ফেলানির ৭ম মৃত্যুবার্ষিকী
সীমান্ত হত্যা বন্ধ দিবস ঘোষণার দাবি
Published : Sunday, 7 January, 2018 at 12:00 AM, Update: 06.01.2018 11:22:15 PM
সীমান্ত হত্যা বন্ধ দিবস ঘোষণার দাবিস্টাফ রিপোর্টার, কুড়িগ্রাম : ৭ জানুয়ারি। ২০১১ সালের এই দিনে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিএসএফ’র গুলিতে নির্মমভাবে হত্যাকান্ডের শিকার হন কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার রামখানা অনন্তপুর সীমান্তের বাসিন্দা কিশোরী ফেলানী। দীর্ঘ সাড়ে চার ঘন্টা কাঁটাতারে ঝুলে থাকে কিশোরী ফেলানীর নিথর দেহ। এই হত্যাকান্ডে গণমাধ্যমসহ বিশ্বের মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে ভারত। : ফেলানীর বাবা নুর ইসলাম নুরু জানান, দিনটি ছিল শুক্রবার। ভোর সোয়া ৬টার দিকে ভারতীয় বিএসএফ’র গুলিতে আহত ফেলানী আধাঘন্টা ধরে ছটফট করে নির্মমভাবে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। এরপর সকাল পৌনে ৭টা থেকে পৌনে ১১টা পর্যন্ত মৃতদেহ কাঁটাতারের উপর দীর্ঘ সাড়ে ৪ ঘন্টা ঝুলে থাকে। পরে বিএসএফ সদস্যরা লাশ নামিয়ে ভারতের অভ্যন্তরে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় বিশ্বব্যাপী তোলপাড় শুরু হলে মৃত্যুর ৩০ ঘন্টা পর ৮ জানুয়ারি শনিবার লাশ ফেরত দেয় বিএসএফ। বাংলাদেশে আর এক দফা ময়না তদন্ত শেষে লাশ দাফন হয় ৭৩ ঘন্টা পর। মানাধিকার সংস্থাগুলোর অব্যাহত চাপের মুখে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন কুড়িগ্রামে এসে ফেলানীর মা ও ভাই-বোনদের ভারত থেকে ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দেন। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ১৫ ফেব্রুয়ারি নিñিদ্র নিরাপত্তা এবং কঠোর গোপনীয়তায় মধ্য দিয়ে বিকেলে নিহত ফেলানীর মা ও ভাই- বোনদের বাংলাদেশে ফেরত দেয় ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। : ফেলানীর মা জাহানারা বেগম জানান, হাতে মেহেদী রাঙাতে যে কিশোরী মেয়েকে দেশে পাঠিয়েছিলাম, সেই ফেলানী বিএসএফ’র গুলিতে চির বিদায় নিয়ে শুয়ে আছে ৭ বছর ধরে। কবরের পাশে বসে হাহাকার করা ছাড়া আর আমাদের কিছুই করার নেই। রামখানা ইউনিয়নে টিনের একটি ঘরে কোন রকমে মাথা গুঁজে দিন কাটছে আমাদের। ঐ ঘরটির সামনের অংশে একটি ছোট মুদি দোকান দিয়ে সংসার চালাই। নাখারগঞ্জ বাজারে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসন ও বিজিবি’র দেয়া অপর দোকানটি চালায় ফেলানীর বাবা নুর ইসলাম। কিন্তু মূলধনের অভাবে ব্যবসা ভাল চলছে না। : রামখানা ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল আলিম সরকার জানান, দীর্ঘদিন ধরে ফেলানীর হত্যার ন্যায় বিচার না পেয়ে ফেলানীর পরিবার ও গ্রামবাসীও হতাশ হয়ে পড়েছে। সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুনের দেয়া অনেক প্রতিশ্রুতির মধ্যে শুধুমাত্র ফেলানীর কবরটি পাকাকরণ ছাড়া আজ পর্যন্ত অন্যান্য প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হয়নি। ফেলানী হত্যাকারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আশা প্রকাশ করে সীমান্তে হত্যাকান্ড বন্ধের জন্য ও এই দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে জাতীয় দিবস ঘোষনার দাবী জানান। : অ্যাডভোকেট এস. এম আব্রাহাম লিংকন জানান, ফেলানী হত্যার দায় স্বীকার করার পরেও বিএসএফ সদস্য অমিয় ঘোষকে বিএসএফের বিশেষ আদালত ২বছর ৮মাস পরে বেকসুর খালাস দেয়। তবে সেই রায় যথার্থ মনে করেনি বিএসএফের মহাপরিচালক। তিনি রায় পুনর্বিবেচনার জন্য আদেশ দেন। এরপর ২ জুলাই ২০১৫ সালে বিএসএফ বিশেষ আদালত আবারো নির্দোষ ঘোষণা করেন অভিযুক্ত অমিয় ঘোষকে। মেয়ের হত্যার ন্যায় বিচার পেতে ভারতের মানবাধিকার সংস্থা (মাসুম) এর মাধ্যমে ফেলানীর পরিবার একই বছরের ১৩ জুলাই ভারতের সুপ্রিম কোর্টে ২০১ এবং ২৪৫ নং দু’টি রিট করেন। ভারতের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে গঠিত বেঞ্চে শুনানি রিট আবেদন গ্রহণ করে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ কয়েকটি সংস্থাকে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেয়। গত ২৫অক্টোবর ভারতের সর্বোচ্চ আদালত আগামী ১৮জানুয়ারি দু’টি রিটের শুনানির দিন ধার্য করে। : :





প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

নিখোঁজদের সন্ধানে স্বজনরা যাচ্ছেন জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলে। আপনি কি এ উদ্যোগ সমর্থন করেন?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
33836 জন