দেশে মাদক নির্মূলে প্রয়োজন দেখামাত্র গুলি : গণশিক্ষামন্ত্রী
Published : Wednesday, 3 January, 2018 at 12:00 AM
দিনকাল রিপোর্ট : মাদক নিয়ন্ত্রণ নয়, প্রয়োজন নির্মূল। আর মাদক নির্মূলে প্রয়োজন ‘শ্যুট অন সাইট’ (দেখামাত্র গুলি করা)। উন্নত বিশ্বে এটি আছে। যদি মাদক নির্মূলের লক্ষ্যে গৃহীত সিদ্ধান্ত কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা না যায় তাহলে আমার মৃত্যুর একশ’ বছর পরও মাদক নির্মূল সম্ভব হবে না। গতকাল মঙ্গলবার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের ২৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান। রাজধানীর তেজগাঁওস্থ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের প্রধান কার্যালয়ে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। : মন্ত্রী বলেন, আমরা স্বাধীনতার পর থেকে অঙ্গীকার করছি মাদকমুক্ত দেশ গড়বো। এখন তো সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের সাথে মাদক হুমকি হিসেবে দেখা দিচ্ছে। যুদ্ধ করলে, চেষ্টা করলে দেশ ও বিশ্ব থেকে একদিন না একদিন জঙ্গিবাদ দমন হয়ে যাবে। কিন্তু শুধু অঙ্গীকার করলেই মাদক নির্মূল হয় না। এক লাখ নিরাময় কেন্দ্র গড়ে, ইউনিয়ন পর্যায়েও নিরাময় কেন্দ্র গড়াসহ আরও এক লাখ জনবল নিয়োগ দিলেও মাদক নির্মূল সম্ভব নয়। : তিনি বলেন, মাদক নির্মূলে দল-মত নির্বিশেষ সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। আমার তো মনে হয় এ নিয়ে সংসদে ও সংসদের বাইরে ২-৪ মাস আলোচনা হতে পারে। জাতীয়ভাবে আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে মাদক থাকবে কি থাকবে না। সমাজ থেকে মাদকদ্রব্য নির্মূলের জন্য সিদ্ধান্তে আসা প্রয়োজন। এ জন্য দল-মত নির্বিশেষ জাতীয় সংলাপ প্রয়োজন। সংলাপের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কাজ করলে ভয়াবহ এ ব্যাধিকে নির্মূল করা সম্ভব হবে। সমাজ থেকে মাদকের অভিশাপ দূর করতে কে কার ছেলে কিংবা কার মেয়ে মাদকের সঙ্গে জড়িত সেটা বিবেচনায় নিলে চলবে না। বলা হোক, অমুখ তারিখ পর্যন্ত সময় দেয়া হলো, ঈমান ঠিক করেন। এরপর হবে অ্যাকশন। শ্যুট অন সাইট। আমাদের প্রয়োজনে তাই করতে হবে। তিনি বলেন, এই শাস্তির উদ্যোগটিকে অনেকে হয়তো সমালোচনা করতে পারেন। কিন্তু দল-মত নির্বিশেষে মাদক সমস্যাকে যদি এক নম্বর সমস্যা বলে মনে করি, তা হলে এ উদ্যোগটি অবশ্যই নিতে হবে। : মন্ত্রী বলেন, আমি যদি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হতাম, তবে এ উদ্যোগটি অবশ্যই-অবশ্যই নিতাম। মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এ অধিদফতরের নাম মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর। এখন নিয়ন্ত্রণ যারা করবে, সেখানেই যদি ভূত থাকে, তবে নিয়ন্ত্রণটা করবে কে? এ কারণে এখানকার ভূতও তাড়াতে হবে। মন্ত্রী আরও বলেন, মাদক নির্মূলে আমাদের ফর্মুলা আছে। সেটা বাস্তবায়নের জন্য দৃঢ়তা থাকতে হবে। সরকারের সদিচ্ছা আছে। এখন শুধু বাস্তবায়ন। শিক্ষার ক্ষেত্রে নৈতিকতার পাঠ-নির্দেশনা দেয়া হচ্ছে। মাদককে না বলার পাঠ থাকছে। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় কমিটির সভাপতি সংসদ সদস্য টিপু মুন্সি বলেন, দেশে জনসংখ্যার ৭০ লাখ মাদকাসক্ত। এটা আরও বাড়তে পারে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের যে সীমিত ক্ষমতা তা দিয়ে মাদক নির্মূল সম্ভব নয়। এজন্য সকলের ঐকান্তিক সহযোগিতা প্রয়োজন। আমাদের অধিকতর চ্যালেঞ্জ নিতে হবে। অপর বিশেষ অতিথি কারা অধিদফতরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার ইফতেখার উদ্দিন বলেন, কারাগারে আটক ৭০ হাজার বন্দির মধ্যে ২৩ হাজার বন্দি মাদকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। শতাংশের হিসাবে প্রায় ৩০ শতাংশ। বোঝাই যাচ্ছে পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ। : :





প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, ২০১৮ সালে জনগণের বিজয় হবেই। আপনিও কী তাই মনে করেন?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
8667 জন