গুম গুপ্তহত্যা ৬০ ॥ বিচারবহির্ভূত হত্যা ১৬২
গত বছর ধর্ষণের শিকার ৮১৮ নারী শিশু : আসক
Published : Monday, 1 January, 2018 at 12:00 AM, Update: 31.12.2017 10:42:19 PM
দিনকাল রিপোর্ট : চলতি বছরে ৮১৮ নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে জানিয়েছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)। গতকাল রবিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি ২০১৭: আসক’র পর্যবেক্ষণ’ বিষয়ক এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানায় সংস্থাটি। মানবাধিকার পরিস্থিতি তুলে ধরে আসকের সমন্বয়ক আবু আহমেদ ফয়জুল কবির বলেন, ২০১৭ সালে ধর্ষণের ঘটনার সংখ্যা যেমন বেড়েছে, তেমনি এর ধরনে নিষ্ঠুরতা এবং ভয়াবহতা লক্ষ্য করা গেছে। এ ধরনের ঘটনার সাথে ধনবান, ক্ষমতাশালী, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্য, পরিবহন শ্রমিকদের যুক্ত থাকার অভিযোগ পাওয়া যায়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে অপহরণ, গুম ও গুপ্তহত্যার অভিযোগের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের ‘রহস্যজনক নিখোঁজ’ হওয়ার ঘটনা ছিল ২০১৭ সালের অন্যতম উদ্বেগের বিষয়। : ২০১৭ সালে বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে অপহরণ, গুম ও গুপ্তহত্যার ঘটনার শিকার হয়েছেন মোট ৬০ জন। এ ছাড়া এ বছরে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে ‘রহস্যজনক’ নিখোঁজ হয়েছেন ৩১ জন। ‘রহস্যজনক’ নিখোঁজ পরবর্তী সময়ে ফেরত এসেছেন ৯ জন এবং বিভিন্ন্ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গ্রেফতার দেখিয়েছে ৬ জনকে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই গুম বা গুপ্তহত্যার শিকার হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারগুলো দাবি করেছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে ধরে নিয়ে যাওয়ার পর থেকে তারা গুম/নিখোঁজ রয়েছেন। ১৪ নভেম্বর থানা হেফাজত থেকে সাঈদের গুম হওয়ার বিষয়ে তার মা মোসা. হীরা খাতুন বাদী হয়ে পুলিশসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেন। কিন্তু মামলা দায়েরের পর হীরা খাতুন ও তার পরিবারের সদস্যদেরকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়া হয়, যার প্রেক্ষিতে তিনি মামলা প্রত্যাহার করতে বাধ্য হন। : ২১ জুলাই ভোরে খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কের কাঞ্চনপুর কাকুরপাড়া কালভার্ট এলাকা থেকে যশোরের চৌগাছা থানা ছাত্রদলের সাবেক নেতা মাহবুব মোস্তফা রাজুর লাশ উদ্ধার করে ডুমুরিয়া থানা পুলিশ। তার পরিবারের ভাষ্যমতে, লাশ উদ্ধারের দুই দিন আগে ১৯ জুলাই জামিনে মুক্তি পেয়ে যশোর কারাগার থেকে বের হয়েছিলেন মাহবুব মোস্তফা রাজু। ১৫ নভেম্বর ঝিনাইদহের কোটচাদপুরে মাসুম বিল্লাহ নামে এক মাদ্রাসা ছাত্রকে হরিণদিয়া বেড়ে পুকুর মাদ্রাসা পাড়ার বাড়ি থেকে পুলিশ পরিচয়ে সাদা পোশাকে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেন তার পরিবার। এই ঘটনার প্রায় এক মাস আগে ১২ অক্টোবর নিখোঁজ মাসুমের চাচাতো ভাই মাকসুদুর রহমানকে বাড়ির পার্শ¦বর্তী এলাকা থেকে কে বা কারা তুলে নিয়ে যায়। : উল্লেখ্য, পরবর্তী সময়ে ৫ ডিসেম্বর মাসুমকে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা মডেল থানার একটি মামলায় গ্রেফতার দেখানো হলেও এখনও পর্যন্ত মাকসুদের কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি।  তিনি বলেন, নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু অন্যান্য বছরের ন্যায় এ বছরেও পুলিশ, র‌্যাবসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কর্তৃক বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ডের অনেক অভিযোগ পাওয়া গেছে। ২০১৭ সালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বিভিন্ন বাহিনীর সঙ্গে ক্রসফায়ার, বন্দুকযুদ্ধ, গুলিবিনিময় এবং হেফাজতে মোট ১৬২ জন নিহত হন। এর মধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে ক্রসফায়ার, বন্দুকযুদ্ধ, গুলিবিনিময়ে নিহত হন মোট ১২৬ জন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে শারীরিক নির্যাতনের কারণে মারা যান ১২ জন, গ্রেফতারের আগে ও পরে গুলিতে মারা যান ১৮ জন, গ্রেফতারের পর আত্মহত্যা করেন একজন, অসুস্থ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন ৪ জন এবং রহস্যজনক মৃত্যু হয় একজনের। এছাড়া ২০১৭ সালে কারা হেফাজতে মারা যান ৫৩ জন, যার মধ্যে হাজতি ৩৩ জন এবং কয়েদি ২০ জন। ১৮ মার্চ ২০১৭ তারিখে র‌্যাব হানিফ মৃধা নামে এক ব্যবসায়ীকে গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকার কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। : গত ২৮ অক্টোবর রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য ত্রাণ বিতরণের উদ্দেশ্যে কক্সবাজারে যাওয়া-আসার পথে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটে। এছাড়া ১৮ জুন রাঙামাটিতে পাহাড় ধসে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন ও ত্রাণ বিতরণে যাওয়ার পথে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলা সদরের ইছাখালীতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের গাড়িবহরে হামলা চালিয়ে তাকেসহ বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মীকে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। : সাংবাদিক নির্যাতন : বিগত বছরগুলোর ন্যায় ২০১৭ সালেও খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে গণমাধ্যমকর্মীরা নির্যাতন, মামলা ও গ্রেফতারসহ বিভিন্ন হয়রানির শিকার হয়েছেন। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য সংরক্ষণ ইউনিটের হিসাব অনুযায়ী, ২০১৭ সালে আইন শৃঙ্খলাবাহিনী, প্রভাবশালী ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি, সন্ত্রাসী, ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের দ্বারা শারীরিক নির্যাতন, হামলা, মামলা, হুমকি ও হয়রানিসহ বিভিন্নভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন মোট ১২২ সাংবাদিক এবং রাজনৈতিক সংঘাতের সংবাদ সংগ্রহের সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন এক সাংবাদিক।   নির্যাতনসহ তার কাছে এক লাখ টাকা ঘুষের চাওয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়। : সীমান্ত হত্যা ও নির্যাতন বিগত বছরগুলোর মতো ২০১৭ সালেও ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকায় মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা অব্যাহত ছিল। এ বছরে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীÑবিএসএফের গুলিতে সীমান্তে অনেক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। সীমান্তে নিরস্ত্র বাংলাদেশি হত্যা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে ভারতের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে বিভিন্ন সময়ে আশ্বাস দেয়া হলেও সেটি ফলপ্রসূ হয়নি। ভারতীয় সীমান্ত রক্ষীবাহিনীÑবিএসএফের বিরুদ্ধে সীমান্ত থেকে বাংলাদেশিদের ধরে নিয়ে নির্যাতন চালানো বা গুলি করে হত্যা; এমনকি বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বেআইনিভাবে অনুপ্রবেশ করে নির্যাতন চালানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে, যা আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের লঙ্ঘন। গত ২৫ সেপ্টেম্বর ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গি উপজেলার বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাক বিএসএফের নির্যাতনে মারা যান বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। তাকে সীমান্ত এলাকা থেকে আটক করে বিএসএফের সদস্যরা অকথ্য নির্যাতন চালিয়ে গুরুতর জখম অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করেছিল। ১৫ নভেম্বর লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত হন ফরিদ হোসেন ওরফে শরীফ (২২) নামে এক যুবক। নারী অধিকার-পরিস্থিতি আর্থ-সামাজিক, সাংস্কৃতিক, শিক্ষা, খেলাধুলা ও প্রশাসনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীর অগ্রগতি এবং নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে সরকারি-বেসরকারি নানা উদ্যোগ সত্ত্বেও অধিকার বঞ্চনার শিকার হছেন নারীরা। দেশের নারী, মানবাধিকার ও উন্নয়ন সংগঠনগুলোর অব্যাহত প্রতিবাদ ও আন্দোলনের পরও অপ্রাপ্ত বয়স্কদের বিয়ের বিশেষ বিধান রেখেই ১১ মার্চ জাতীয় সংসদে পাস করা হয়েছে বাল্য বিবাহ নিরোধ আইন। ২০১৭ সালে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন কর্মস্থলে যৌন নির্যাতন ও বখাটে দ্বারা উত্ত্যক্তের ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। এ বছরে বখাটেদের দ্বারা যৌন হয়রানিসহ বিভিন্ন সহিংস ঘটনার শিকার হয়েছেন মোট ২৫৫ জন। এর মধ্যে ১২ জন নারী আত্মহত্যা করেছেন। যৌন হয়রানির প্রতিবাদ করতে গিয়ে ৩ নারীসহ খুন হয়েছেন ১৩ জন, বখাটেদের প্রতিবাদ করায় লাঞ্ছিত হয়েছেন ১৬৮ জন এবং স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়েছে ৪ জন মেয়ের। : সংবাদ সম্মেলনে ফয়জুল কবির জানান, ২০১৬ সালে যৌন হয়রানির শিকার হয়েছিলেন মোট ২৪৪ জন। ২৮ মে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ১২ নারী শিক্ষার্থীকে গ্রেফতার ও ধামরাই থানা হেফাজতে পুলিশ কর্তৃক তাদেরকে নানাভাবে হয়রানি করার ঘটনা ঘটে। অন্যদিকে সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে ‘প্রেমের প্রস্তাব’ প্রত্যাখাত হয়ে বিজয় দিবসের রাতে ঘরে ঢুকে হুমায়রা আক্তার মুন্নী নামে এক স্কুল ছাত্রীকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে বখাটে ইয়াহিয়া। হাসপাতালে নেয়ার পথেই মারা যান মুন্নী। ২০১৭ সালে ধর্ষণের ঘটনার সংখ্যা যেমন বেড়েছে, তেমনি এর ধরনে নিষ্ঠুরতা এবং ভয়াবহতা লক্ষ্য করা গেছে। এ ধরনের ঘটনার সাথে ধনবান, ক্ষমতাশালী, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্য, পরিবহন শ্রমিকদের যুক্ত থাকার অভিযোগ পাওয়া যায়। শিশু কিংবা বৃদ্ধ কেউই রেহাই পায়নি এ পাশবিকতার হাত থেকে। : এ বছর সারাদেশে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৮১৮ নারী। উল্লেখ্য, গত ২০১৬ সালে এ সংখ্যা ছিল ৬৫৯। এ বছর ধর্ষণ পরবর্তী হত্যার শিকার হয়েছেন ৪৭ নারী এবং ধর্ষণের পর আত্মহত্যা করেছেন ১১ নারী। মেয়েকে ধর্ষণ চেষ্টার ঘটনায় বিচার না পেয়ে গত ২৯ এপ্রিল গাজীপুরের শ্রীপুর রেল স্টেশনের কাছে চলন্ত ট্রেনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেন হযরত আলী ও তার মেয়ে আয়েশা আক্তার। ২৫ আগস্ট বগুড়া থেকে ময়মনসিংহ যাওয়ার পথে পরিবহন শ্রমিকরা চলন্ত বাসে ধর্ষণ করে আইডিয়াল ল’ কলেজের শিক্ষার্থী রূপা হককে। ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় তাকে। ১৭ জুলাই এক শিক্ষার্থীকে বাড়িতে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করে বগুড়া শহর শ্রমিক লীগের আহবায়ক তুফান সরকার। এরপর ২৮ জুলাই ক্যাডার বাহিনী দিয়ে তুলে নিয়ে ঐ শিক্ষার্থী ও তার মাকে বেধড়ক পেটানোর পর চুল কেটে দেয়া হয়। এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে পুলিশের এসআইসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চার সদস্যের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া যায়। ২০১৭ সালে যৌতুকের জন্য নির্যাতনের শিকার হয়েছেন মোট ৩০৩ জন নারী। এর মধ্যে ১৪৫ জনকে হত্যা করা হয় এবং আত্মহত্যা করেন ১০ জন। এসব ঘটনায় মামলা হয়েছে ১৮৮টি। অন্যদিকে এ বছর পারিবারিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন মোট ৪৪১ জন নারী, এদের মধ্যে স্বামী ও স্বামীর পরিবারের সদস্যদের কর্তৃক হত্যার শিকার হন ২৭০ নারী, নিজ পরিবার কর্তৃক হত্যার শিকার হন ৩৪ নারী এবং নির্যাতনের ফলে আত্মহত্যা করেন ৫৭ নারী। এসব ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে ২৩৮টি। গৃহকর্মী নির্যাতন ও অ্যাসিড নিক্ষেপ ৪৩ জন নারী গৃহকর্মী নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, এর মধ্যে নির্যাতনসহ বিভিন্ন কারণে গৃহকর্তার বাড়িতে মারা যান ২৬ জন। : এ বছরে অ্যাসিড নিক্ষেপের শিকার হন মোট ৩২ নারী এবং অ্যাসিড নিক্ষেপের কারণে একজন মারা যান। তবে নানা প্রতিকূলতার কারণে গৃহকর্মী নির্যাতনের অনেক ক্ষেত্রে তথ্যপ্রাপ্তির ঘটনা পারিবারিক বলয়ের অন্যান্য নির্যাতনের তুলনায় কম হয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোর ধারাবাহিকতায় শিশু নির্যাতন ও হত্যার ঘটনা এ বছরেও অব্যাহত ছিল। আসক তথ্য সংরক্ষণ ইউনিটের হিসাবমতে, ২০১৭ সালে মোট ১৬৭৫ শিশু হত্যা ও বিভিন্নভাবে নির্যাতনের শিকার হয়। এর মধ্যে হত্যার শিকার হয় ৩৩৯ শিশু, আত্মহত্যা করে ১১৭ জন এবং রহস্যজনক মৃত্যু ঘটে ৩৭ শিশুর। বিগত বছরগুলোর মতো ২০১৭ সালেও পার্বত্য অঞ্চলে ও সমতলে আদিবাসীদের বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, হয়রানি, ভূমি দখল ও উচ্ছেদের অনেক অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত ২ জুন রাঙামাটির লংগদুর স্থানীয় বাঙালি যুবলীগ নেতা নুরুল ইসলাম নয়ন নামে এক যুবকের লাশ উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে আগুন দেয়া হয় লংগদুর আদিবাসী অধ্যুষিত তিনটি গ্রামের দুই শতাধিক বাড়িতে। আগুনে ভস্মীভূত হয়ে যায় পাহাড়ি আদিবাসীদের ঘরবাড়িসহ যাবতীয় জিনিসপত্র। ঘটনার সময় ঘরের মধ্যেই অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যান সত্তরোর্ধ্ব গুণমালা চাকমা। স্বাস্থ্যের অধিকার মানুষের অন্যতম মৌলিক অধিকার। কিন্তু বিগত বছরগুলোর মতো ২০১৭ সালেও দেশের চিকিৎসা ক্ষেত্রে নৈরাজ্য, চিকিৎসক ও চিকিৎসা সংশ্লিষ্টদের অবহেলা ও ত্রুটি এবং চিকিৎসা না পেয়ে রোগীর মৃত্যু এবং ভোগান্তির অনেক অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বছরে স্বাস্থ্য সেবার অধিকার নিশ্চিতে ‘স্বাস্থ্য সেবা আইন-২০১৭’ এর খসড়া চূড়ান্ত করেছে সরকার। তবে এ আইনের ২৫ ধারায় চিকিৎসকদের ‘দায়মুক্তি’র বিধান রাখা হয়েছে, যা নিয়ে আপত্তি উঠেছে। ঢাকার তিনটি সরকারি হাসপাতালে ঘুরেও চিকিৎসা না পেয়ে গত ১৭ অক্টোবর আজিমপুর ‘মাতৃসদন ও শিশুস্বাস্থ্য প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান’-এর সামনের রাস্তায় সন্তান প্রসব করেন পারভীন আক্তার। কিন্তু জন্মের পরপরই মারা যায় তার নবজাতক সন্তানটি। ১৮ মে রাজধানীর সেন্ট্রাল হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আফিয়া জাহান চৈতির মৃত্যুর অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় হাসপাতালের পরিচালকসহ অভিযুক্ত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা হলেও পরে তা প্রত্যাহার করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে আসকের নির্বাহী পরিচালক শীপা হাফিজা, জ্যেষ্ঠ উপ-পরিচালক রওশন জাহান পারভীন ও নীনা গোস্বামী উপস্থিত ছিলেন। : :





প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

সুজন নেতৃবৃন্দ বলেছেন, রংপুরের ভোট নিয়ে ইসির নিরপেক্ষতা ও গ্রহণযোগ্যতা বিচার করা ঠিক হবে না। আপনি কি একমত?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
7462 জন