ছাত্রলীগের দু গ্রুপে সংঘর্ষ কুমেক বন্ধ ঘোষণা
Published : Saturday, 6 January, 2018 at 12:00 AM
শাহাজাদা এমরান, কুমিল্লা, দিনকাল : কুমিল্লা মেডিকেল কলেজে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১৫ ছাত্র আহত হয়েছে। বৃহস্পতিবার দিবাগত গভীর রাতে কলেজ হোস্টেলে দফায় দফায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে আগামী ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত কলেজ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের নির্দেশে শুক্রবার ভোর থেকে শিক্ষার্থীরা হল ত্যাগ করেছে। এ ঘটনা তদন্তে কলেজের উপাধ্যক্ষ ডা. জাহাঙ্গীর হোসেন ভূঁইয়াকে প্রধান করে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ ঘটনায় ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। কলেজের সার্বিক পরিবেশ থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। জানা যায়, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আড়াইটায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক দুই সভাপতি ডা. আবদুল হান্নান ও ডা. হাবিবুর রহমান পলাশ গ্রুপের নেতাকর্মীরা সশস্ত্র অবস্থায় আবাসিক হোস্টেলে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এ সময় দফায় দফায় চলা ওই সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন ছাত্র আহত হয়। এদের মধ্যে আশঙ্কাজনক অবস্থায় গুরুতর আহত দুজন ছাত্র হলেনÑ আবদুল হান্নানের সমর্থক তৌফিক আহমেদ ও হাবিবুর রহমানের সমর্থক ইরফানুল হক। তারা মেডিকেল কলেজের ২৩তম ব্যাচের ৫ম বর্ষের শিক্ষার্থী। তারা দুজন মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়েছেন। এই দুই ছাত্রকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অপর আহতদের কুমেক ও নগরীর বিভিন্ন প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এদিকে হামলায় মারাত্মক আহত ৫ম বর্ষের ছাত্র তৌফিকের মৃত্যুর গুজব গতকাল শুক্রবার সকালে ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়ে। তবে তৌফিকের বন্ধুরা জানান, তার অবস্থা সংকটাপন্ন, উন্নত চিকিৎসার জন্য তৌফিককে ঢামেক থেকে স্কয়ার হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে মুঠোফোনে কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. মো. মহসিন উজ-জামান চৌধুরী জানান, গভীর রাতে ছাত্ররা সংঘর্ষে লিপ্ত হলে কিছু ছাত্র আহত হয়েছে, আহতদের ঢাকা ও কুমিল্লায় চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তিনি আরও জানান, ঘটনা তদন্তে কলেজের উপাধ্যক্ষ ডা. জাহাঙ্গীর হোসেনকে প্রধান করে ৫ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আগামী ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত মেডিকেল কলেজের একাডেমিক কার্যক্রম ও হোস্টেল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এবং কলেজের পক্ষ থেকে থানায় মামলা করার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে অধ্যক্ষ জানান।  শিক্ষার্থীরা এরই মধ্যে সকল আবাসিক হোস্টেল ত্যাগ করেছে। কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি (তদন্ত) মো. সালাহউদ্দিন জানান, খবর পেয়ে রাতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে। এদিকে কুমেক অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. মো. মহসিন উজ-জামান চৌধুরী আরো জানান, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতের ঘটনায় গতকাল শুক্রবার কলেজে জরুরি মিটিং করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সংঘর্ষে জড়িত থাকাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। ইতিমধ্যে মামলা করারও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগের এই বিবদমান দুই গ্রুপের মধ্যে মাত্র ৩ মাসের ব্যবধানে তিনবার  রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটল। : :





প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতিতে অনশন স্থগিত করলেন নন-এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা। শিক্ষকদের দাবি পূরণ হবে বলে মনে করেন?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
2084 জন