গণতন্ত্র হত্যা দিবসে ঢাকায় সমাবেশ সারাদেশে কালো পতাকা মিছিল
Published : Tuesday, 2 January, 2018 at 12:00 AM, Update: 01.01.2018 11:04:44 PM
গণতন্ত্র হত্যা দিবসে ঢাকায় সমাবেশ সারাদেশে কালো পতাকা মিছিলদিনকাল রিপোর্ট : ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির একতরফা নির্বাচনের বর্ষপূর্তির দিনে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশের পাশাপাশি সারাদেশে জেলা-উপজেলা সদরে কালো পতাকা মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। গতকাল সোমবার দুপরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রহুল কবির রিজভী এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, আজকের ভোটারবিহীন সরকার গায়ের জোরে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি একতরফা নির্বাচন করে গণতন্ত্রকে হত্যা করে। বিএনপি এই দিবসটিকে গণতন্ত্র হত্যা দিবস, গণতন্ত্র অপহরণ দিবস হিসেবে পালন করে আসছে। আমরা ঢাকা মহানগরীতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির উদ্যোগে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করার কর্মসূচি ঘোষণা করেছি। একই সঙ্গে আগামী ৫ জানুয়ারি সারাদেশে জেলা, মহানগর, উপজেলা সদরে কালো পতাকা মিছিল অনুষ্ঠিত হবে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশের অনুমতির বিষয়ে জানতে চাইলে রিজভী বলেন, আমরা পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অনুমতি চেয়েছি। গত পরশুদিন এই চিঠি দেয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত তাদের কাছ থেকে কোনো কথা জানতে পারিনি। তবে ৫ জানুয়ারি আমরা জনসভা অনুষ্ঠানের সব প্রস্তুতি রাখছি। : রিজভী বলেন, গেল বছর সারা বিশ্বে হানাহানি, যুদ্ধ, সংঘাত, রক্তপাতের পাশাপাশি মানবজাতির নানা অগ্রগতিরও খবর পাওয়া গেছে। বিচ্ছেদ, বিনাশ, ব্যবধানের মধ্যেও বিশ্বের সৃষ্টিশীল মানবিক মানুষ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন মানুষকে রক্ষা করার। বাংলাদেশের মতো কিছু দেশ গণবিরোধী সরকারের উৎপীড়নে, পরাধীনতা ও অধঃপতনের শেষ সীমান্তে গভীর দুর্গতির মধ্যে এসে পড়েছে। ‘এক আইন, এক প্রভু হলে স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের পক্ষে ভয়ঙ্কর সঙ্কট’। বাংলাদেশের গণতন্ত্র লাল দেয়ালের অভ্যন্তরে বন্দি। গণতন্ত্রে অপরিহার্য শর্ত হলো বিরোধী দল। প্রধান বিরোধী দল বিএনপি সরকারি নির্যাতনে আক্রান্ত। গেল বছরেও জনগণের অগ্রযাত্রাকে ক্ষমতাসীন গোষ্ঠী বলপূর্বক প্রতিহত করেছে। গণতন্ত্রে স্বীকৃত সভা-সমাবেশকে তারা বানচাল করেছে। কন্ঠরোধ করার জন্য গণমাধ্যম থেকে শুরু করে নানা চিন্তা, মত ও বিশ্বাসের মানুষের ওপর নেমে এসেছে সরকারের নানা প্রকার আক্রমণের আঘাত। : তিনি বলেন, বিএনপির শীর্ষ পর্যায় থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যন্ত নেতাকর্মীরা বিভিন্ন মিথ্যা ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক মামলায় জর্জরিত। জাতীয়তাবাদী শক্তির প্রতীক এ সময়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে ভুয়া ও জালিয়াতি করে সাজানো মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করার জন্য প্রতি সপ্তাহে কয়েকদিন আদালতে হাজিরা দিতে হচ্ছে। এছাড়াও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান, বিএনপি মহাসচিব, জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যবৃন্দসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকে প্রায় সারাবছরই আদালতে হাজিরা দিতে ব্যস্ত থাকতে হয়েছে। সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের প্রতি অপপ্রচার, মিথ্যা কথা, কলঙ্ক লেপন, অশ্রাব্য-কুশ্রাব্য ভাষা ব্যবহার ইত্যাদি অব্যাহত ছিল। : গত বছর গুম, গুপ্তহত্যা, বিচার বহির্ভূত হত্যার ছড়াছড়ি ছিল বলে মন্তব্য করে বিএনপির এই নেতা বলেন, গুম থেকে রেহাই পাননি রাজনৈতিক নেতা, রাজনৈতিক বিশ্লেষক, সাংবাদিক, ব্যাংকার, কূটনীতিক, ব্যবসায়ী, ছাত্র তথা বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। ক্ষমতাসীনরা নিজেদের অঙ্গ সংগঠনগুলোকে বিষাক্ত সরীসৃৃপে পরিণত করেছে। তারা গোক্ষুরের মতো ঘৃণায় অন্যের জমি দখল, বাড়ি দখল, টেন্ডারদখল, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সাধারণ মানুষ এবং রাজনৈতিক বিরোধীদের ওপর হামলা করেছে। তারপরেও বিএনপি সর্বংসহা শক্তিতে বলীয়ান হয়ে নানা উৎপীড়ন সহ্য করে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে আপোসহীন থেকে রাজনৈতিক কর্মকান্ড পরিচালনা করেছে। : সংবাদ সম্মেলনে রিজভী বলেন, বিএনপি এখনও অনির্বাণ শক্তিতে গণতন্ত্রের শুদ্ধ, ঋদ্ধ, মুক্ত ও ব্যপ্ত পরিমন্ডল নির্মাণ করতে অঙ্গীকারাবদ্ধ। তবে বিএনপি কখনোই হিংসার ভিতরে লুকিয়ে থাকা প্রতিহিংসার প্রবল প্রতাপের রাজনীতিতে বিশ্বাসী দল নয়। বিএনপি এদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের শুধুমাত্র পথিকৃৎ নয়, অগ্রপথিক। ক্ষমতাসীনদের সৃষ্ট নৈরাজ্যের অন্ধকারে মানুষের সম্মান ধূলিধুসরিত। কিন্তু এর মধ্যেও অসাধারণ কিছু দৃষ্টান্ত আমাদেরকে উদ্বুুদ্ধ করে। বিষাক্ত ছোবলের মধ্যেও আমাদেরকে এগিয়ে যেতে প্রেরণা যোগায়। কয়েকদিন আগে রাজশাহীতে ক্ষুধার্তক্লিষ্ট দুটি শিশু চলন্ত ট্রেন থামিয়ে এক বড় দুর্ঘটনা ঠেকিয়ে দেয়। এটি যেন দেশের হৃদয়ে রৌদ্রঝলসিত বেঁচে থাকবার প্রতিধ্বনি। গোটা জাতির জন্য এটি একটি শুভ ইংগিত। : ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, গতকাল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেছেন- “নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে বিএনপির পরাজয় নিশ্চিত”। যদি তাই হয় তাহলে ওবায়দুল কাদের সাহেবরা নিরপেক্ষ নির্বাচন দিতে ভয় পান কেন? ভোটারবিহীন নির্বাচনের মাধ্যমে দেশকে গণতন্ত্রহীনতার গভীর খাদের দিকে ঠেলে দিলেন কেন? বর্তমান ভোটারবিহীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে তাদের গণবিরোধী কার্যক্রমে গোটা দেশ আজ অন্ধকারে নিমজ্জিত। নানা কেলেঙ্কারির হোতা বর্তমান সরকার এবং ‘বাহিরে ফিটফাট, ভিতরে সদরঘাট-নির্বাচন কমিশন’-এর অধীনে কখনোই অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে না। বছরের প্রথম দিনে জনগণের প্রত্যাশা নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে আগামী জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত করতে হবে। ক্ষমতার ঘাড়ে রাবিশদের বসালে দেশ রসাতলে যেতে বাধ্য। কারণ অবৈধ ক্ষমতার মোহে রাবিশ ও জঞ্জালরা এমনভাবে ভিড় করেছে যে, গোটা জাতি তাদের হাত থেকে এখন পরিত্রাণ পাওয়ার জন্য হা-হুতাশ করছে। একমাত্র নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে বহুদলীয় গণতন্ত্র ফিরে পাওয়ার মাধ্যমেই জনগণ নির্বোধ-রাবিশদের হাত থেকে নিজেদের স্বাধীনতা ফিরে পাবে। : তিনি আরো জানান, চিতলমারী উপজেলার সদর ইউপি বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক মোঃ আওলিয়া, সিবপুর ইউপি বিএনপির সভাপতি নবাব আলী, সাংগঠনিক সম্পাদক লিটনকে গতকাল পুলিশ গ্রেফতার করেছে। চিতলমারী উপজেলা বিএনপির সভাপতি মমিনুল হক টুলু, সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব, ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া এবং ছাত্রদল নেতা শরিফুল আলম অপুর বাসা পুলিশ তল্লাশির নামে আসবাবপত্র ভাঙচুর করেছে।  চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে র‌্যালি করার প্রস্তুতিকালে পুলিশ ব্যাপক লাঠিচার্জ করে। এতে জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক অহিদুজ্জামান ভোলা, জেলা ছাত্রদলের আহবায়ক শরিফুজ্জামান সিজারসহ অর্ধশতাধিক নেতৃবৃন্দ আহত হয়। আমি বিএনপি নেতাকর্মীদের গ্রেফতারের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে তাদের বিরুদ্ধে বানোয়াট মামলা প্রত্যাহার ও নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করছি। পুলিশের ব্যাপক লাঠিচার্জে ছাত্রদলের আহত নেতৃবৃন্দের আশু সুস্থতা কামনা করছি। : সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়াপারসন অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক  মীর সরফত আলী সপু, সহ-দফতর বিষয়ক সম্পাদক মুনির হোসেন, নির্বাহী কমিটির সদস্য শামসুজ্জামান সুরুজ, অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম প্রমুখ। : :





প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

বিশিষ্টজনেরা বলেছেন, ৫ জানুয়ারির মতো বিতর্কিত নির্বাচন হলে দেশে বিপর্যয় নেমে আসবে। আপনিও কি একমত?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
34685 জন