শীতে কাঁপছে উত্তরাঞ্চল : ঢাকার তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি
Published : Friday, 5 January, 2018 at 12:00 AM, Update: 04.01.2018 10:48:47 PM
শীতে কাঁপছে উত্তরাঞ্চল : ঢাকার তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি দিনকাল ডেস্ক : কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, দিনাজপুরসহ সারাদেশে শীতের তীব্রতা বাড়ছে। ঘন কুয়াশায় ঢেকে যাচ্ছে গোটা জনপদ। গরম কাপড়ের অভাবে শীতকষ্টে ভুগছে শিশু বৃদ্ধসহ নিম্ন আয়ের কর্মজীবী মানুষ ও অসহায় ছিন্নমূল লোকজন। শীতে কাতর মানুষ কনকনে ঠান্ডা হিমেল হাওয়া থেকে নিজেদের রক্ষা করতে খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছে। এদিকে ঢাকায়ও তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি ছুঁই ছুঁই, ফলে ঢাকা ও আশপাশের জেলায় তীব্র শীত পড়েছে। : কুড়িগ্রাম : কুড়িগ্রাম থেকে সংবাদদাতা জানায়, কুড়িগ্রামে বেড়েছে শীতের তীব্রতা। গেল দু’দিন ধরে শীতের দাপটে কাবু হয়ে পড়েছে জেলার সব শ্রেণির মানুষ। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় কুড়িগ্রাম হাসপাতালে মীম (দেড় বছর) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শীতজনিত রোগে আক্রান্ত মেয়েকে রাজারহাট থেকে কুড়িগ্রাম হাসপাতালে ভর্তি করেছিল বাবা বুলবুল। কিন্তু তীব্র শীতে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত মেয়েটি আধাঘন্টা পরেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে সে। আজ জেলায় সর্বনি¤œ তাপমাত্রা ৮ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস বলে রাজারহাট আবহাওয়া অফিস সূত্র জানিয়েছে। : ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আনোয়ারুল হক জানান, রোগীটিকে শেষ মুহূর্তে ভর্তি করা হয়েছিল। সচেতন বাবা-মায়ের উচিত কোন খারাপ পরিস্থিতি হলেই সাথে সাথে রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে আসা। তিনি আরও জানান, শীত মোকাবিলায় হাসপাতালে প্রয়োজনীয় ওষুধপত্রের মজুদ নিশ্চিত করা হয়েছে। বিভিন্ন রোগে হাসপাতালে প্রায় দেড় শতাধিক রোগী ভর্তি রয়েছে। : নদ-নদী তীরবর্তী ও শহরের দরিদ্র অসহায় দরিদ্র মানুষ এক কাপড়ে পার করছেন কনকনে শীত। ঘন কুয়াশা আর হিমেল বাতাসে জেলায় দিন-দিন বাড়ছে শীতের তীব্রতা। শীতের কারণে বাড়ছে ঠান্ডাজনিত রোগ ব্যাধি। এ অবস্থায় দুর্ভোগে পড়েছে শিশু-বৃদ্ধ আর খেটে খাওয়া মানুষেরা। শীতের তীব্রতা বাড়তে থাকায় শিশুদের নানা রোগব্যাধি নিয়েও চিন্তিত হয়ে পড়েছেন হতদরিদ্র পরিবারের লোকজন। কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার চর ভেলাকোপার সবুর উদ্দিন জানান, ‘আমরা গরিব মানুষ কাজ করি খাই। কিন্তু খুব ঠান্ডা পড়ছে, সঙ্গে বাতাসÑ কাজে যেতে পারছি না। গরম কাপড় নাই।’ চিলমারী উপজেলার অষ্টমীর চরের ময়না বেগম জানান, কাপড় কেনার কোনো টাকা-পয়সা নাই। নিজের কাপড় না থাকলেও ছেলেমেয়েদের কাপড় তো কিনে দেয়া দরকার। : সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) : গত ২ দিন থেকে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার সর্বত্রই শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয়েছে। প্রচন্ড শীতে কাঁপছে লোকজন। গরম কাপড়ের দোকানে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। গত ডিসেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময়ে শৈত্যপ্রবাহ শুরু হলেও তা ২-৩ দিন স্থায়ী হয়। এরপর স্বাভাবিক শীত লক্ষ্য করা গেলেও গত ২ দিন ধরে আবারো শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয়েছে। এতে সর্বত্র কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়েছে। তাপমাত্রা নেমে আসার পাশাপাশি প্রচন্ড হিমেল হাওয়ায় অচল হয়ে পড়েছে এলাকার সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের জীবনযাত্রা। ঘন কুয়াশার সাথে হিমেল হাওয়া যুক্ত হয়ে জনজীবন নাকাল করে তুলেছে। সকাল ১০-১১টার আগে সূর্যের মুখ দেখা যাচ্ছে না।  প্রচন্ড ঠান্ডা ও ঘন কুয়াশার কারণে খেটে খাওয়া মানুষজন বিশেষ করে ভ্যান-রিকশা শ্রমিক ও কৃষক-কৃষানীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। কনকনে ঠান্ডায় বৃদ্ধ ও শিশুদের মাঝে ডায়রিয়াসহ ঠান্ডাজনিত বিভিন্ন ধরনের রোগ দেখা দেয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। : দিনাজপুর : বইছে হিমেল হাওয়া বাড়ছে শীতের তীব্রতা। পৌষ মাস শুরু হতেই হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত দিনাজপুর জেলার প্রকৃতি ও পরিবেশ দ্রুত পরিবর্তন ঘটতে শুরু করে। তাপমাত্রা দিন দিন কমছে। গত বুধবার দিনাজপুরে তাপমাত্রা ছিল ৭ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত দুই দিন ধরে দিনাজপুরে চলছে হিমেল বাতাসÑ সঙ্গে সঙ্গে তীব্র হচ্ছে শীতের আক্রমণ। শীতের আক্রমণে গরিব ও দিনমজুররা কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। বাজারে শীত কাপড়ের দাম চড়া থাকায় শীত নিবারণের কাপড় সংগ্রহ করতে পারছে না গরিব পরিবারগুলো। শীত নিবারণে রাতভর খড়কুটো দিয়ে আগুন জ্বালিয়ে শীতের আক্রমণ থেকে নিজেদের রা করছেন। সারা দিন হিমেল বাতাস দিনমজুরদের কর্মহীন করে ফেলেছে। রিকশা চালকরা সন্ধ্যা হতে না হতেই ঘরে ফিরে গেছেন। প্রচন্ড কুয়াশায় রাতে ভারী যানবাহনগুলো ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করেছে। ১০ ফুট দূরেও কোনো কিছু দেখা যায়নি। যানবাহনের হেলপার টর্চ জ্বালিয়ে যানবাহনের আগে আগে চালককে পথ দেখিয়ে নিয়ে গেছে। শীতবস্ত্রের আশায় গরিব, ছিন্নমূল মানুষকে সরকারি অফিস ও দাদাদের দ্বারে দ্বারে ছুটোছুটি করতে দেখা গেছে। সরকারিভাবে নামমাত্র কিছু লোককে কম্বল দিলেও হাজার হাজার পরিবার শীতবস্ত্র থেকে বঞ্চিত রয়েছে। তবে ২-১ জন সমাজসেবী তাদের সাধ্যমতো কোনো কোনো এলাকায় কিছু পরিবারকে কম্বল দিয়েছেন।সোয়েটার, চাদর আর পশমী কাপড়ের খোঁজে মানুষ ছোটাছুটি করছেন বিভিন্ন শপিংমল, স্টোর আর পুরনো কাপড়ের দোকানগুলোতে। গ্রামে সাধারণ মানুষ শীতের প্রকোপ থেকে বাঁচার জন্য কুঁড়েঘরের ছিদ্রগুলো বন্ধ করে দিয়েছেন। : ১০ ডিগ্রির নিচে নামবে ঢাকার তাপমাত্রা : আজ-কালের মধ্যেই ঢাকায় শৈত্যপ্রবাহ নামার আশঙ্কা রয়েছে। আবহাওয়া অধিদফতর জানায়, তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রির নিচে নামলে সে সময়কে শৈত্যপ্রবাহ বলে গণ্য করা হয়। সে অনুযায়ী দু-একদিনের মধ্যে ঢাকার তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রির নিচে নামতে পারে। তবে রাজধানীতে এখনও শৈত্যপ্রবাহ শুরু না হলেও দেশের পাবনা, চুয়াডাঙ্গা, দিনাজপুর, সৈয়দপুর ও টাঙ্গাইলসহ বিভিন্ন জেলায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয়েছে। : গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা থেকে পরবর্তী ছয় ঘণ্টায় ঢাকা ও আশপাশের এলাকার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে,  বৃহস্পতিবার রাজধানীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসতে পারে। আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। সেই সঙ্গে হাল্কা কুয়াশা পড়তে পারে। উত্তর ও উত্তর পশ্চিম দিক থেকে বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৫ থেকে ১০ কিলোমিটার। দিনের তাপমাত্রা হালকা হ্রাস পেতে পারে। সকাল ৬টায় তাপমাত্রা ছিল ১২ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৮৩ শতাংশ। : :





প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সভা-সমাবেশের অনুমতি নিয়ে সরকার দ্বৈত নীতি গ্রহণ করেছে। আপনিও কি তাই মনে করেন?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
289 জন