বিএনপি ও গণমানুষের বছর হবে ২০১৮ সাল : ফখরুল
Published : Sunday, 31 December, 2017 at 12:00 AM, Update: 30.12.2017 11:04:08 PM
বিএনপি ও গণমানুষের বছর হবে ২০১৮ সাল : ফখরুল দিনকাল রিপোর্ট : আওয়ামী লীগ শুধু মাত্র ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য দেশের সমস্ত অর্জনকে ধ্বংস করে দিয়ে আজকে একটা একদলীয় শাসন ব্যবস্থা চালু করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, আমরা নির্বাচনে যাবো, বিএনপি চেয়ারপারসন দেশনেত্রী নির্বাচনে যাবেন। ওনারা (ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ) থাকবেন না। কারণ ওনাদের নির্বাচন করতে হবে না। আমরা আশাবাদী হয়ে উঠছি অনেক কারণে। আমরা বলতে চাই, ২০১৮ সাল দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সাল, ২০১৮ সাল বিএনপির সাল, ২০১৮ সাল তারেক রহমানের সাল, ২০১৮ সাল এদেশের গণমানুষের সাল, যারা লড়াই করে, যুদ্ধ করে এদেশের স্বাধীনতা ফিরিয়ে এসেছে তাদের সাল। আমরা আছি, লড়াই করেছি। লড়াই করে যাচ্ছি, লড়াই করবো এবং ২০১৮ সালে আমরা অবশ্যই জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করব। গতকাল শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় তিনি এ সব কথা বলেন। : মির্জা ফখরুল বলেন, এই সরকার সম্পর্কে আর কি বলবো? কোন খারাপ কাজটা তারা করে নাই? আমরা গণতন্ত্র বলতে যা বুঝি গভর্নমেন্ট অব দি পিপল বাই দ্যা পিপল ফর দ্যা পিপল। আর এখন কি হচ্ছে গভর্নমেন্ট ফর অন পার্টি, গভর্নমেন্ট ফর অন পারসন। আওয়ামী লীগ শুধু মাত্র ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য দেশের সমস্ত অর্জনকে ধ্বংস করে দিয়ে আজকে একটা একদলীয় শাসন ব্যবস্থা চালু করেছে। এবং এটাকে টিকিয়ে রাখার জন্য  তাদের লজ্জা সরম বলতে কিছু নাই। বেহায়ার মতো বলছে সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হবে। সংবিধান কোন সংবিধান? এ সংবিধান কোনটা? এমন একট সংবিধান আপনারা সংশোধন করেছেন, যে পার্লামেন্টে করেছেন সেটা জনগণের নয়। : বিএনপি মহাসচিব বলেন, আওয়ামী লীগ সুপরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশকে একটা ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করছে। পরিকল্পিতভাবে সংসদ ধ্বংস করেছে, পরিকল্পিতভাবে প্রশাসনকে দলীয়করণ করে অযোগ্য অথর্ব প্রশাসন তৈরি করেছে। যারা ঘুষ আর দুর্নীতি ছাড়া কিছু বোঝে না। প্রধান বিচারপতিকে বন্দুকের নলের মুখে দেশ থেকে বের করে দিয়ে বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে ধ্বংস করে দিয়েছে। : এই ভয়াবহ সরকারকে হটাতে হলে জাতীয় ঐক্য প্রয়োজন- শুক্রবার গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেনের দেয়া এই বক্তব্য উদ্ধৃতি করে তিনি বলেন, আমার খুব ভালো লেগেছে উনি (কামাল হোসেন) এতোদিনে এই কথাটা (জাতীয় ঐক্য) উপলব্ধি করেছেন। আমরা বরাবরই বলে আসছি যে, একটা জাতীয় ঐক্য তৈরি করুন। বেগম খালেদা জিয়া ডাক দিয়েছেন, জাতীয় ঐক্য দরকার। এই ভয়াবহ, ফ্যাসিস্ট, একনায়ক সরকারকে সরাতে না পারলে এই বাংলাদেশের অস্তিত্ব থাকবে না, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব থাকবে না। আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করতে হবে। সেই জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করে জনগণের উত্তাল তরঙ্গের মধ্য দিয়ে এই ফ্যাসিস্ট সরকারকে সরিয়ে সত্যিকার অর্থেই জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। : একাদশ নির্বাচনে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বেই বিএনপি অংশ নেবে উল্লেখ মির্জা ফখরুল বলেন, কথা খুব স্পষ্ট- নির্বাচন তো দিতেই হবে। সেই নির্বাচন হতে হবে একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে, সেই নির্বাচন হতে হবে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের পরিচালনায় সকল দলের অংশ গ্রহণের মধ্য দিয়ে এবং অবশ্যই তা সুষ্ঠু-অবাধ হতে হবে। সেই নির্বাচন হবে। ইনশাল্লাহ সেই নির্বাচনে অবশ্যই দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী আবার নির্বাচিত হবেন। : দলের নেতা-কর্মীদের ‘চোখ-কান’ খোলা রাখার পরামর্শ দিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, চোখ-কান খোলা রাখুন। একটা কথা আমাদেরকে সকলকে মনে রাখতে হবে। এটা রাজনৈতিক দলের বিজ্ঞান। আমাদের লক্ষ্য কী? ক্ষমতায় যাওয়ার। আমরা সবসময় শুধুু এখানে মিটিং করবো, আর ডুগডুগি বাজাবো- তার জন্য তো আসিনি। আমরা ক্ষমতায় যাবো। ক্ষমতায় গিয়ে আমরা আমাদের মেহনতি মানুষের সমস্যার সমাধান করবো, আমরা চাকরির ব্যবস্থা করবো, আমরা দেশের উন্নয়ন করবো। সেজন্য আমরা রাজনীতি করছি। এই রাজনীতির একটা বিজ্ঞান আছে। বিজ্ঞানটা কী? সংগঠন, আন্দোলন, নির্বাচন। এই তিনটা জিনিস আমাদের একসাথে করতে হবে। সংগঠন শক্তিশালী করতে হবে, আন্দোলন করতে হবে এবং নির্বাচন করে আমাদের ক্ষমতায় যেতে হবে। এই বিষয়গুলো সকলকে মনে রাখতে হবে। : দুর্নীতি-ঘুষ এই দেশ ছেয়ে গেছে বলে অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল বলেন, একটি পত্রিকা বলছে, উন্নয়নে নামে যে একটা ধুম্রজাল সৃষ্টি করা হয়েছে সেই উন্নয়ন আসলে একটা তাসের ঘর। শিক্ষিত যুবকদের ৪৭% কোনো চাকরি পায় না। প্রত্যেকটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করে দিয়েছে। টাকা দেবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমতি পাবেন, টাকা দেবেন মেডিকেল কলেজের অনুমতি পাবেন, টাকা দেবেন ইঞ্জিনিয়ারিং ইউনির্ভাসিটির অনুমতি পাবেন। ঘুম ও টাকা- এর ওপরেই এখন সবকিছু চলছে। সর্বত্র দুর্নীতি চলছে। প্রতিদিন পত্রিকায় লেখা হচ্ছে, ব্যাংকিং ব্যবস্থা একেবারে মাটিতে শুয়ে পড়েছে। হাজার হাজার লাখ লাখ কোটি টাকা লোপাট করে নিয়ে যাচ্ছে। সব দিক দিয়ে, সব স্তরে সব সেক্টরে বাংলাদেশকে ফোকলা করে ফেলেছে। অ্যামটি। যে কলসের মধ্যে পানি নাই, শব্দ করে বেশি। : প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের চলমান আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে সরকারি কর্মকর্তাদের সাথে শিক্ষকদের বেতন বৈষম্যের সমালোচনা করেন বিএনপি মহাসচিব। : কৃষকদলের নেকাকর্মীদের স্মরণ করিয়ে দিয়ে কৃষকদলের সাবেক সভাপতি মির্জা ফখরুল বলেন, কৃষকদের স্বার্থ রক্ষার জন্য কৃষকদল প্রতিষ্ঠাতা করেছিলেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। কৃষকদের যা উন্নয়ন হয়েছে তা জিয়াউর রহমান এবং বেগম খালেদা জিয়ার আমলেই হয়েছে। আর এই সরকার কৃষকদের সাথে ধাপ্পাবাজি করে তাদের নিঃশেষ করে দিচ্ছে। এখন কৃষি কাজে লাভ নেই।  কৃষকদের জীবন চলে না। : কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদুর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য সৈয়দ মেহেদি আহমেদ রুমি, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, কৃষক দলের সহ-সভাপতি এম এ তাহের, নাজিমউদ্দিন মাস্টার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তকদির হোসেন মো. জসিম, ওলামা দলের সাধারণ সম্পাদক শাহ নেসারুল হক, ছাত্র দলের সহ-সভাপতি এজমল হোসেন পাইলট, শাহবাগ থানা কৃষক দলের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম, কৃষক দল নেতা মোজ্জামেল হক মিন্টু প্রমুখ। : :





প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেছেন, আবারও বিতর্কিত নির্বাচন হলে দেশ বিপর্যয়ে পড়বে। আপনিও কি তাই মনে করেন?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
7229 জন