নীলফামারীতে সরিষার বাম্পার ফলনে উচ্ছ্বসিত  কৃষকের প্রত্যাশা
Published : Wednesday, 3 January, 2018 at 12:00 AM
ফজল কাদির, নীলফামারী : নীলফামারীতে এবার চলতি রবি মৌসুমে রেকর্ড পরিমাণ সরিষার আবাদ হয়েছে। এ মৌসুমে সরিষা চাষ লাভজনক হওয়ায় আবাদে মনোযোগ দিয়েছে এলাকার কৃষকরা। এছাড়া আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় চাষিরা ভাল ফলন পাওয়ার আশা করছেন। সদর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, এবারে চলতি মৌসুমে উপজেলায় ১ হাজার ৮৪০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ ছিল।  কিন্তু লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অর্জিত জমির পরিমাণ ২ হাজার ১০০ হেক্টর। উফশী জাতের সরিষা চাষ করা হয়েছে। এ ছাড়াও টলি-৭ ও সম্পদ জাতের সরিষা রয়েছে। মাঠে মাঠে শুধুই যেনো হলুদের সমারোহ। গুনগুন করছে মৌমাছি। সরিষার ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করতে ব্যস্ত মৌমাছির ঝাঁক। এদিকে কম খরচে বেশি লাভের আশায় কৃষকরা এবার বোরো ধানের জমিতে আগাম জাতের ও অধিক ফলনশীল তেল জাতীয় এই ফসলের চাষ করছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে সরিষার বাম্পার ফলনের আশা করছেন তারা। নীলফামারী সদরের রামনগর ইউনিয়নের বিশমুড়ি এলাকার কৃষক আশরাফ আলী বলেন, কয়েক দফা বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে তারা জমিতে আগাম জাতের সরিষার আবাদ করছেন। তিনি বলেন, ধানের দামের দরপতনের কারণেই প্রতি বছরই তাদের লোকসান গুনতে হচ্ছে। তাই বিকল্প ফসল হিসেবে অন্য ফসলের পাশাপাশি তারা সরিষা চাষের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। একই এলাকার (ইউনিয়নের) বাহালীপাড়ার সরকারপাড়া গ্রামের বাবুল হোসেন বলেন, চলতি মৌসুমে দুই বিঘা জমিতে সরিষার আবাদ করেছেন। সরিষা তুলে নিয়ে ওই জমিতে বোরো ধান লাগাবেন। সরিষার ফসল থেকে উপার্জিত আয় বোরো ধান উৎপাদনে সহায়ক হবে বলে দাবি করেন তিনি। উপজেলার টুপামারী ইউনিয়নের চৌধুরীপাড়া গ্রামের খোকন মিয়া বলেন, আগাম জাতের সরিষার অর্জিত অর্থ দিয়ে বোরো ধানের খরচ চালানো সহজ হবে। এছাড়াও সরিষা চাষে সার কম প্রয়োগ করতে হয়। সেচ, কীটনাশক ও নিড়ানি লাগে না। একেবারই খরচ কম ও স্বল্প সময়ে এ ফসল ঘরে তোলা যায়। বর্তমান বাজারে দামও ভাল। : সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাজেদুল ইসলাম বলেন, চলতি মৌসুমে উপজেলায় রেকর্ড পরিমাণ জমিতে সরিষার চাষ করা হয়েছে। তিনি বলেন, দেশে কয়েক দফা বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে কৃষকরা সরিষা চাষের প্রতি ঝুঁকে পড়েছেন। তবে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে সরিষার আবাদ থেকে কৃষকরা বাড়তি মুনাফা আয় করতে পারবেন বলে আশা করেন তিনি। চলতি বছর বিঘাপ্রতি সরিষার পরিমাণ ধরা হয়েছে ৬ মণ। : :





দেশের পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, ২০১৮ সালে জনগণের বিজয় হবেই। আপনিও কী তাই মনে করেন?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
8676 জন