টাকা ছাড়া মেলেনি বিনামূল্যের পাঠ্যবই
Published : Wednesday, 3 January, 2018 at 12:00 AM
দিনকাল রিপোর্ট : দেশের বিভিন্ন জেলায় বিনামূল্যের বই টাকা ছাড়া মিলছে না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এমনকি টাকা দিতে না পারায় এখনও বই প্রদান করা হয়নি বলেও অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা । : গাজীপুর : গাজীপুর সদর উপজেলার এক মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে টাকা আদায় করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিনামূল্যে নতুন পাঠ্যবই দেয়াসহ নানা অনিয়মের অভিযোগের প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি। এ জন্য শিক্ষা কর্মকর্তা আনন্দ ভৌমিককে গাজীপুর থেকে প্রত্যাহারসহ বিভাগীয় শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি। জেলা প্রশাসকড. দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ুন কবীর জানান, ১ জানুয়ারির বই উৎসব পালনের আগে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে উপজেলা শিক্ষা অফিসের মাধ্যমে বিনামূল্যের সরকারি পাঠ্যবই বিতরণ করা হচ্ছিল। সেসব বই সরবরাহের আগে গাজীপুর জেলা কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশনের নেতাকর্মীদের মাধ্যমে গাজীপুর সিটির ৫৭ ওয়ার্ডে ৫৭ প্রতিনিধি নিযুক্ত করে গাজীপুর সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কয়েক দফায় টাকা আদায়ের অভিযোগ ওঠে। গত বৃহস্পতিবার জয়দেবপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের গুদাম থেকে বই সরবরাহের আগে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান ও প্রতিনিধিদের কাছে ফের টাকা দাবি করলে শিক্ষকরা প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেন। পরে বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকায় এ সংক্রান্ত খবর প্রকাশ হয়। এ প্রেক্ষিতে ওইদিনই গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) খন্দকার ইয়াসির আরেফিন, গাজীপুর জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রেবেকা সুলাতানা এবং গাজীপুর জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার (শিক্ষা) ফারজানা নাসরিনের মাধ্যমে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। সোমবার দুপুরে তারা তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। তদন্তে টাকা গ্রহণ ছাড়াও তার বিরুদ্ধে ক্রমাগত নানা দুর্নাম-দুর্নীতি ও অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এছাড়া একদিনে প্রশাসনকে না জানিয়েই গুদাম থেকে ৭৪২টি প্রতিষ্ঠানে বই সরবরাহ করতে গিয়ে ব্যবস্থাপনার ত্রুটি সৃষ্টি করেছে, যা সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ করেছে। প্রতিবেদনে শিক্ষা কর্মকর্তা আনন্দ ভৌমিককে গাজীপুর থেকে প্রত্যাহারসহ বিভাগীয় শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি। গতকাল মঙ্গলবার ওই সুপারিশসহ প্রতিবেদনটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। : বরিশাল : টাকা ছাড়া মিলছে না সরকারের বিনামূল্যের নতুন বই। মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কৌশলে টাকা গ্রহণের মাধ্যমে বই বিতরণের অভিযোগ উঠেছে স্কুলশিক্ষকদের বিরুদ্ধে। যারা স্কুলের ধার্যকৃত টাকা দিতে পারেনি সেসব শিক্ষার্থীর বই দেয়া হয়নি। তাই নতুন বছরের প্রথম দিন স্কুলে এসেও খালি হাতে ফিরতে হয়েছে শিক্ষার্থীদের। এ ঘটনায় এলাকার দরিদ্র অভিভাবকদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি জেলার আগৈলঝাড়া ও গৌরনদী উপজেলার। সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, প্রতি বছর ১ জানুয়ারি সরকার বিনামূল্যে বই বিতরণ উৎসব পালন করছে। সরকারের এ মহান উদ্যোগকে মøান করে দিয়েছে আগৈলঝাড়া ও গৌরনদী উপজেলার কয়েকটি মাধ্যমিক স্কুলের শিক্ষকরা। সূত্রমতে, আগৈলঝাড়ার উপজেলার পয়সা মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজের অষ্টম শ্রেণির ৩৩ রোল নং এর শিক্ষার্থী আঁখি আক্তারের মা সাফিয়া বেগম অভিযোগ করেন, স্কুলের ধার্যকৃত টাকা দিতে না পারায় তার মেয়ে ১ জানুয়ারি সকালে স্কুলে গিয়েও বই না পেয়ে খালি হাতে বাড়ি ফিরে এসেছে। একই অভিযোগ করেছেন অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী ২৫ রোলধারী চাঁদনী আক্তারের অভিভাবক রাবেয়া বেগম। এভাবে অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে টাকা না দেয়ায় বই না পাওয়া শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে এ বিষয়ে তিনি খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলেও উল্লেখ করেন। এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক মো. হাবিবুর রহমান জানান, বই উৎসবের দিন স্কুলে কোনো টাকা নেয়া ঠিক নয়। কোনো স্কুল টাকা নিলে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্ব স্ব উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। : বরগুনা : টাকা না দেয়ায় বছরের প্রথম দিন বিনামূল্যে বই পায়নি বরগুনার একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী। এতে ক্ষুব্ধ গরিব অসহায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। তবে এমন অভিযোগ মানতে নারাজ বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক। অবশ্য জেলা প্রশাসক বলছেন, তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে। ১ জানুয়ারি সোমবার সকালে জেলা শিক্ষা অফিসার গুদিঘাটা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বই দিতে এলে, বিতরণে টাকা নেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন কয়েকজন অভিভাবক। তাদের কথার কর্ণপাত না করেই শিক্ষকদের মনোনীত শিক্ষার্থীদের বই দিতে থাকেন তিনি। এ সময় তার সামনেই অভিযোগকারী অভিভাবক ও সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হয়ে ক্যামেরা ভাঙার চেষ্টা করেন বিদ্যালয়ের সভাপতি রিপন। গুদিঘাটা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি রিপন বলেন, ‘এই ঘটনায় কোনো ফ্যাক্টর বলে কিছু নেই। তুমি যদি কিছু করতে পারো করো।’ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগ, প্রাইভেট না পড়লে পাস করা যায় না আর টাকা ছাড়া বই দিচ্ছেন না শিক্ষকরা। শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘আমি বই আনতে গেছি, আমার কাছে ৭শ টাকা চেয়েছে। টাকা না দিলে বই দেবে না আমাকে। আমি স্কুলে গেছিলাম কিন্তু টাকা না দিতে পারায় বই দেয় নাই। পরীক্ষার আগে স্যারেরা কয় প্রাইভেট পড়লে পাস করবে আর না পড়লে করবে না।’ অভিভাবকরা বলেন, ‘বই কেনার যদি তৌফিক থাকত তাইলে সরকারি স্কুলে কেন দিলাম।’ বরগুনা জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শাহাদাত হোসেন বলছেন, অভিভাবকদের অভিযোগ পেয়েছেন তিনি। তবে যারা উপস্থিত ছিল তাদের সবাইকেই বই দেয়া হয়েছে। আর প্রধান শিক্ষকের দাবি, কোনো টাকাই চাননি তিনি। বরগুনা গুদিঘাটা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘যারা ছিল তাদের সবাইকে বই দেয়া হয়েছে। আমার জানামতে কেউ ফিরে যায়নি।’ অবশ্য জেলা প্রশাসক জানালেন, টেলিফোনে অভিযোগ শুনে শিক্ষা কর্মকর্তাকে পাঠিয়েছিলেন। আর বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন বরগুনা জেলা প্রশাসক মোখলেছুর রহমান। তিনি বলেন, ‘অভিযোগ পাওয়ার পরে জেলা শিক্ষা অফিসারকে পাঠানো হয় উল্লিখিত বিদ্যালয়ে। তিনি বিষয়টা দেখছেন। এই বিষয়ে সত্যতা থাকলে অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’ গুদিঘাটা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ৪শ শিক্ষার্থী রয়েছে। অনেকের দাবি, তাদের কাছ থেকে সর্বনিম্ন ৫শ ও সর্বোচ্চ ৭শ টাকা নিয়েছেন প্রধান শিক্ষক। : :





প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, ২০১৮ সালে জনগণের বিজয় হবেই। আপনিও কী তাই মনে করেন?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
8683 জন