গুরুদাসপুরে প্রচণ্ড শীতে গবাদিপশু রোগে আক্রান্ত
Published : Saturday, 6 January, 2018 at 12:00 AM
গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি : ঘন কুয়াশা আর হিম শীতল বাতাসে বাড়াচ্ছে শীতের তীব্রতা। প্রকৃতির এমন প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে মানুষের পাশাপাশি জেঁকে বসেছে গবাদি পশুগুলোর ওপর। প্রতিনিয়তই নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে হাঁস, মুরগি, গরু-ছাগল, গবাদি পশু ও পক্ষিকুল প্রাণি। মাঠ পর্যায়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম না থাকায় ছাগলে প্লেগরোগ (পিপিআর), হাঁস-মুরগি রানীক্ষেত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। তবে গরুগুলো ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, ক্ষুরা রোগ, চর্ম রোগসহ শ্বাসকষ্ট রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এতে করে গবাদি পশু নিয়ে ঝুঁকিতে পড়েছেন খামারিসহ কৃষকরা। গরু-ছাগলকে শীত নিবারণের জন্য ছেঁড়া চটের বস্তা জড়িয়ে রক্ষার চেষ্টা করছেন খামরিরা। কিন্তু হাঁস-মুরগিসহ পক্ষিকুল প্রাণিরা শীতে কাহিল হয়ে পড়েছে। গুরুদাসপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ দফতরের দেয়া তথ্য মতে, গুরুদাসপুর উপজেলায় প্রায় ৭০০ গরু-ছাগলের খামার রয়েছে। এসব খামারে দেশি-বিদেশি প্রায় ৯১ হাজার গরু এবং দুই লাখ ২০ হাজার ছাগল পালন হচ্ছে। এর মধ্যে দেশি ষাঁড় নেপালি, ইন্ডিয়ান, অস্ট্রেলিয়ান ও ফিজিয়ান জাতের গরু বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এ ছাড়া হাঁস-মুরগির খামার রয়েছে ১৫০টি। এসব খামারে দুই লাখ ৩৬ হাজার হাঁস-মুরগি পালন করা হচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ভুক্তভোগীরা তাদের গবাদি পশুগুলোর চিকিৎসার জন্য এনেছেন। তাদেরই একজন গুরুদাসপুর পৌরসভার আনন্দনগর গ্রামের কৃষক মকবুল শাহ। তার চারটি গরুই শীতে ঝিমিয়ে পড়েছে। বাধ্য হয়ে তিনি একটি ডায়রিয়া আক্রান্ত বাছুর গরু নিয়ে এসেছেন প্রণিসম্পদ বিভাগে। রোগাক্রান্ত পশু নিয়ে শুধু তিনিই এসেছেন তা নয়। তার মতো অসংখ্য কৃষক এবং খামারি প্রতিদিন গবাদি পশু নিয়ে ভিড় করছেন হাসপাতালে। প্রতিদিন গড়ে ১০-১৫ জন ভুক্তভোগী মানুষ তাদের পশুর চিকিৎসা নিতে আসেন। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার চাঁচকৈড় পুরানপাড়া, বিলশা, খুবজিপুর, গাড়িষাপাড়া, বামনকোলা ও দড়িবামন গাড়া গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই খামারিরা গরুগুলো গোয়ালঘরে বেঁধে রেখেছেন। প্রচ  শীতে এসব পশুগুলো শুকিয়ে গেছে। শীতের কবল থেকে রক্ষা করতে পশুগুলোকে চটের বস্তা জড়িয়ে দেয়া হয়েছে। কিন্তু গোয়ালঘরগুলোর অধিকাংশই খোলা (বেড়াহীন)। উত্তরের হিম শীতল বাতাসে পশুগুলো কাঁপছে। তার চেয়ে বেশি কষ্টে রয়েছে গৃহপালিত ছাগলগুলো। হাতে গোনা কিছু মানুষ তাদের ছাগলকে পুরাতন কাপড় পরিয়ে রক্ষার চেষ্টা করলেও অধিকাংশ ছাগলেরই যতœ নিতে পারছেন না। এসব কারণে পশুগুলো শীতকালীন নানা সমস্যায় ভুগছে। এদিকে উপজেলার অন্তত ৮২টি খামার মালিক শীতে তাদের মুরগি নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। চাঁচকৈড় তালুকদার পাড়া মহল্ল­ার মুরগির খামার মালিক রাশিদুল ইসলাম জানান, শীতে তার খামারের প্রায় দেড় হাজার মুরগি ঝিমিয়ে পড়েছে। ঘন কুয়াশা আর শীত থেকে মুরগিকে বাঁচাতে খামারের চারদিকে ঘিরে আটকে দেয়া হয়। যাতে করে বাতাস না ঢোকে। পাশাপাশি ভেতরে গরম রাখতে বিদ্যুতের বাল্ব জ্বালিয়ে দিয়ে রক্ষার চেষ্টা করা হচ্ছে। তারপরও মরছে মুরগি। : :





দেশের পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতিতে অনশন স্থগিত করলেন নন-এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা। শিক্ষকদের দাবি পূরণ হবে বলে মনে করেন?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
2111 জন