শালিখায় হাড় কাঁপানো শীতে জনজীবন বিপর্যস্ত
Published : Sunday, 7 January, 2018 at 12:00 AM
শালিখা (মাগুরা) প্রতিনিধি : শৈত্যপ্রবাহে মাগুরার শালিখায় জনজীবন বিপর্যস্ত  হয়ে পড়েছে। গত শুক্রবার  শীতের তীব্রতা প্রকট বৃদ্ধি পায়। শীতের তীব্রতায় শিশুরা নিউমোনিয়া, জ্বর, সর্দি ও কাশিসহ  বিভিন্ন শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। প্রতি দিনই হাসপাতাল ও ক্লিনিকে শিশু রোগীদের ভিড় বাড়ছে। গত ১০-১২ দিনে শালিখা ও মাগুরা হাসপাতালে প্রায় ২ শতাধিক শিশু রোগী ভর্তি  হয়েছে। সবাই শীতজনিত রোগে  আক্রান্ত। শীতের  তীব্রতা  বৃদ্ধি  পাওয়ায় বৃদ্ধরাও বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত  হচ্ছেন। ফলে তারা মারাত্মক অসুস্থ  হয়ে পড়ছেন। শীতের  তীব্রতায়  কৃষকরা মাঠে যেতে পারছেন না। শ্রমিক ও শ্রমজীবী মানুষ পড়েছেন আরো বেশি বেকায়দায়। একদিকে তাদের  সংসার ও অন্যদিকে  বিভিন্ন  এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে ঋণের কিস্তি  দিতে  হিমশিম খেতে হচ্ছে  তাদের। পুরনো কাপড়ের দোকানগুলোতেও প্রচুর ভিড় জমে  উঠেছে। গত শুক্রবার আড়পাড়া  ডাকবাংলো মার্কেটে  ও উপজেলার  কালীবাড়ি বাজারে গিয়ে দেখা যায়, পুরনো  কাপড়  ব্যবসায়ীরা ১০ টাকা থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত  ডাকে  ডাক ছেড়ে শীত নিবারণ কাপড়  বিক্রি  করছেন। ক্রেতারা দোকান গুলোতে  মাছির মতো  ভিড়  জমিয়েছেন। গত দুই দিনের ব্যবধানে  হঠাৎ  করে ঝির ঝির ঠান্ডা হাওয়া আর শৈত্যপ্রবাহে শীতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় শীতবাহিত রোগে  উপজেলার প্রায় প্রত্যেকটি গ্রামে প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। দিনে কোনো রকম সূর্যের আলো অনুভূতি হলেও সূর্য ডোবার সঙ্গে সঙ্গে প্রচন্ড  ঠান্ডা উত্তরে বাতাস বইতে শুরু করে। প্রত্যহ ঘন  কুয়াশায় চারদিকে ঠেকে যাচ্ছে। শহরে শীতের প্রকট কম হলেও উপজেলার গ্রামাঞ্চলে শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় বাজারগুলোতে লোকজনের উপস্থিতি খুবই কম দেখা যাচ্ছে। শীতের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন অসহায় দরিদ্র ও খেটে খাওয়া পরিবারের মানুষগুলো। একদিকে তাদের কাজ করতে না পারায় হারাচ্ছেন মজুরি, অন্যদিকে পর্যাপ্ত শীতের কাপড় না থাকায় আক্রান্ত হচ্ছে নানা শীতবাহিত রোগে। উপজেলার আড়পাড়া, চুকিনগর, নাঘোসা, সীমাখালী, পিয়ারপুর, ছান্দড়া, চতুরবাড়ীয়া, শতখালী, কুমার কোটা, উজগ্রামসহ বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে জানা গেছে এসব গ্রামের দিন মজুর, ভ্যানচালকসহ দরিদ্র পরিবারের লোকজন শীতে কাজে যেতে না পেরে  গত ১০ দিনে  অনেকেই  দায়দেনা হয়েছে। শীতের তীব্রতায় লোকজন বাইরে বের না হওয়ায় অটো ভ্যান, নসিমন, করিমন, লাটা, ভুটভুটির মালিকরাও দারুণ অর্থ সংকটে পড়েছেন। ফলে উপযুক্ত আয় না হওয়ায় দায়দেনা পরিশোধে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদেরও। চা ও পানের দোকানগুলোতে বেচাকেনা খুব কম হচ্ছে। ঠিকমতো কেনাবেচা না হওয়ায় ঋণের টাকা দেয়া দুষ্কর হয়ে পড়ছে। উপজেলার কয়েকটি গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, প্রচন্ড শীতে খড়কুটা জেলে অনেকেই শীত নিবারণ করছে। শনিবার  আড়পাড়া বাজারে ডাকবাংলো মার্কেটে  গিয়ে সেলিম নামের এক পুরনো কাপড় ক্রেতার সঙ্গে কথা  বললে  তিনি  বলেন, ১৫০ টাকা  একটি জাম্পারের দাম চাইছে দোকানদার। এমনিতেই  শীতের  কারণে  আয় রোজগার নেই। এত টাকা দিয়ে জাম্পার কেনা আমার দ্বারা সম্ভব না ভাই। এর চেয়ে বাড়ি গিয়ে খড়কুটা জেলে আগুন পুহাবানে। আড়পাড়া গ্রামের ফতে আলী মোল্যা, দেবকী রানী, সাহেব আলীসহ আরো অনেক খেটে  খাওয়া নারী ও পুরুষ  জানান, শীতের  তীব্রতা  বৃদ্ধি পেলেও সরকার থেকে  এখন পর্যন্ত শীতের কোনো কাপড় বা কম্বল  আমরা পাইনি। : :





দেশের পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

নিখোঁজদের সন্ধানে স্বজনরা যাচ্ছেন জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলে। আপনি কি এ উদ্যোগ সমর্থন করেন?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
33765 জন