বিডিআর বিদ্রোহের সেই তোরাব আলী মারা গেছেন
Published : Saturday, 6 January, 2018 at 12:00 AM
দিনকাল রিপোর্ট : বাংলাদেশের ইতিহাসে ন্যক্কারজনক ট্রাজেডি বিডিআর বিদ্রোহের আলোচিত ব্যক্তি আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ  তোরাব আলী (৮০) মারা গেছেন। গতকাল শুক্রবার  ভোর ৪টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পুলিশ পাহারায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। তোরাব আলী এক সময় হাজারীবাগ থানা আওয়ামী লীগ নিয়ন্ত্রণ করতেন। তোরাব আলীর মৃত্যু খবরটি গতকাল হাজারীবাগ থানা আওয়ামী লীগ সভাপতি ইলিয়াছুর রহমান বাবলু সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন। : তিনি বলেন, ‘আমরা শুনেছি তোরাব আলী মারা গেছেন। তার লাশ ঢামেক মর্গে রয়েছে। কারাগার থেকে কাগজপত্র যাওয়ার পর পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হবে। তোরাব আলী অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের ৪৮ নং (বর্তমানে ঢাকা দক্ষিণের ২২নং) ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। প্রসঙ্গত,  ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় বিডিআর (বর্তমানে বিজিবি) বিদ্রোহের মামলায় তিনি গ্রেফতার হবার পর থেকে কারাগারেই ছিলেন। গত বছরের ২৭ নভেম্বর আলোচিত বিডিআর হত্যা মামলার মৃত্যুদন্ড সাজাপ্রাপ্ত এই আসামিকে হাইকোর্ট অভিযোগ থেকে খালাস প্রদান করেন। বিচারপতি মো. শওকত হোসেন, বিচারপতি মো. আবু জাফর সিদ্দিকী ও বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চের রায়ে তোরাব আলী খালাস পান। : তবে খালাসের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করায় তিনি কারাগারেই ছিলেন। গত বুধবার অসুস্থবোধ করলে তোরাব আলীকে ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই শুক্রবার তিনি মারা গেলেন। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢামেক পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো.বাচ্চু মিয়া। এর আগে ২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর বিচারিক আদালতের রায়ে বিডিআর হত্যাকান্ডে সহযোগিতার অভিযোগে ৩০২ ধারায়  তোরাব আলীকে যাবজ্জীবন কারাদন্ডের আদেশ দেয়া হয়েছিল। পাশাপাশি তাকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরো পাঁচ বছরের কারাদন্ডাদেশ দেয়া হয়। : ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানার বিডিআর সদর দফতরে বিদ্রোহের ঘটনায় ৫৭ জন সেনাসদস্যসহ ৭৪ জন নিহত হয়েছিলেন। ওই ঘটনার পর তোরাব আলীর বিরুদ্ধে বিডিআরের একজন অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে সুপরিকল্পিত এ বিদ্রোহের কথা তিনি আগেই জানতে পারেন বলে অভিযোগ ওঠে। ঘটনা জেনেও তা কর্তৃপক্ষকে না জানানোর অভিযোগে অভিযুক্ত হওয়ায় ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আখতারুজ্জামান বিচারিক আদালতে তাকে দন্ড দিয়েছিলেন। পরে ২০১৫ সালের ১৮ জানুয়ারি থেকে বিচারপতি মো. শওকত হোসেনের নেতৃত্বে তিন সদস্যের হাইকোর্টের বিশেষ (বৃহত্তর) বেঞ্চে মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের ওপর শুনানি হয়। গত বছরের ১৩ এপ্রিল ৩৭০ কার্যদিবসে সেই শুনানি শেষ হয়। এরপর ২৭ নভেম্বর আপিলের রায়ে খালাস পান তোরাব আলী। : :





প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতিতে অনশন স্থগিত করলেন নন-এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা। শিক্ষকদের দাবি পূরণ হবে বলে মনে করেন?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
2124 জন