কাজিপুরে যমুনায় অসংখ্য চর নৌযান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা
Published : Monday, 1 January, 2018 at 12:00 AM, Update: 31.12.2017 9:47:36 PM
কাজিপুরে যমুনায় অসংখ্য চর নৌযান চলাচলে প্রতিবন্ধকতাসেলিম শিকদার, কাজিপুর (সিরাজগঞ্জ) থেকে : সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার পূর্ব সীমান্ত দিয়ে প্রবাহিত যমুনা নদীর পানি অস্বাভাবিকভাবে হ্রাস পাওয়ায় নদীবক্ষে জেগে উঠেছে অসংখ্য চর-ডুবোচর। খেয়ালি এই নদীর গতিপথ বোঝা বড়ই দুষ্কর। দিন দিন এর প্রশস্ততা বাড়তে বাড়তে এখন ১৫ কি.মি. পর্যন্ত বিস্তৃতি লাভ করেছে। আর এ কারণে উজানের পানি বইতে গিয়ে যমুনা তার খেই হারিয়ে নানা শাখা-প্রশাখা, আর চর-ডুবোচরে নিজেকে প্রকাশ করছে। ভাঙছে ভরা বর্ষায় কিংবা পানিহীন গ্রীষ্মেও। এককালের খরস্রোতা যমুনা শুষ্ক মৌসুমে পানিহীন-প্রাণহীন এক মরুভূমি। দিন বদলের সাথে সাথে যমুনায় এখন আর পালতোলা নৌকা অথবা লঞ্চ-স্টিমার চলে না বললেই চলে। বিশেষ করে গ্রীষ্মেতো বটেই। যমুনা এখন যেন মরুভূমি; ধু-ধু বালুচর। পালতোলা নৌকার বদলে এখন যমুনার বুকে চলাচল করে গরুর গাড়ি, ঘোড়ার গাড়ি, আর ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল, লছিমন, করিমন অথবা ভটভটি। পানি কমার ফলে যমুনা নদীর ১০টি রুটে নৌ-চলাচল দারুণভাবে বিঘিœত হচ্ছে। উপজেলার মেঘাই ঘাট থেকে প্রতিদিন নাটুয়ারপাড়া, তেকানী, নিশ্চিন্তপুর, খাসরাজবাড়ী, চরগিরিশি, মনসুরনগর, তারাকান্দি, সিরাজগঞ্জ, সহড়াবাড়ী, রূপসার চরে শতাধিক ইঞ্জিনচালিত নৌকা যাতায়াত করতো। শুষ্ক মৌসুমের শুরু থেকেই নদীর নাব্যতা কমে চর জেগে উঠায় নৌযান যাতায়াত প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হচ্ছে। অনেক বেশি পথ ঘুরে নৌকাগুলোকে গন্তব্যে পৌঁছাতে হচ্ছে। এতে করে ইঞ্জিনের তেল খচর ও সময় দুটোই বেশি ব্যয় হচ্ছে। ফলে যাত্রীভাড়া ও মালামাল পরিবহন খরচও বেড়ে গেছে। এসব রুটে অন্য কোনো যাতায়াত ব্যবস্থা না থাকায় যাত্রীরা নৌযান চালকদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে। তাছাড়া নদীর পানি কমে নৌকার ঘাট দূরে চলে যাওয়ায় যাত্রীদের দীর্ঘ বালুচর পায়ে হেঁটে নৌকায় চড়তে হচ্ছে। এক্ষেত্রে মালামালসহ মহিলা যাত্রীদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। এখনও যমুনার পানি যেভাবে কমছে তাতে মেঘাই-নাটুয়ারপাড়া ঘাট থেকে চলাচলকারী সবগুলো রুটে নৌ-চলাচল বন্ধ হয়ে শতাধিক নৌকার মাঝি বেকার হয়ে পড়ার আশঙ্কায় রয়েছে। নাটুয়ারপাড়া ঘাট মালিক সমিতির সভাপতি ওমর আলী জানান, যমুনার পানি কমে যাওয়ায় আগে যেখানে নদী পার হতে পৌণে এক ঘন্টা লাগতো এখন প্রায় দুই-আড়াই ঘন্টা সময় লাগে। : এতে করে দিনে একবারের বেশি কোন নৌকার সিরিয়াল পড়ে না। যাত্রীদেরও অনেক ভোগান্তি পোহাতে হয়। এদিকে যমুনা সার কারখানা থেকে নদীপথে সারসহ বিভিন্ন মালামাল পরিবহনেও দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। ঢেকুরিয়া বাজারের সার ডিলার হযরত আলী জানান, দ্বিগুণ ভাড়া দিয়েও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ঘাটে সারের নৌকা আনা যায় না। অনেক সময় মধ্যচরে নৌকা ডুবোচরে আটকে যাওয়ায় নৌকা ঘাটে পৌঁছাতে এক থেকে দেড়দিন অতিরিক্ত সময় লেগে যায়। মেঘাই ঘাটের ইজারাদার জানান, অনেক টাকায় মেঘাই-নাটুয়ারপাড়া ঘাটটি ইজারা নিয়েছি। যমুনা নদীতে পানি কমে যাওয়ায় ৩ কিলোমিটার দূরের নাটুয়ারপাড়া ঘাটে পৌঁছতে এখন ১০ থেকে ১২ কিলোমিটার পথ ঘুরে যেতে হচ্ছে। ফলে আগের চেয়ে নৌ-চলাচল অনেক কমে গেছে। এখন লোকসান গুনতে হচ্ছে। যাত্রী ও মালামাল পরিবহনও কমে গেছে। : :  





দেশের পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

সুজন নেতৃবৃন্দ বলেছেন, রংপুরের ভোট নিয়ে ইসির নিরপেক্ষতা ও গ্রহণযোগ্যতা বিচার করা ঠিক হবে না। আপনি কি একমত?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
7423 জন