অনশনের দ্বিতীয় দিনে ১৩ শিক্ষক অসুস্থ
Published : Tuesday, 2 January, 2018 at 12:00 AM
দিনকাল রিপোর্ট : এমপিওভুক্তির দাবিতে আমরণ অনশনের দ্বিতীয় দিনে ১৩ শিক্ষক অসুস্থ হয়েছেন। তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গতকাল প্রেসক্লাবের সামনে নন-এমপিও শিক্ষক- কর্মচারী ফেডারেশনের সভাপতি অধ্যক্ষ গোলাম মাহমুদুন্নবী (ডলার) বলেন, ‘আমাদের দ্বিতীয় দিনের মতো অনশন চলছে। এ পর্যন্ত তের জন শিক্ষক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাদের ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করা হয়েছে। এমপিওভুক্তির দাবিতে গত ২৬ ডিসেম্বর থেকে টানা অবস্থান কর্মসূচি পালন করে শিক্ষকরা। কিন্তু এতে কোনো সাড়া না পাওয়ায় ৩১ ডিসেম্বর থেকে আমরণ অনশনে যায় তারা। অনশনের দ্বিতীয় দিনে অসুস্থ ১০ জনকে  ঢাকা মেডিকেল কলেজে ভর্তি করা হয়েছে। আর তিন জনকে প্রেসক্লাবের সামনেই স্যালাইন দেয়া হচ্ছে। অসুস্থ শিক্ষকরা হলেন নান্নু মিয়া, পাবনা; এবিএম বুলবুল, নড়াইল; মো ফরহাদ, কুড়িগ্রাম; বজলুর রহমান, বরিশাল; আব্দুল খালেদ, ঠাকুরগাঁও; আ রাজ্জাক, কুষ্টিয়া; মতিউর রহমান, নাটোর; মাহবুবুর রহমান, বরিশাল; ফজলুর রহমান, বরিশাল; রোমানা আক্তার, ঝালকাঠি; আকবর আলী, ঠাকুরগাঁও; গোলাম মোস্তফা, সিরাজগঞ্জ। : গোলাম মাহমুদুন্নবী ডলার বলেন, ‘শিক্ষকদের এটা বৈধ দাবি। যতক্ষণ পর্যন্ত আমাদের দাবি পূরণ হবে ততক্ষণ আমরা আমরণ অনশন চালিয়ে যাব। প্রয়োজনে শিক্ষকরা এই রাজপথে আত্মাহুতি দেবে, তবুও এমপিও ছাড়া ফিরে যাবে না।’ : ডলার বলেন, ‘এমপিওভুক্তি না করলে আমরা কি বিনা পারিশ্রমিকে পাঠদান করাবো? বেতন ছাড়া শিক্ষকরা দৈন্য দশায় রয়েছে। আমরা আশা করবো সরকার আমাদের এমপিওভুক্ত করে শিক্ষকদের মানবিক বিপর্যয় থেকে রক্ষা করবেন।’ : শিক্ষক নেতৃবৃন্দ আশা প্রকাশ করেন, অচিরেই প্রধানমন্ত্রী সকল স্বীকৃতিপ্রাপ্ত নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান একসাথে এমপিওভুক্তির ঘোষণা দেবেন। এছাড়া তিনি বলেন, নতুন বছরে ছাত্রদের হাতে নতুন বই তুলে দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। বছরের শুরুতে শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দিচ্ছেন যে শিক্ষামন্ত্রী তিনি শিক্ষকদের আনন্দ দিতে জানেন না। শিক্ষকদের নিরানন্দে রেখে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আনন্দ থাকে না। ছাত্ররাও আনন্দে নেই। এবার আমরা সেই আনন্দে থাকতে পারিনি। কারণ আমরা দীর্ঘদিন নিরানন্দে। আমরা বিনা  বেতনে নিয়োজিত আছি। আমাদের বেতন দেয়ার ব্যাপারে সরকারের ভ্রƒক্ষেপ নেই। নূর-ই মাহমুদা নামে এক শিক্ষিকা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমরা তো এখানে আসতে চাইনি। আমাদের এখানে কারা আসতে বাধ্য করেছে। আমরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গেই থাকতে চাই। কিন্তু সে পরিবেশ রাখা হয়নি। :  তিনি বলেন, আমাদের সন্তানদের মানুষ করতে কষ্ট হয়, সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছি। বিনা বেতনে আর কতদিন? আমাদেরও তো জীবন? এটা একটু ভাবলেই সমাধান আসে। : নতুন বছরের প্রথম দিন  গতকাল সোমবার রাজধানীর আজিমপুর গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষা মন্ত্রণালয় আয়োজিত জাতীয় ‘পাঠ্যপুস্তক উৎসব-২০১৮’ উদযাপন অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, আমরা গরিব হতে পারি কিন্তু মেধার দিক থেকে গরিব নই। আমাদের শিক্ষার্থীদের বিশ্বজুড়ে সুনাম রয়েছে। বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার অনেক অগ্রগতি হয়েছে। : শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, এ বছর সারাদেশে বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের হাতে ৩৫ কোটি ৪২ লাখ ৯ হাজার ১৬০টি বই তুলে দেয়া হবে। বাংলাদেশ এখন অনেক এগিয়েছে। এছাড়া ৯ হাজার প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীকে ব্রেইল বই এবং ৫টি নৃ-গোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের মাতৃভাষার বই দেয়া হবে। : শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যের রেশ ধরে কুষ্টিয়া থেকে আন্দোলনে অংশ নেয়া শিক্ষক আনিসুর রহমান বলেন, বই কাদের হাতে তুলে দেব? সেই বই কারা পড়াবে? যারা পড়াবে তারা আজ অভুক্ত। সরকার, মন্ত্রণালয় আমাদের অভুক্ত রেখেছে। শিক্ষকরা অশান্তিতে থাকলে শিক্ষালয়ে কি আনন্দ থাকে? : ফাউন্ডেশনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যক্ষ গোলাম মাহমুদুন্নবী ডলার বলেন, আশা করছি আন্দোলন সফলতা পাবে। যদিও সংশ্লিষ্ট কেউ এখনও আশ্বাস কিংবা সাক্ষাৎ দেননি। : ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ বিনয় রায় বলেন, শিক্ষকরা মানুষ গড়ার কারিগর। অথচ তারাই মানবেতর জীবনযাপন করছে। এ লজ্জা কার? আমরা অপেক্ষায় আছি। সরকার আমাদের দিকে চাইবে। সরকার নমনীয় হবে। আমাদের উদারতা, ভদ্রতাকে দুর্বল ভাবলে ভুল হবে। জীবন যাবে কিন্তু দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা এবার ঘরে ফিরব না। শিক্ষকদের আমরণ অনশন কর্মসূচিতে গতকাল অংশ নিয়ে সংহতি প্রকাশ করেছেন সিপিবি সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স ও বারডেম হাসপাতালের অধ্যাপক এম এ সাঈদ। : :





প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

বিশিষ্টজনেরা বলেছেন, ৫ জানুয়ারির মতো বিতর্কিত নির্বাচন হলে দেশে বিপর্যয় নেমে আসবে। আপনিও কি একমত?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
34668 জন