ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচার দেখলে আমার নিজেরও ভয় লাগে : ওয়াহ্হাব
Published : Thursday, 4 January, 2018 at 12:00 AM, Update: 03.01.2018 10:51:22 PM
দিনকাল রিপোর্ট : নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সময় মতার ব্যবহার উদ্বেগজনক। ভ্রাম্যমাণ আদালত বিনা কারণে কোনো নাগরিককে একদিন জেলে রাখাও সংবিধান সমর্থন করে না। যেখানে পুলিশ থাকতে পারবে না, আর জেল-জরিমানা দিয়ে দেবেন। এই ভ্রাম্যমাণ আদালত নিয়ে আমার (প্রধান বিচারপতি) নিজেরই ভয় লাগে। : গতকাল বুধবার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের সাজা দেয়ার বৈধতা সংক্রান্ত মামলার শুনানির শুরুতেই ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহহাব মিঞা এই মন্তব্য করেন। ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি বলেন, দেশের সাধারণ মানুষের কথা কী বলব, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের সাজা এখন ভয়ানক বিষয় দাঁড়িয়েছে। ভ্রম্যামাণ আদালতের কার্যক্রম অসাংবিধানিক ঘোষণা করে দেয়া হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিলের শুনানিকালে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহহাব মিঞার নেতৃত্বাধীন পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ শুনানি শুরু করেন। গতকাল আদালতে শুনানিকালে উপস্থিত ছিলেন রিট আবেদনকারীর পে ব্যারিস্টার হাসান এম এস আজিম, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পে ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলাম এবং রাষ্ট্রপে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও ডেপুটি অ্যাটর্নি  জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু। : ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহহাব মিঞা বলেন, ভ্রাম্যমাণ আদালত নিয়ে সাধারণ মানুষের কথা আর কী বলব। সবাই থাকেন ভয়ে। এমনকি আমার নিজেরও ভয় লাগে। প্রধান বিচারপতি শুনানিকালে ব্যারিস্টার এম. আমির-উল ইসলামের কাছে আদালত জানতে চান, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট যদি ভ্রাম্যমাণ  আদালতের মাধ্যমে কাউকে সাজা দেন, তাহলে সেই অর্ডারটা এক্সিকিউটিভ অর্ডার না জুডিশিয়াল অর্ডার হবে?  প্রসঙ্গত, গত বছর ১১ জুন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে ভ্রাম্যমাণ  আদালত পরিচালনা সংক্রান্ত ২০০৯ সালের আইনের ১৪টি ধারা ও উপধারা অবৈধ ও অসাংবিধানিক  ঘোষণা করেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে এই আইনে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা অবৈধ ঘোষণাও করা হয়। বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি আশিষ রঞ্জন দাসের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করেন। পরে রাষ্ট্রপরে কয়েক দফা আবেদনের পরিপ্রেেিত রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত রাখেন আপিল বিভাগ। : জানা যায়, ভবন নির্মাণ আইনের কয়েকটি ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগে ২০১১ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর এসথেটিক প্রপার্টিজ ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড নামে একটি প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান খানকে ভ্রাম্যমাণ আদালত ৩০ দিনের বিনাশ্রম কারাদন্ড দেন। ওই বছরের ২০ সেপ্টেম্বর জামিনে মুক্তি পান তিনি। এরপর ভ্রাম্যমাণ আদালত আইন  মোবাইল কোর্ট অ্যাক্ট-২০০৯ কয়েকটি ধারা ও উপধারার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ওই বছরের ১১ অক্টোবর কামারুজ্জামান হাইকোর্টে রিট করেন। প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ২০১১ সালের ১৯ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল দেন। রুলে রিট আবেদনকারীর (কামরুজ্জামান) সাজা কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না- তাও জানতে চাওয়া হয়। পাশাপাশি সাজার আদেশ স্থগিত করা হয়। : এছাড়া ভবন নির্মাণ আইনের কয়েকটি ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগে ২০১১ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর টয়নবি সার্কুলার  রোডে অবস্থিত এক বাড়ির মালিক মো. মজিবুর রহমানকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে ৩০ দিনের বিনাশ্রম কারাদন্ড দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। আইনের বিধান ও অর্থ ফেরতের নির্দেশনা চেয়ে ওই বছরের ১১ ডিসেম্বর রিট করেন মজিবুর। প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ওই দিন হাইকোর্ট রুলসহ সাজার আদেশ স্থগিত করেন। : পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ আদালত আইনের কয়েকটি বিধানের  বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২০১২ সালে ২ মে দিনাজপুরের বেকারি মালিকদের পে মো. সাইফুল্লাহসহ ১৭ জন আরেকটি রিট করেন। এতে বেকারিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার েেত্র খাদ্য বিশেষজ্ঞ ও পরীার জন্য যন্ত্রপাতি সঙ্গে রেখে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নীতিমালা প্রণয়নের নির্দেশনা চাওয়া হয়। শুনানি নিয়ে ওই বছরের ৮ মে হাইকোর্ট রুলসহ অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেন। : রিট আবেদনকারীদের আইনজীবী হাসান এম এস আজিম  সাংবাদিকদের বলেন, রুলে ভ্রাম্যমাণ আদালত আইনের ধারা ৫,৬(১), ৬(২), ৬(৪), ৭, ৮(১), ৯, ১০, ১১, ১৩, ১৫ কেন সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করা হবে নাÑ তা জানতে চাওয়া হয়েছিল। তিন রিট আবেদনের পরিপ্রেেিত হওয়া রুল একসঙ্গে শুনানি হয়। আইনজীবী আজিম বলেন, রিটে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের দিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা ও বিচার করার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। ওই ধারাগুলো সংবিধান, মাসদার হোসেন মামলার রায় ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতার পরিপন্থী। ওই আইনের ৫ ধারায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের মাধ্যমে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার বিষয়ে বলা হয়েছে। এ ছাড়া ৬(১), ৬(২), ৬(৪), ৭, ৮(১),  ৯, ১০ ধারায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা পদ্ধতি, ১১ ধারায়  জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে  দেয়া মতা, ১৩ ধারায় আপিল ও ১৫ ধারায় তফসিল সংশোধনে সরকারকে দেয়া মতার কথা বলা হয়েছে। : : :





প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

আইনজীবী এ কে মোহাম্মদ আলী বলেছেন, খালেদা জিয়াকে সাজা দিতে জাল ডকুমেন্ট তৈরি করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা। আপনিও কি তাই মনে করেন?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
5860 জন