খালেদা জিয়াকে সাজা দিতে জাল দলিল তৈরি করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা : আইনজীবী
Published : Thursday, 4 January, 2018 at 12:00 AM, Update: 03.01.2018 10:51:13 PM
খালেদা জিয়াকে সাজা দিতে জাল দলিল তৈরি করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা : আইনজীবীদিনকাল রিপোর্ট : বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী বলেছেন, খালেদা জিয়াকে ফাঁসাতেই জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা করা হয়েছে। এই মামলায় জাল নথিপত্র তৈরি করেছে তদন্ত কর্মকর্তা হারুনুর রশীদ। এর সপে হারুনুর রশদিসহ পাঁচজন সাী আদালতে মিথ্যা স্যা দিয়েছে। দুদকের আইন অনুযায়ী ৪৫ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত কার্য শেষ করার কথা। এই সময়ের মধ্যে শেষ না হলে আরো ১৫ দিন সময় বর্ধিত করার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু ৬০ দিনের তদন্ত কাজ শেষ হয়েছে ৩৯৫ দিনে। কেন এ রকম করা হয়েছে? জাল নথিপত্র তৈরি করার জন্য এতো সময় নেয়া হয়েছে। গতকাল বুধবার বকশীবাজারের আলিয়া মাদরাসায় স্থাপিত বিশেষ আদালতে মামলাটির যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে এসব কথা বলেন তিনি। এজে মোহাম্মদ আলী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এতিম তহবিলের নথি দেখার কোনো মতা সাী জগলুল পাশার নেই। তিনি কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী (সাবেক মুখ্য সচিব)’র পিএস ছিলেন। খালেদা জিয়ার আইনজীবী আরো বলেন, আইনের বিধান অনুযায়ী যেভাবে নথি তৈরি করার কথা সেভাবে তা করা হয়নি। নথির গতিবিধি সংক্রান্ত বিধানও এখানে অনুসরণ করা হয়নি। জাল নথি  তৈরি করে খালেদা জিয়াকে সাজা দেয়ার জন্য এ কাজ করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা। : বেগম খালেদা জিয়ার আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী বলেন, কুয়েতের আমিরের দেয়া ব্যক্তিগত ফান্ডকে সরকারি ফান্ড বানানোর জন্য জাল নথি তৈরি করা হয়েছে : সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এ জে মোহাম্মদ আলী বলেন, জাল দলিল  তৈরি করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হারুন-অর-রশিদ। আর এই জাল নথির সপে আদালতে মিথ্যা স্যা দিয়েছেন হারুন-অর-রশিদসহ পাঁচজন সাী। : মামলার এজাহারের তারিখ, অনুসন্ধানের তারিখ ও অভিযোগপত্র দেয়ার সময় উল্লেখ করে মোহাম্মদ আলী বলেন, আইনের বিধান অনুযায়ী ৪৫ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্তকাজ শেষ করার কথা। অথচ ৩৯৫ কার্যদিবস সময় নেয়া হয়েছে, এই সময়ের মধ্যে জাল দলিল  তৈরি করা হয়। এ ছাড়া রুলস অব বিজনেস, সচিবালয় নির্দেশমালা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কার্যবিবরণীর বিভিন্ন ধারা তুলে ধরে সাবেক এই অ্যাটর্নি জেনারেল এ জে মোহাম্মদ আলী বলেন, আইনের বিধান অনুযায়ী যেভাবে অতিরিক্ত নথি তৈরির কথা, তা সেভাবে করা হয়নি। নথির গতিবিধি-সংক্রান্ত বিধানও অনুসরণ করা হয়নি। এই মামলার গুরুত্বপূর্ণ সাী সাবেক মুখ্য সচিব কামালউদ্দিন সিদ্দিকীর ব্যক্তিগত সচিব সৈয়দ জগলুল পাশার এতিম তহবিল সংক্রান্ত নথি দেখার কোনো এখতিয়ারই ছিল না। : প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নথি জব্দ করতে হলে মতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তার অনুমতি নিতে হয়, আদালতকে জানান মোহাম্মদ আলী। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে নথি জব্দের সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার অনুমতি নেয়া হয়নি। এর কারণ জাল নথি তৈরি করা হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তাসহ কয়েকজন সাী মিলে জাল নথি তৈরি করেছেন। সাদা কাগজের ওপর হাতে লেখা এসব নথি কেন আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে, তিনি প্রশ্ন রাখেন আদালতের কাছে। : মামলার সাী ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের তৎকালীন হিসাবরণ কর্মকর্তা মাজেদ আলীর জবানবন্দি ও জেরা পড়ে শোনান সাবেক এই অ্যাটর্নি জেনারেল। তিনি বলেন, জেরার জবাবে মাজেদ স্বীকার করেছেন, এতিম তহবিল সংক্রান্ত নথি কে ঘষামাজা করেছেন, তা বলতে পারবেন না। তিনি (মাজেদ) নিজে কোনো নথি তৈরি করেননি। আদালতের কাছে মেহাম্মদ আলী প্রশ্ন রেখে বলেন, কেন এমন সাীকে আদালতে উপস্থাপন করা হলো? : মামলার সাী সাবেক মুখ্য সচিব আসামি কামাল উদ্দিন সিদ্দিকীর জবানবন্দি ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক কর্মকর্তা যুগ্ম সচিব তৌহিদুর রহমান খানের জবানবন্দি ও জেরা পড়ে শোনান মোহাম্মদ আলী। তিনি বলেন, সৈয়দ জগলুল পাশার অতিরিক্ত নথি খোলার কোনো সুযোগ নেই। এর আগে এ মামলায় বেগম খালেদা জিয়ার দুজন আইনজীবী তাদের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেছেন। তৃতীয় আইনজীবী সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এ জে মোহাম্মদ আলী যুক্তিতর্ক উপস্থাপন অব্যাহত রেখেছেন। : ২৬ ও ২৭ ডিসেম্বর খালেদা জিয়ার পে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন তার আইনজীবী আবদুর রেজাক খান। তিনি আদালতকে বলেন, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে করা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট-সংক্রান্ত দুর্নীতি মামলায় দুদকের পে এতিম তহবিলের যে নথিপত্র জমা দেয়া হয়েছে, তা হাতে লেখা। তিনি দাবি করেন, ওই নথিপত্র ঘষামাজা করা ও স্বারবিহীন। কোনো মূল নথি পাওয়া যায়নি। ওই লেখা কার তা কেউ বলতে পারেননি। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কেউ শনাক্ত করেননি। আজ বৃহস্পতিবারও খালেদা জিয়ার পে এ জে মোহাম্মদ আলী যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করবেন। : খালেদা জিয়া বেকসুর খালাস পাবেন : মওদুদ : বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, মিথ্যা মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে কোনোভাবেই সাজা দেয়া যাবে না। তিনি এ মামলায় বেকসুর খালাস পাবেন। গতকাল বুধবার রাজধানীর বকশীবাজারের আলিয়া মাদরাসা মাঠে স্থাপিত ঢাকার ৫ নং বিশেষ জজ ড. আখতারুজ্জামানের আদালতে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার পে ৬ষ্ঠ দিনের মতো যুক্তি উপস্থাপন শেষে সাংবাদিকদের একথা বলেন তিনি। : মওদুদ আহমেদ বলেন, মামলাটিতে যারা জালিয়াতি করে মিথ্যা সাী দিয়েছেন তাদের বিরুদ্ধেই মামলা করা উচিত। আমরা এ সংক্রান্ত একটি আবেদন আদালতকে দেব। পুরো মামলাটি কাল্পনিক। ঘষা-মাজার ওপর নির্ভর করে মামলাটি দাঁড় করানো হয়েছে। মামলার মূল নথি পাওয়া যায়নি। সেখানে তারা নতুন করে কাগজ তৈরি করেছেন। মামলাটি ভুয়া। : : :





প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

আইনজীবী এ কে মোহাম্মদ আলী বলেছেন, খালেদা জিয়াকে সাজা দিতে জাল ডকুমেন্ট তৈরি করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা। আপনিও কি তাই মনে করেন?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
5883 জন