সীমাহীন জালিয়াতি করে ভোট চাওয়া জনগণের সঙ্গে প্রতারণা : বিএনপি
Published : Monday, 1 January, 2018 at 12:00 AM, Update: 31.12.2017 10:40:35 PM
সীমাহীন জালিয়াতি করে ভোট চাওয়া জনগণের সঙ্গে প্রতারণা : বিএনপিদিনকাল রিপোর্ট : মুক্তিযুদ্ধ ও গণতন্ত্রের সাথে বিশ্বাসঘাতকেরাই আজ ক্ষমতায় বলে মন্তব্য করেছে বিএনপি। আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, ঔপনিবেশিক শক্তির মতো দেশের মানুষকে শোষণ করছে ভোটারবিহীন সরকার। নৌকা প্রতীকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভোট চাওয়া জনগণের সাথে তামাশা। প্রধানমন্ত্রীর আবার ভোট চাওয়ার দরকার কী? তার তো ভোট চাওয়ার দরকার নাই। উনি তো জনগণকেই তালাক দিয়েছেন, ত্যাজ্য করেছেন, বিচ্ছেদ ঘটিয়েছেন। ভোট জালিয়াতির পর প্রধানমন্ত্রীর ভোট চাওয়া জনগণের সাথে তামাশা ছাড়া আর কিছুই না। গতকাল রবিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে রাজশাহী ইউনিভার্সিটি ন্যাশনালিস্ট এক্স স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে ‘রক্তঝরা মতিহার: মৃত্যুঞ্জয়ী রুহুল কবির রিজভী’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। আবদুল মঈন খান বলেন, আজকের সরকার কী করছেন? তারা শাসন করছেন, শোষণ করছেন। তাদের যে কার্যকলাপ আমাদের গ্রামের লোকেরা যারা অত্যন্ত বৃদ্ধ, যারা ব্রিটিশ শাসন দেখেছেন তাদেরকে যখন জিজ্ঞাসা করি তারা বলেন, একটি ঔপনিবেশিক শক্তিও কোনোদিন দেশের মানুষকে শাসন বা শোষণ করে নাই। যেভাবে আজকের সরকার করছে। যেখানে গণতন্ত্র নাই, সভ্যতা নাই। আমরা বলতে চাই, জনগণ একটি দল বা প্রতিনিধিকে নির্বাচিত করে দেশ শাসন করার জন্য নয়, দেশ পরিচালনা করার জন্য সুষ্ঠুভাবে, নিরপেক্ষভাবে, ন্যায়সঙ্গতভাবে। যাতে দেশের মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করা যায়। এটাই হচ্ছে গণতন্ত্র ও সভ্যতার মূল বক্তব্য। : সরকারের সমালোচনা করে মঈন খান বলেন, আমি মাঝেমধ্যে পত্রিকায় দেখি, বাংলাদেশ নাকি বিশ্বের রোল মডেল? কিসের রোল মডেলÑ বলতে কী লজ্জা হয় না। আমরা গণতন্ত্রকে হত্যা করেছি, আমরা উন্নয়নের নামে এদেশে দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দিয়েছি। আমরা এদেশের দরিদ্র মানুষের উন্নয়নের নামে গুটিকয়েক মানুষ যারা সরকারের উপর নির্ভরশীল তাদের উন্নয়ন নিশ্চিত করেছি। তারপর আমরা কোন লজ্জায় বলি বাংলাদেশ বিশ্বের রোল মডেল? এসব কথা বলতে হবে। আর চুপ করে থাকলে চলবে না। : বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, যশোরের জনসভায় নৌকা প্রতীকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভোট চাওয়া ‘জনগণের সাথে তামাশা’। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনার আবার ভোট চাওয়ার দরকার কী? আপনি তো গত ২৮ ডিসেম্বর একটা অদ্ভুত নির্বাচন করলেন, ভোটাররা নাই, ভোটাররা যাওয়ার আগেই ব্যালট বাক্স পূর্ণ হয়ে গেছে, নৌকা মার্কায় সিল পড়ে গেছে। আপনার তো ভোট চাওয়ার দরকার নাই। উনি (শেখ হাসিনা) বিশ্ববাসীকে দেখাতে চান যে, প্রধানমন্ত্রী তো। ভোট চাইলে পরে বিশ্ববাসী জানবে যে, সামনে একটি নির্বাচন হচ্ছে সেখানে প্রধানমন্ত্রী ভোট চেয়ে বেড়াচ্ছেন। উনি তো জনগণকেই তালাক দিয়েছেন, ত্যাজ্য করেছেন, বিচ্ছেদ ঘটিয়েছেন। এটা প্রধানমন্ত্রীর তামাশা ছাড়া আর কিছুই না। : রিজভী বলেন, মানুষ বিশ্বাস করে একটা অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন হবে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে। তিনি (শেখ হাসিনা) তার ক্রেডিবিলিটি হারিয়েছেন তার অধীনে নির্বাচন করার।  আজকে প্রধানমন্ত্রী যদি জরিপ করেন ১% ফলাফলও আসবে না তার অধীনে নির্বাচন করতে। মানুষ চায় নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হোক। : শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের সমালোচনা করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, শিক্ষামন্ত্রী সহনীয় মাত্রায় দুর্নীতির কথা বলছেন। হয়তো ক্ষোভে মুখ ফসকে উনি (শিক্ষামন্ত্রী) একটা কথা বলে ফেলেছেন যে, সহনীয় মাত্রায় ঘুষ খান। কিন্তু এটাকে সাবস্টেইসিয়েট করার জন্য তিনি অতীত থেকে প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার উদাহরণ বের করার চেষ্টা করছেন। মানে অনৈতিকতা কত তীব্র হলে পরে ১৯৬১ সালেও প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে বলে উনি বলতে পারেন। বাহ! তিনি (শিক্ষামন্ত্রী) যে অনৈতিক কথা বলেছেন, তিনি যে অন্যায় কথা বলেছেন সেটিকে জাস্টিফাইড করার জন্য অতীত থেকে উদাহরণ খুঁজে নিয়ে আসার চেষ্টা করছেন। এটাই হচ্ছে শিক্ষামন্ত্রী ও তার সরকারের অবস্থা যাদের কোনো জবাবদিহি করতে হয় না জনগণের কাছে। : তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, শিক্ষামন্ত্রী সহনীয় মাত্রায় দুর্নীতির কখা বলছেন। তাহলে ওবায়দুল কাদের (আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক) ছাত্রলীগকে কী বলবেন? তোমরা সহনীয় মাত্রায় নির্যাতন করো, সহনীয় মাত্রায় সন্ত্রাস করো। আর অন্য নেতারাও একের পর এক বলতে থাকবে, কেউ বলবে যে, সহনীয় মাত্রায় লুটপাট করো, কেউ বলবে যে, সহনীয় মাত্রায় অন্যের জমি দখল করো। এটাই ক্ষমতাসীনরা প্রতিষ্ঠিত করেছে। : আয়োজক সংগঠনের সভাপতি অধ্যক্ষ বাহাউদ্দিন বাহারের সভাপতিত্বে ও মল্লিক মো. মোজাম্মেল কবীরের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন নবী খান সোহেল, নির্বাহী কমিটির সদস্য অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম, রমেশ চন্দ্র দত্তসহ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাবেক নেতৃবৃন্দ। :





প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

সুজন নেতৃবৃন্দ বলেছেন, রংপুরের ভোট নিয়ে ইসির নিরপেক্ষতা ও গ্রহণযোগ্যতা বিচার করা ঠিক হবে না। আপনি কি একমত?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
7440 জন