যশোরে প্রধানমন্ত্রীর জনসভা
ছাত্রলীগ যুবলীগের সংঘর্ষে আহত ২০
Published : Monday, 1 January, 2018 at 12:00 AM
যশোর অফিস, দিনকাল : পুলিশের ব্যাপক টহলের মধ্যেই গতকাল রবিবার সকালে যশোর শহরের সিভিল কোর্ট মোড়ে আওয়ামী লীগের এমপি ও চেয়ারম্যান গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর জনসভায় ঢোকা নিয়ে আধিপত্য বিস্তারের সংঘর্ষে দু গ্রুপের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে চারজন ছুরিকাঘাতে আহত হন। আহতদের মধ্যে ৫ জন বর্তমানে যশোর : ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। : এদিকে সন্ধ্যায় সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন হাসপাতালে গিয়ে আহতদের খোঁজখবর নিয়েছেন।  প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যশোর ঈদগাহের জনসভাস্থলে ঢোকার জন্য গতকাল সকাল থেকেই আওয়ামী লীগের এমপি গ্রুপের অনুসারী ও চেয়ারম্যান গ্রুপের অনুসারীরা চেষ্টা চালাতে থাকেন। জনসভাস্থলে নিজেদের অনুসারীদের অবস্থান মজবুত করার জন্য উভয় গ্রুপের ছিলো এই প্রচেষ্টা। এনিয়ে এমনিতেই উভয় গ্রুপের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছিলো। এরই মধ্যে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আওয়ামী লীগের এমপি গ্রুপের অনুসারীরা মিছিল নিয়ে সিভিল কোর্ট মোড়ে আসেন ঈদগাহে ঢোকার জন্য। কিন্তু তারা আসা মাত্রই চেয়ারম্যান গ্রুপের অনুসারীরা তাদের ওপর হামলা চালান। এ সময় দু গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়। এক পর্যায়ে প্রতিপক্ষ গ্রুপের লোকজনের ছুরিকাঘাত ও কিলঘুষিতে আহত হন এমপি গ্রুপের কয়েকজন অনুসারী। এছাড়া আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান গ্রুপের অনুসারী কয়েকজন সংঘর্ষে আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। : সূত্র জানায়, সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন আহত হয়। আহতদের মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি এমপি গ্রুপের অনুসারীরা হচ্ছেন- শহরের ওয়াপদা কারবালা এলাকার মৃত খায়রুল ইসলামের ছেলে যুবলীগ নেতা রাজিবুল আলম, ষষ্ঠীতলা এলাকার রাকিব শিকদারের ছেলে পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি আশরাফুল কবির শিকদার, কারবালা এলাকার ইসহাকের ছেলে বিপ্লব ও চাঁচড়া রায়পাড়ার মজিবরের ছেলে ইমান। অপরদিকে চেয়ারম্যান গ্রুপের আহত হয়েছেন চাঁচড়া রায়পাড়া জামতলা এলাকার মৃত আব্দুর রবের ছেলে ৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ইমামুল বিশ্বাস মামুন। : এদিকে আহত আশরাফুল কবির শিকদার অভিযোগ করেন, ‘বেজপাড়া টিবি ক্লিনিক এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী ট্যাবলেট সোহেল ও ষষ্ঠীতলার সন্ত্রাসী তরিকুল ইসলামসহ বেশ কয়েকজন তাদের মিছিলে বাধা প্রদান করে এবং হামলা চালায়। তরিকুল এ সময় তার শরীরে অস্ত্র ঠেকিয়ে বেধড়ক মারধর ও ছুরিকাঘাত করে। মারধরের কারণে তার মুখমন্ডল মারাত্মকভাবে থেঁতলে গেছে।’ অনুরূপ অভিযোগ করেছেন রাজিবুল আলম। : তিনি বলেন, ‘সন্ত্রাসী ট্যাবলেট সোহেল তাকেসহ তাদের লোকজনকে ছুরি মেরেছে’। অপরদিকে চেয়ারম্যান গ্রুপের অনুসারী ইমামুল বিশ্বাস মামুন অভিযোগ করেন, ‘প্রতিপক্ষরা তাকে ছুরিকাঘাতের চেষ্টা চালায়। বাধা দেয়ায় তাকে মারধর করা হয়েছে।’ হাসপাতাল সূত্র জানায়, এমপি গ্রুপের আহত চারজন ঘটনার পরপরই হাসপাতালে ভর্তি হন। অপরদিকে বিকেল পাঁচটার দিকে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন চেয়ারম্যান গ্রুপের অনুসারী ইমামুল বিশ্বাস মামুন। : সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রীর জনসভা শেষে সন্ধ্যায় সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম হাসপাতালে যান এবং আহত রাজিবুল আলম ও আশরাফুল কবির শিকদারসহ অন্যদের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন। অন্যদিকে যোগাযোগ করা হলে কোতয়ালি মডেল থানা পুলিশের ওসি একেএম আজমল হুদা সাংবাদিকদের জানান, গেট দিয়ে ঢোকা নিয়ে দু পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় পক্ষের লোকজন আহত হয়েছে।    : :





প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

সুজন নেতৃবৃন্দ বলেছেন, রংপুরের ভোট নিয়ে ইসির নিরপেক্ষতা ও গ্রহণযোগ্যতা বিচার করা ঠিক হবে না। আপনি কি একমত?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
7438 জন