শরণখোলায় ডক বন্ধ থাকায় শ্রমিকদের জীবিকা অনিশ্চিত
পরিবার নিয়ে দুর্বিষহ জীবন অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব
Published : Thursday, 4 January, 2018 at 12:00 AM
শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি : শরণখোলায় দুটি ডকইয়ার্ডের শতাধিক শ্রমিক তাদের কর্মসংস্থান হারানোর আশঙ্কায় পড়েছেন। উপজেলা সদর রায়েন্দা বাজার পূর্ব মাথায় অবস্থিত ওই ডকের জমি বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে নির্মানাধীন বেড়িবাঁধের আওয়াতাভুক্ত হওয়ায়  ডক দুটি বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। ফলে ওই ডকের ওপর নির্ভরশীল শ্রমিকরা তাদের পরিবার-পরিজন নিয়ে পড়েছেন চরম অনিশ্চয়তায়। তা ছাড়া ডকইয়ার্ড না থাকলে এ এলাকার বঙ্গোপসাগর ও সুন্দরবনকেন্দ্রিক ব্যবসায়ীরা পড়বেন চরম সংকটে। বিরূপ প্রভাব পড়বে এ অঞ্চলের অর্থনীতিতে। এসব দাবিতে ডক শ্রমিকরা গত মঙ্গলবার দুপুরে রায়েন্দা বাজারে মিছিল শেষে শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর গণস্বাক্ষরিত লিখিত আবেদন জানিয়েছেন তারা। জানা গেছে, উপকূলীয় জেলা বাগেরহাটের সর্ব দক্ষিণে শরণখোলার মানুষ বঙ্গোপসাগর ও সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল। যুগ যুগ ধরে এ অঞ্চলের মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মৎস্য ও বনজ এই দুই প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর নির্ভর করেই তাদের জীবিকা নির্বাহ করে চলেছে। প্রাকৃতিক এ সম্পদ আহরণের জন্য শ’ শ’ নৌকা ও ইঞ্জিনচালিত ট্রলার ব্যবহার করা হয়। তাই এসব নৌকা-ট্রলার তৈরি ও মেরামতের চিন্তা মাথায় রেখে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ নাছির উদ্দিন আকন ১৯৮৫ সালে রায়েন্দা বাজার পূর্ব মাথায় বলেশ্বর নদীর পাড়ে শহীদ মনিরুজ্জামান বাদল ডকইয়ার্ড নির্মাণ করেন। ওই একই এলাকায় মৃত আলহাজ আতাহার আলী ফকির ১৯৯০ সালে গড়ে তোলেন ফকির ডকইয়ার্ড নামে আরেকটি ডক। সেই থেকে এ ডক দুটিতে স্থানীয়রা ছাড়াও উপকূলীয় বিভিন্ন এলাকার নতুন নৌকা-ট্রলার নির্মাণ ও মেরামত কাজ চলে আসছে। বাদল ডকইয়ার্ডের মালিক আলহাজ নাছির উদ্দিন আকন ও ফকির ডকইয়ার্ডের পরিচালক মো. আবুল হোসেন জানান, বেড়িবাঁধের কারণে ডক দুটি অচিরেই বন্ধ হয়ে যাবে। এর ফলে কাজ হারিয়ে শতাধিক শ্রমিক বেকার হয়ে পড়বেন। এসব শ্রমিক পরিবারের ৫ শতাধিক মানুষ পড়বে চরম দুর্ভোগে। তা ছাড়া ডক দুটি বন্ধ হলে এ এলাকার মৎস্য ব্যবসায়ীরা দুর্ভোগে পড়বে। এর ফলে এ অঞ্চলের মানুষের প্রধান জীবিকা মৎস্য ব্যবসারও ক্ষতি হবে। তারা জানান, বেড়িবাঁধ কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসন যাতে ডক দুটি অন্যত্র স্থানান্তর করার সহযোগিতা করে তাহলে শ্রমিকরা বাঁচতে পারবে। ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের পক্ষে বাদল ডকইয়ার্ডের শ্রমিক নেতা লিখন মোল্লা ও ফকির ডকইয়ার্ডের শ্রমিক নেতা সোহাগ হাওলাদার বলেন, দুটি ডকে ১০০-এরও বেশি শ্রমিক রয়েছেন। ডক বন্ধ হয়ে গেলে আমাদের পরিবার নিয়ে না খেয়ে মরতে হবে। আমরা কর্তৃপক্ষের কাছে শ্রমিকদের বিকল্প কাজের সুযোগ সৃষ্টি ও ন্যায্য ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করেছি। মানবাধিকার কমিশনের শরণখোলা উপজেলা শাখার প্রধান উপদেষ্টা আকমল হোসেন আকন বলেন, উপকূলীয় এ শরণখোলাকে রক্ষার জন্য টেকসই বেড়িবাঁধের কোনো বিকল্প নেই। পাশাপাশি সাধারণ শ্রমিকদের ক্ষতির বিষয়টিও দেখতে হবে। ডক দুটি বন্ধ হলে শুধু শ্রকিরাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। এ এলাকার অর্থনীতিতেও মন্দা দেখা দেবে। এলাকার অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে ডক দুটি অন্যত্র স্থানান্তর করে এবং শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা দিয়েই বাঁধ কর্তৃপক্ষের কাজ করা উচিত। শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা  লিংকন বিশ্বাস বলেন, ডক শ্রমিকরা ক্ষতিপূরণ দাবি করে আমার দফতরে একটা লিখিত আবেদন দিয়েছে। ডক দুটি অন্যত্র স্থানান্তর করা যায় কিনা সে ব্যাপারে বিবেচনা করা হবে। তা ছাড়া শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণের জন্য বাঁধ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলাপ করে সমস্যা নিরসনের চেষ্টা করা হবে। : :





দেশের পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

আইনজীবী এ কে মোহাম্মদ আলী বলেছেন, খালেদা জিয়াকে সাজা দিতে জাল ডকুমেন্ট তৈরি করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা। আপনিও কি তাই মনে করেন?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
5856 জন