নন-এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের আজ থেকে আমরণ অনশন
Published : Sunday, 31 December, 2017 at 12:00 AM
দিনকাল রিপোর্ট : এমপিওভুক্তির দাবিতে পাঁচদিন ধরে জাতীয় প্রেসক্লাবে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা। দাবি আদায়ে এবার আমরণ অনশন কর্মসূচিতে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা। গতকাল শনিবার সকালে অবস্থান কর্মসূচি থেকে আমরণ অনশনের এ ঘোষণা দেয়া হয়। আন্দোলনরত শিক্ষকরা বলেছেন, পাঁচদিন ধরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেও তারা দাবি আদায়ের কোনো আশ্বাস পাচ্ছেন না। এ অবস্থায় তারা আজ রবিবার থেকে আমরণ অনশন করবেন। গত মঙ্গলবার থেকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশনের ব্যানারে অবস্থান কর্মসূচি শুরু হয়। এতে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা অংশ নিয়েছেন। : শিক্ষক নেতারা বলেন, সরকারের হিসাবমতে, বর্তমানে দেশে ৫ হাজারেরও বেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্বীকৃতিপ্রাপ্তির অবস্থায় আছে, যা এমপিওপ্রত্যাশী। এসব প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষক-কর্মচারীরা দীর্ঘ ১৫ থেকে ২০ বছর ধরে বিনাবেতনে শিক্ষাদানের পেশায় নিয়োজিত আছেন। সেখানে শিক্ষক-কর্মচারীর সংখ্যা এক লাখেরও বেশি এবং ২৫ লাখেরও বেশি শিক্ষার্থীকে তারা পাঠদান করে আসছেন বলে জানান। : তারা বলেন, নন-এমপিও এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একই নিয়মনীতিতে, একই কারিকুলামে, সিলেবাস ও প্রশ্নপদ্ধতি একইভাবে অনুসরণ করা হয়। তাদের ও আমাদের নিয়োগ পদ্ধতিতেও কোনো পার্থক্য ছিল না; বর্তমানেও নেই। অথচ আমাদের এমপিও নামক অর্থনৈতিক মুক্তির ছোঁয়া নেই। ‘আঠারো বছর ধরে শিক্ষকতা করে এখন পর্যন্ত কোনো বেতন পাই না, একজন মানুষ গড়ার কারিগর হয়েও আজকে আমাকে মানবেতর জীবন যাপন করতে হচ্ছে। আমার স্বামী একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করে। সেই টাকা দিয়ে সংসার চালাতেই টানাটানি হয়। ছেলে-মেয়েদের ভালো কোনো স্কুলে ভর্তি করাতে পারি না।’ : আন্দোলনে অংশ নেয়া শিক্ষিকা মাসুমা আক্তার বলেন, ‘আমরা বেতনের জন্য বহু আন্দোলন করেছি। বহু আশ্বাস পেয়েছি। কিন্তু কোনো কাজ হয় নাই। এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন পটুয়াখালীর বাউফলের বগা ইউনিয়ন নিম্ন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা মাসুমা আক্তার। বানারীপাড়া থেকে এসেছেন রুনা খানম। তিনি একটি ফেস্টুন নিয়ে এসেছেন। তাতে লেখা আছে ‘আমরা শিক্ষক, বেতন দিন, না হয় গুলি করুন’। : রুনা খানম বলেন, ‘দশ বছর থেকে বেতন না পেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছি। শিক্ষক হয়েও কেন আমাদের এভাবে জীবনযাপন করতে হবে। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমরা এখান থেকে উঠব না, আমাদের গুলি করে মারুক না হয় বেতন দেয়া হোক।’ : নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক কর্মচারী ফেডারেশনের সভাপতি অধ্যক্ষ গোলাম মাহমুদুন্নবী ডলার বলেন, দীর্ঘ বিশ বছর থেকে বিনা বেতনে শিক্ষক-কর্মচারীরা দিন কাটিয়েছে। আমরা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে সারা দেশে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছি। আশ্বাসের ভিত্তিতে কর্মসূচি স্থগিতও করেছি। কিন্তু আমাদের দাবি পূরণ হয় নাই, তাই দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত সকল শিক্ষক কর্মচারীবৃন্দ রাজপথে অবস্থান করবো।’ অবস্থান কর্মসূচিতে সারা দেশ থেকে নন এমপিও শিক্ষক-কর্মচারীরা অংশ নিয়েছেন। : এদিকে শিক্ষকদের আন্দোলন ছেড়ে ঘরে ফিরতে বললেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। এমপিওভুক্তির দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষকদের জন্য কোনো সুখবর নেই বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, এদেরকে এমপিওভুক্ত করার জন্য যে অর্থের প্রয়োজন, তার বরাদ্দ নেই। শিক্ষকদের বাড়ি ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘এখন যদি তারা আন্দোলন করে তাহলে কী করার আছে? এভাবে বিচ্ছিন্নভাবে আন্দোলন করলে লাভ হবে না। : মন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষকরা জটিলতা বুঝতে পারছেন না । কিন্তু অর্থ না পেলে এই সমস্যার সমাধান হবে না। শিক্ষকদের কাছে যাবেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাব পাওয়া যায়নি মন্ত্রীর কাছে। প্রশ্ন করার সময়ই তিনি চেয়ার ছেড়ে উঠে যান। এরপর আবার প্রশ্ন করলেও জবাব আসেনি। : মন্ত্রী জানান, ১৯৮০ সাল থেকে এমপিও দেয়া শুরু হয়। ২০১০ সালেও তিনি ‘না বুঝে’ ২০২৪ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত করেছেন। কিন্তু এরপর জটিলতা তৈরি হলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে দেন দরবার করে টাকা বরাদ্দ নিয়েছেন। কিন্তু সেটাও সরকারের জন্য চাপ হয়ে গেছে। এমপিও দেয়া না গেলে শিক্ষকদের পাঠদানের অনুমতি দিচ্ছেন কেন- এমন প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, এই অনুমতি দেয়ার সময় শর্ত জুড়ে দেয়া হয় যে, তারা এমপিও ছাড়াই পড়াবেন। আর এই শর্ত মেনেই তারা পাঠদানের অনুমতি নেন কিন্তু পরে আবার আন্দোলন করেন। শিক্ষকদের জন্য কি কিছুই করবেন না?- এমন প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা শিক্ষকদের পক্ষের লোক, আমরা চাচ্ছি যে, শিক্ষক পরিবারে কোনো সদস্য যেন না খেয়ে থাকে এবং কষ্ট পায়।’ ‘কিন্তু আমি চাইলেও পারছি না। কারণ একজন শিক্ষকের এমপিও কেবল এক-দুই দিনের জন্য না। সারা জীবনের জন্য। একজন শিক্ষক মারা গেলে ওই পদে আরেকজন এসে যোগ দেবেন। এটা কখনও বন্ধ হবে না। এ জন্য বেশ কিছু প্রক্রিয়া আছে। এর সঙ্গে সংস্থাপন মন্ত্রণালয় জড়িত, আইন মন্ত্রণালয় জড়িত, অর্থ মন্ত্রণালয় জড়িত।’ : নাহিদ বলেন, ‘আমরা বাজেটে এমপিওর জন্য আলাদা বরাদ্দ রাখার জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়কে বারবার চিঠি দিয়েছি, বৈঠক করেছি, কমিটিও হয়েছে। সেই কমিটি এটা নিয়ে কাজ করছে। আমি এটা নিয়ে সংসদেও কথা বলেছি শিক্ষকদের পক্ষে। কিন্তু অর্থ মন্ত্রণালয় বরাদ্দ না দিলে কী করার আছে? : :





প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেছেন, আবারও বিতর্কিত নির্বাচন হলে দেশ বিপর্যয়ে পড়বে। আপনিও কি তাই মনে করেন?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
7255 জন