রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বধ্যভূমিতে জুতা পায়ে নাচগান!
Published : Monday, 1 January, 2018 at 12:00 AM
রাবি প্রতিনিধি : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) বধ্যভূমির মূল বেদিতে উঠার আগেই ডানপাশে লেখা ‘জুতা পায়ে উঠা নিষেধ’ আর বামপাশে লেখা আছে ‘অনুগ্রহ করে বেদিতে বসবেন না’। কিন্তু এই নিষেধাজ্ঞা যেন সাইনবোর্ডেই আটকে আছে। বধ্যভূমিটি যেন পরিণত হয়েছে পিকনিক , নাচ-গানের স্পটে।শনিবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই বিভাগের শিক্ষার্থীরা বেদিতে জুতা পায়ে উঠে উচ্চশব্দে গান বাজিয়ে পিকনিক করছে। দেখে মনে হবে সবকিছু ঠিক আছে শুধু হৃদয় থেকে উঠে গেছে ত্রিশ লাখ শহীদের প্রতি সম্মান ও ভালোবাসাটা।সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত রসায়ন ও রসায়ন প্রকৌশল বিভাগের কয়েক বর্ষের শিক্ষার্থীরা মিলে বধ্যভূমির বেদির উপরে জুতাপায়ে উঠে নাচগান করছে। আর পাশেই পরিসংখ্যান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীরা বধ্যভূমির পাশেই উচ্চশব্দে গান বাজিয়ে পিকনিকের নামে নাচগান করছে। তাদের সবাইকে জুতা পায়ে বধ্যভূমির বেদিতে উঠে দৌঁড়াদৌড়ি করতে দেখা গেছে। অথচ এই জায়গাতেই ১৯৭১ সালে রাজশাহীসহ পার্শ্ববর্তী নাটোর, বগুড়া, পাবনা নওগাঁ এবং রংপুর থেকে অসংখ্য নিরপরাধ মানুষকে ধরে নিয়ে এসে পাশবিক নির্যাতনের পর নির্মমভাবে প্রায় চার হাজার মানুষ হত্যা করে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী। অসংখ্য মা-বোনকে এখানে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। এ বধ্যভূমিতে কঙ্কাল এবং স্বর্ণালঙ্কারসহ অনেক কিছু পাওয়া গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের জোহা হল সংলগ্ন প্রায় এক বর্গ কিলোমিটার বিশাল এলাকা জুড়ে সে সময়ে হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়। তারই স্মৃতিকে ধারণ করতে এখানে তৈরি করা হয় স্তম্ভটি। : বধ্যভূমিতে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা জানান, প্রতিদিন অন্তত ৪-৫টি গ্রুপ এখানে পিকনিক করতে আসে। তারা বেশিরভাগ সময়েই উচ্চশব্দে নাচ-গান করে থাকে। তাদের কিছু বললেই বলে যে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদেরকে অনুমতি দিয়েছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান বলেন, বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা বধ্যভূমিতে পিকনিক করার জন্য অনুমতি নিতে আসে। কিন্তু তাদেরকে অনুমতি দেয়া হয় না। অনেকে রান্না শুরু করলে পুলিশ বাধা দেয়, তখন শিক্ষার্থীরা ফোন করে কাকুতি-মিনতি শুরু করে। এছাড়া সেখানে অনুমতি দেয়ার প্রশ্নই আসে না। আর আজকেও যারা পিকনিক করছিল, তারাও অনুমতি নেয়নি। তবে প্রক্টরের অনুমতি নিয়েই বধ্যভূমিতে পিকনিকের আয়োজন করেছিলেন বলে দাবি করেন পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থীরা। : এদিকে ফলিত রসায়ন ও রসায়ন প্রকৌশল বিভাগের সভাপতি ড. দিল আফরোজ বেগম বলেন, ‘বিষয়টি আমি অবগত নই। তারা বিভাগে না জানিয়েই পিকনিক করছিল। যদি এমন ধরনের কাজ করে থাকে তবে সেটা কখনোই সমীচীন নয়। শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি দেখছি।’ : :





দেশের পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

সুজন নেতৃবৃন্দ বলেছেন, রংপুরের ভোট নিয়ে ইসির নিরপেক্ষতা ও গ্রহণযোগ্যতা বিচার করা ঠিক হবে না। আপনি কি একমত?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
7420 জন