নিরপেক্ষ সরকারের দাবিতে সময়মতো কর্মসূচি : মওদুদ
গণআন্দোলনে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে বাধ্য হবে সরকার
Published : Saturday, 6 January, 2018 at 12:00 AM, Update: 05.01.2018 10:56:07 PM
দিনকাল রিপোর্ট : গণআন্দোলনের মাধ্যমে একটি নিরপেক্ষ নির্দলীয় সরকারের অধীনে আগামী নির্বাচনের ব্যবস্থা করার জন্য বর্তমান সরকারকে বাধ্য করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। তিনি বলেন, একাদশ নির্বাচন ‘নিরপেক্ষ নির্দলীয় সরকারের’ অধীনে অনুষ্ঠানের দাবিতে ‘উপযুক্ত সময়ে’ আন্দোলনের কর্মসূচি দেবে বিএনপি। আওয়ামী লীগ সমঝোতার পথে যাবে না। একমাত্র বিকল্প হলো রাজপথ। গণআন্দোলনের মাধ্যমে বর্তমান সরকারকে বাধ্য করতে হবে একটি নিরপেক্ষ নির্দলীয় সরকারের অধীনে আগামী নির্বাচনের ব্যবস্থা করার জন্য। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, সময় যখন আসবে, তখন আমরা কর্মসূচি দেব। সে জন্য আমাদের অপেক্ষা করতে হবে। একটা উপযুক্ত সময়ে, উপযোগী সময়ে আন্দোলনের সেই কর্মসূচি দেয়া হবে। সেই কর্মসূচি সফল না হওয়া পর্যন্ত আমরা ঘরে ফিরে যাব না। গতকাল শুক্রবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে নাগরিক অধিকার আন্দোলন ফোরাম আয়োজিত ‘৫ জানুয়ারি কলঙ্কিত নির্বাচন এবং বর্তমান প্রেক্ষাপট’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। নিরপেক্ষ সরকারের দাবিতে আন্দোলনকে ‘গণ-আন্দোলনে রূপান্তরিত’ করার জন্য সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বানও জানান মওদুদ। তিনি বলেন, ‘আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, ২০১৪ সাল আর ২০১৮ সাল এক নয়। এবার আমরা নির্বাচন করব, নির্বাচনের সমস্ত প্রস্তুতি আমরা নেব। তবে সেই নির্বাচন হতে হবে একটি অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন। কোনো দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন নয়। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির যে ভোটবিহীন নির্বাচন হয়েছিল, সেই নির্বাচন বাংলাদেশের মাটিতে আর কোনোদিন হতে দেয়া হবে না।’ : অধস্তন বিচারকদের শৃঙ্খলা বিধিমালার মাধ্যমে নিম্ন আদালতকে সরকার আরো কঠিনভাবে নিয়ন্ত্রণ করবে বলে মন্তব্য করে সাবেক এই আইনমন্ত্রী বলেন, প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার (সদ্য পদত্যাগকারী প্রধান বিচারপতি) ঘটনার মাধ্যমে সরকার নিজেই বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করে দিয়েছে। সরকার এটা সম্পূর্ণভাবে হরণ করে নিয়েছে। এখন তারা নিম্ন আদালতের বিচারকদের জন্য একটা শৃঙ্খলা বিধির গেজেট করেছে। এই গেজেটের মাধ্যমে নিম্ন আদালতকে এখন আরো কঠিনভাবে নির্বাহী বিভাগের অধীনে, প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এই গেজেট মাজদার হোসেন রায়ের অপমৃত্যু ঘটিয়েছে। এই রায়ের মূল বিষয় ছিল বিচার বিভাগ নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথকীকরণ করা হবে। : মওদুদ বলেন, এতদিন যেভাবে নিম্ন আদালত নিয়ন্ত্রিত হয়ে আসছে, এই গেজেটের মাধ্যমে ভবিষ্যতেও নিয়ন্ত্রিত হবে। যারা আইনের শাসনে যারা বিশ্বাস করে তাদের জন্য, আমাদের, সকলের জন্য দুর্ভাগ্যের। : তিনি বলেন, ২০১৪ সালের নির্বাচনকে সরকার সংবিধান রক্ষার নির্বাচন বলে। কিন্তু ওই নির্বাচন সংবিধান মোতাবেক হয়নি। আমরা বিচার বিভাগের দুর্বলতার কারণে আইনের মাধ্যমে মোকাবিলা করতে পারিনি। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি কোনো নির্বাচন হয়নি দাবি করে মওদুদ বলেন, এটা বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি কলঙ্কিত দিন। : আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কেমিস্ট্রির মধ্যে গোলমাল আছে দাবি করে বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, মুক্তিযুদ্ধে আওয়ামী লীগের অবদান থাকলেও স্বাধীনতার পর তাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ আছে। তারা এখন অবলীলায় মিথ্যা কথা বলছে। মামলাকে হাতিয়ার হিসেবে নিয়ে বিরোধী দলকে দমন করছে। মুখে মুখে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বললেও তারা বিরোধী দলের সভা-সমাবেশের অধিকার হরণ করেছে। আইনের শাসন ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করেনি। : আয়োজক সংগঠনের উপদেষ্টা ভিপি ইব্রাহিমের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আহমেদ আজম খান, নির্বাহী কমিটির সদস্য ইসমাইল হোসেন বেঙ্গল, আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম এ হান্নান, জিনাফের সভাপতি মিয়া মো. আনোয়ার প্রমুখ। : :





প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতিতে অনশন স্থগিত করলেন নন-এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা। শিক্ষকদের দাবি পূরণ হবে বলে মনে করেন?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
2131 জন