবরে সরকারি কর্ম কমিশনের অধীনে অনুষ্ঠিত জ্যেষ্ঠ নার্স নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্রও ফাঁস হয়। এ কারণে পরীক্ষাটি বাতিল করা হয়। : এ বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ প্রায় প্রতিটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসসহ জালিয়াতি ছিলো টক অব দ্য ইয়ার। ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস এবং জালিয়াতির সঙ্গে জড়িতরা ধরা পড়লেও এখনো অধরা থেকে গেছে এর মূল হোতারা। : মেডিকেল ও ডেন্টালে প্রশ্ন ফাঁস চক্রের হোতা হিসেবে উঠে এসেছে সরকারের সহকারী কর কমিশনার দিপঙ্কর চন্দ্র সরকারের নাম। সরকারের উচ্চ পর্যায়ের এই কর্মকর্তা বিগত কয়েক বছর ধরে সহযোগীদের নিয়ে মেডিকেল ও ডেন্টাল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস করে আসছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তার অফিস থেকেই জব্দ করেছে ১ কোটি ৭ লাখ টাকার চেক। আর সহযোগীদের কাছ থেকে জব্দ করেছে ৩ কোটি ৫০ লাখ ২৫ হাজার টাকার চেক। : পাবলিক পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসে শিক্ষকদের দায়ী করেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, শিক্ষকরাই আসল প্রশ্ন ফাঁসকারী। কিছু শিক্ষকের কারণেই প্রশ্ন ফাঁস হচ্ছে। : শিক্ষামন্ত্রী নাহিদ বলেন, আমি যখন আমার শিক্ষকের হাতে প্রশ্ন তুলে দেব, তখন তো নিরাপদ হয়ে ঘুমাতে যাওয়া উচিত। কিন্তু কিছু শিক্ষক সে সময় প্রশ্ন ফাঁস করে দেন। তিনি বলেন, কিছু শিক্ষক ক্লাসে না পড়িয়ে বাড়িতে বা কোচিংয়ে পড়ান। যত বড় ভালো শিক্ষক, তত ক্লাসে কম পড়ান। : ২৪ ডিসেম্বর শিক্ষা ভবনের এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘আপনাদের প্রতি আমার অনুরোধ, আপনারা ঘুষ খাবেন, তবে সহনশীল হইয়্যা খাবেন। অসহনীয় হয়ে বলা যায় আপনারা ঘুষ খাইয়েন না, এটা অবাস্তবিক কথা হবে।’ : বাংলাদেশের ঘুষের ব্যাপকতা উল্লেখ করে নাহিদ বলেন, ‘খালি যে অফিসার চোর, তা না, মন্ত্রীরাও চোর, আমিও চোর।  এই জগতে এ রকমই চলে আসতেছে। সবাইকে আমাদের পরিবর্তন করতে হবে।’ : কেবল প্রশ্ন ফাঁসই নয় ফাঁস হয়েছে পরীক্ষার ফলও। সকল পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস হলেও আনুষ্ঠানিকভাবে ফল ঘোষণার পূর্বেই তা প্রকাশ হওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে এ বছর। ঘটনাটি চট্টগ্রামের। গণমাধ্যমে প্রকাশ, নগরীর ঐতিহ্যবাহী কলেজিয়েট স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ হওয়ার পূর্বেই একটি কোচিং সেন্টার ফেসবুকে ফল প্রকাশ করে দেয়। : :





প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেছেন, আবারও বিতর্কিত নির্বাচন হলে দেশ বিপর্যয়ে পড়বে। আপনিও কি তাই মনে করেন?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
7214 জন