বিএনপি ছাড়া নির্বাচন হবে না
ছাত্র সমাবেশে বেগম খালেদা জিয়া সংসদ ভেঙে দিয়ে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে
Published : Wednesday, 3 January, 2018 at 12:00 AM, Update: 02.01.2018 11:23:23 PM
বিএনপি ছাড়া নির্বাচন হবে নাদিনকাল রিপোর্ট : সরকার চাইলেও বিএনপিকে বাদ দিয়ে একাদশ নির্বাচন করতে পারবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। গতকাল জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের আয়োজিত এক সমাবেশে বিএনপি চেয়ারপারসন এই হুঁশিয়ারি দেন। : তিনি বলেন, আমরা নির্বাচনী দল, আমরা নির্বাচন করব। বাইরে রাখতে চাইলেই রাখা যাবে না। নির্বাচন করবো আমরা। কিন্তু সেই নির্বাচনটা হতে হবে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে, শেখ হাসিনার অধীনে নয়। আপনারা (সরকার) যদি মনে করেন, আমাদের লোকজন ধরে নিয়ে যাবেন। তারপর নির্বাচন ঘোষণা করবেন, সেটা আর হবে না। ২০১৪ সালের মতো নির্বাচন আর হবে না। এই দেশে নির্বাচন হবে সকল দলের অংশগ্রহণে। বিএনপি সবচেয়ে বড় দল, তাকে (বিএনপি) বাদ দিয়ে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হতে পারে না। কারণ সারা পৃথিবী বুঝে গেছে যে, শেখ হাসিনার অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হয়নি, হবে না। সংসদ ভেঙে দেয়ার দাবি উল্লেখ করে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, শেখ হাসিনার যে সরকার, এই সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার নয়। ভোটে নির্বাচিত নয় বলেই তাদের অধীনে নির্বাচন হতে পারে না। আজকে সংসদ বলে কিছু নাই। শেখ হাসিনারা ক্ষমতায় থাকার জন্য সংসদ রেখে নির্বাচনের ব্যবস্থা করেছিলো। ২০১৪ সালের নির্বাচনে এরা তো ভোটই পায় নাই, এরা সংসদে থাকার যোগ্য নয়। কাজেই সংসদ ভেঙে দিয়েই নির্বাচন দিতে হবে। এই সংসদ রেখে নির্বাচন হবে না। : সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া অভিযোগ করে বলেন, দেশে গণতন্ত্র নেই। আজ দেশ এক ব্যক্তির ইচ্ছা অনুযায়ী চলছে। শেখ হাসিনা যা বলেন সেই অনুয়ায়ী চলে। আসলে কিছু চলছে না। দেশ পিছিয়ে যাচ্ছে। সব কিছু অচল হয়ে যাচ্ছে। আমরা বলতে চাই, এক ব্যক্তির শাসনে তো এদেশে চলতে পারে না। এজন্য দেশের মানুষ মুক্তিযুদ্ধ করিনি, সংসদীয় গণতন্ত্রের জন্য যুদ্ধ করেছিলো। যে অত্যাচার পাকিস্তানিরা করেছে, তার চেয়ে বেশিগুণ অত্যাচার করছে  শেখ হাসিনার সরকার। সদ্য পদত্যাগকারী প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাকে অস্ত্রের মুখে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন বেগম খালেদা জিয়া। : নতুন প্রধান বিচারপতি নিয়োগে বিলম্বের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দেয়া হয় নাই। কাজেই এখনো মতলবটা তাদের ভালো নয়। মওদুদ সাহেব (মওদুদ আহমদ) বলেছেন, একদিনও নাকি ওই পদ খালি রাখা যায় না। কাজেই আমরা বলতে চাই, শেখ হাসিনা যা চাইবেন সেটা না করলে তাকে ক্ষমতা থেকে বিদায় নিতে হবে, তার নামে মামলা হবে, তাকে জেলে যেতে হবে, অত্যাচারিত হতে হবে। : ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের সুশৃঙ্খল ও ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, ঐক্য, ঈমান ও শৃঙ্খলা- এই তিনটি জিনিস তোমাদের মধ্যে থাকতে হবে। তোমাদের আরো সুশৃঙ্খল হতে হবে। তাহলে সব কিছু জয় করা সম্ভব হবে। শুধু শ্লোগান দিলে চলবে না। দেশে জঙ্গির উত্থানের জন্য আওয়ামী লীগকে অভিযুক্ত করেন বেগম খালেদা জিয়া। : তিনি বলেন, নিজেরা বোমা রাখে, অস্ত্র রাখে। তারপর যাকে ইচ্ছা তার বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে তুলে নিয়ে যায়। জঙ্গি সৃষ্টি আওয়ামী লীগ করেছিলো। শাইখ আবদুর রহমান, বাংলা ভাই সব তাদের জ্ঞাতি- গোষ্ঠী। কথায় কথায় কিছু হলে জঙ্গির ভয় দেখায়। : বাংলাদেশে মানুষ জঙ্গি নয়, তারা শান্তিপ্রিয় মানুষ, তারা জঙ্গি হতে চায় না। তাদেরকে মিথ্যা মামলা দিয়ে, মিথ্যা অপবাদ দিয়ে জঙ্গি বানানো হচ্ছে, জঙ্গি বানাচ্ছে তারা (সরকার)। বিদেশিদের কাছে জঙ্গি দেখানো হচ্ছে। : দাড়িওয়ালা-টুপি পরা লোক হলে সে জঙ্গি হয়ে যায়। একজন লোককে যদি একমাস নিয়ে রাখা যায় তাহলে তার দাড়ি এরকম হয়ে যাবে, তার চেহারা এরকম হয়ে যাবে। তাকে ঘুমাতে দেবে না, তাকে খেতে দেবে না তাহলে জঙ্গি বানানো সহজ। এই কাজগুলো তারা করছে প্রতিনিয়ত। মানুষকে ধরে নিয়ে দীর্ঘদিন নিয়ে বন্দি করে রেখে জঙ্গি সাজায়। : আওয়ামী লীগের উদ্দেশে তিনি বলেন, আজকে আমরা বলি, আওয়ামী লীগের সঙ্গে যারা আছেন, যারা থাকবেন তারা একদিন রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যে কাজগুলো করছেন, একদিন তাদের বিরুদ্ধেই মানুষ রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা হবে। কারণ তারা সব কিছু রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে করছে। দেশের এতোগুলো মানুষকে গুম করা, খুন করার কাজ করছে। : পদ্মাসেতুর প্রসঙ্গ টেনে বেগম খালেদা জিয়া বলেন, এখন তারা পদ্মাসেতুর স্বপ্ন দেখাচ্ছে। আওয়ামী লীগের আমলে এই সেতু হবে না। কেননা একটা যদি জোড়াতালি বানায়ও সেই সেতুতে কেউ উঠতে যাবেন না। অনেক রিস্ক আছে। : দেশে উন্নয়নের নামে ক্ষমতাসীনদের লুটপাট ও দুর্নীতি এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্র্ধ্বগতিতে সরকারের ব্যর্থতা তুলে ধরেন বিএনপি চেয়ারপারসন। : ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে অনুমতি দিয়ে অনুষ্ঠান করতে না দেয়ায় ইন্সটিটিউশনের কর্তৃপক্ষের সমালোচনা করেন বিএনপি প্রধান। : রমনা ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে রাতে এই ছাত্র সমাবেশ হয়। জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ৩৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দুপুর ২টায় এই মিলনায়তনে এই অনুষ্ঠান হওয়ার কথা থাকলেও ইন্সটিটিউশনের কর্তৃপক্ষ সুপ্রিম কোর্ট এলাকায় রাষ্ট্রপতির অনুষ্ঠানের কথা বলে মিলনায়তনে তালা ঝুলিয়ে দেয়। দুপুর ২টা থেকে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা ইন্সটিটিউশন প্রাঙ্গণে জড়ো হয়। হাজার হাজার নেতা-কর্মীর উপস্থিতিতে বিকালে সাড়ে ৪টায়  বেগম খালেদা জিয়া অনুষ্ঠানস্থলে এসে পৌঁছালে তুমুল করতালিতে মুখর হয়ে ওঠে। বিএনপি চেয়ারপারসন পাজারো জীপে অবস্থান করেন। : বিকাল ৫টা ২০ মিনিটে ইন্সটিটিউশনের কর্তৃপক্ষ মিলনায়তনে খুলে দেয়। এর সঙ্গে সঙ্গে হাজার হাজার নেতা-কর্মী মিলনায়তনে প্রবেশ করে মঞ্চ সাজানোর কাজটি শেষ করে। বেগম খালেদা জিয়া ১২ মিনিট পরেই মঞ্চে আসেন। : ছাত্রদলের সভাপতি রাজীব আহসানের সভাপতিত্বে ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদের পরিচালনায় সমাবেশে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ, আবদুল মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, আবদুল আউয়াল মিন্টু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আমানউল্লাহ আমান, কেন্দ্রীয় নেতা হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, ফজলুল হক মিলন, শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, কামরুজ্জামান রতন, এবিএম মোশাররফ হোসেন, হাবিবুর রশীদ হাবিব, শফিউল বারী বাবু, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। : অনুষ্ঠানে অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন, শামসুজ্জামান দুদু,  সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, নাজিমউদ্দিন আলম, শিরিন সুলতানা, রেহানা আখতার রানু, শাম্মী আখতারসহ হাজার হাজার নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন। : :





প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, ২০১৮ সালে জনগণের বিজয় হবেই। আপনিও কী তাই মনে করেন?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
8664 জন