আওয়ামী লীগ শিগগিরই প্রাণিকুল থেকে অবলুপ্ত হয়ে যাবে : রিজভী
Published : Sunday, 7 January, 2018 at 12:00 AM, Update: 06.01.2018 11:21:33 PM
আওয়ামী লীগ শিগগিরই প্রাণিকুল থেকে অবলুপ্ত হয়ে যাবে : রিজভীদিনকাল রিপোর্ট : বিএনপি নয়, মানুষের ভোটাধিকার হরণ ও জুলুম-নির্যাতনের কারণে আওয়ামী লীগই ডাইনোসরের মতো বিলুপ্ত হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, ক্ষমতার সিংহাসন দীর্ঘস্থায়ী করার লক্ষ্যে সরকার পুলিশ ও দলীয় সন্ত্রাসীদের লেলিয়ে দিয়ে বিএনপির শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পন্ড করার অপচেষ্টা চালিয়েছে। বিএনপির শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে হামলা চালিয়ে সরকার আরো পৈশাচিক আরো কলঙ্কিত হলো। বিনা ভোটের সরকারের বিদায়ের দিন গণনা শুরু হয়ে গেছে। ২০১৮ সালেই দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বাংলাদেশের মানুষের অধিকার ফিরে পাবার বছর। কলঙ্ক মোচনের বছর। গতকাল শনিবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। রিজভী বলেন, গতকাল দেশব্যাপী গণতন্ত্র হত্যা দিবস পালনকালে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ও ছাত্রলীগ-যুবলীগের সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়েছে। কোনো কোনো স্থানে বাধা দিয়ে কালো পতাকা মিছিল পন্ড করে দেয়ার অপচেষ্টা করেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ক্ষমতাসীন দলের সন্ত্রাসীদের হামলায় আহত হয়েছেন শতাধিক বিএনপি নেতাকর্মী। পুলিশ গ্রেফতার করেছে অর্ধ শতাধিক নেতাকর্মীকে। ময়মনসিংহের গৌরিপুরে গণতন্ত্র হত্যা দিবস উপলক্ষে কালো পতাকা মিছিলে পুলিশ বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর বেধড়ক লাঠিচার্জ করে। এ সময় উপজেলা চেয়ারম্যান আহমেদ তায়েবুর রহমান হিরনসহ ১০ জন বিএনপি নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। : তিনি সারাদেশে হামলা ও গ্রেফতারের চিত্র তুলে ধরে বলেন, বান্দরবানে বিএনপির কালো পতাকা মিছিলে হামলা চালায় পুলিশ। এ সময় ৫ জন নেতাকর্মী আহত হন। আটক করা হয় জেলা ছাত্রদল সভাপতি সাদিকুর রহমান জুয়েল এবং বান্দরবান কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি ওমর বিন মোরশেদসহ ৪ জনকে। খুলনা বিএনপির উদ্যোগে কালো পতাকা মিছিলে পুলিশি লাঠিচার্জে ১৪ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। এ সময় পুলিশ বিএনপির ৫ জন নেতাকর্মীকে আটক করেছে। নারায়ণগঞ্জ বিএনপির কালো পতাকা মিছিলে হামলা চালিয়ে ৫ জন নেতাকর্মীকে আহত করেছে পুলিশ। ঝালকাঠি জেলা বিএনপি কার্যালয়ে পুলিশ তালা লাগিয়ে দিয়েছে। সে সময় জেলা বিএনপির সভাপতি মোস্তফা কামাল মন্টু, সহ-সভাপতি মিঞা আহমেদ কিবরিয়াসহ বেশ কয়েকজনের সঙ্গে পুলিশ অশালীন আচরণ করে, গালিগালাজ দেয়। এর আগে জেলা ও উপজেলা বিএনপি নেতাকর্মীদের বাড়িতে বাড়িতে ব্যাপক তল্লাশি চালায় পুলিশ। বরিশালে বিএনপি ও ছাত্রদলের কালো পতাকা মিছিলে সশস্ত্র হামলা চালিয়েছে। সে সময় ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা ছাত্রদলের ৪ জন নেতাকর্মীকে কুপিয়ে আহত করেছে। আহতদেরকে বিভিন্ন ভর্তি করা হয়েছে। চট্টগ্রামে বিএনপির কালো পতাকা মিছিলে হামলা চালিয়ে ১০ জন নেতাকর্মীকে আহত করা হয়েছে। কেরানীগঞ্জের ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সড়কে মনু বেপারীর ঢাল এলাকায় গণতন্ত্র হত্যা দিবস উপলক্ষে বিএনপির কালো পতাকা মিছিলে পুলিশ গুলি ছুড়ে ও কাঁদুনে গ্যাস নিক্ষেপ করে অসংখ্য নেতাকর্মীকে আহত করে। কেরানীগঞ্জ থানা বিএনপির সভাপতি নিপুণ রায় চৌধুরীর নেতৃত্বে মিছিলে পুলিশ উক্ত হামলা চালায়। এই পুলিশি আক্রমণের ঘটনায় প্রায় ২৫ নেতাকর্মী আহত হয়েছে এবং ৬ জনকে পুলিশ আটক করে। কালো পতাকা মিছিল করতে গেলে বাকেরগঞ্জের সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হোসেন খানের ওপর গতকাল আওয়ামী সন্ত্রাসীরা হামলা করেছে। : বিএনপির এই নেতা বলেন, বিএনপির উদ্যোগে দেশব্যাপী গণতন্ত্র হত্যা দিবস উপলক্ষে বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদেরকে গ্রেফতারের ঘটনায় আমি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির পক্ষ থেকে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে তাদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত বানোয়াট মামলা প্রত্যাহার ও নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করছি। আহত নেতাকর্মীদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি। গতকাল ৫ জানুয়ারি গণতন্ত্র হত্যা দিবসে উপলক্ষে ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশে বাধা দেয়ার প্রতিবাদে আজ ঢাকা মহানগরীর থানায় থানায় বিক্ষোভ কর্মসূচি চলছে। এ পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী ইতিমধ্যে শাহবাগ থানায় অনুষ্ঠিত বিএনপির বিক্ষোভ মিছিলে পুলিশ হামলা চালিয়ে বিএনপি কর্মী রতন, শামীম, রাসেল, ফারুকসহ ১০ জনের অধিক নেতাকর্মীকে আহত করেছে। : আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্যর সমালোচনা করে রিজভী বলেন, গতকাল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের কাদের সাহেবের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে তার উদ্দেশ্যে বলতে চাই- শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচনের কথা বলা আপনাদের জন্য হবে অরণ্যে রোদন। গণতন্ত্র হত্যাকারীদের অধীনে নির্বাচন হলে সেখানে মানুষের ভোটাধিকার যে আবারো ২০১৪-এর ৫ জানুয়ারির মতোই কবরস্থানে চলে যাবে তা দেশবাসী খুব ভাল করেই জানে। নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগের পরিণতি কী হবে এটা অনুধাবন করেই ওবায়দুল কাদের সাহেবরা হুমকি আর ধমকের পথ অবলম্বন করেছেন। ক্ষমতার মসনদে অবাঞ্ছিত অনুপ্রবেশ করে ওবায়দুল কাদের সাহেবরা এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। ক্ষমতার নেশায় উন্মার্গগামী হয়েছেন। এজন্য ক্ষমতা হারানোর ভয়ে শেখ হাসিনার অন্ধ স্তাবকে পরিণত হয়েছেন। যারা ইতিহাসের সত্যকে অস্বীকার করে তারা নিজেরাই নিজেদের ধ্বংসের বীজ রোপণ করে। ভোটারবিহীন সরকারের লোকেরা ৫ জানুয়ারি কলঙ্কিত নির্বাচনের মাধ্যমে জোর করে ক্ষমতায় আসীন থেকে শেষ সময়ে আবারো অবৈধ পথে ক্ষমতায় যেতে নানা মতলববাজ কথাবার্তা বলছেন। : ওবায়দুল কাদের সাহেবের উদ্দেশ্যে রিজভী বলেন, অতি ক্ষমতা, অতি দম্ভ, অতি দুর্নীতি, অতি নিপীড়ন-নির্যাতন, অতি অস্ত্রের আস্ফালন এবং অতি মিথ্যাচারে আপনারা নিজেরাই অতিকায় ডাইনোসরে পরিণত হয়েছেন। সুতরাং আপনারাই প্রাণীকুল থেকে অতি শিগগিরই অবলুপ্ত হয়ে যাবেন। গতকাল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের আরো বলেছেন “সময় ও স্রোত কারো জন্য অপেক্ষা করে না। নির্বাচনও বিএনপির জন্য অপেক্ষা করবে না। সংবিধান অনুয়ায়ী যথাসময়েই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আপনাদের ঠেকানোর সাধ্য থাকলে দেখান। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে জনগণ আপনাদের প্রতিহত করবে।” ওবায়দুল কাদের সাহেবের এসব ফাঁকা বুলি দিয়ে নিজের পদকে নিরাপদ করছেন। আওয়ামী লীগ এখন ভাঙ্গা কলসি। আর ভাঙ্গা কলসিই বাজে বেশি। ভয় দেখিয়ে, রক্ত ঝরিয়ে, জনগণের বিরুদ্ধে বন্দুক ব্যবহার করে ক্ষমতায় থাকার মজাতে জনগণের কথার আওয়াজ আপনাদের কানে ঢোকে না। কাদের সাহেব আপনি ঠিকই বলেছেন সময় ও স্রোত কারো জন্য অপেক্ষা করে না। কাদের সাহেব, দুঃশাসন বিদায়ের সময় চলে এসেছে। : প্রতিবাদী জনগোষ্ঠী আজ লুটেরাদের বিরুদ্ধে জেগে উঠেছে। ভোটের অধিকার ফিরিয়ে পেতে সোচ্চার হয়েছে। নিত্যপণ্যসহ দ্রব্যমূল্যের ঊর্র্ধ্বগতিতে দিশেহারা জাতি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে হারানো গণতন্ত্র ফিরে পেতে জীবনবাজি রেখে সংগ্রাম অব্যাহত রেখেছে। আরেকটি ৫ জানুয়ারির মতো কলঙ্কিত নির্বাচন জনগণই প্রতিহত করবে, প্রতিরোধ করবে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে। মানুষ বিএনপিকে প্রতিহত নয়, প্রতিহত করবে মানুষের ভোটাধিকার হরণকারীদের, গণতন্ত্র হত্যাকারীদের। দেশের যে বারোটা আপনারা বাজিয়েছেন, ধাপ্পাবাজি, চাপাবাজি করে আর পার পাওয়া যাবে না। আপনারা চারদিক থেকে যে চ্যালেঞ্জে পড়েছেন তা মোকাবিলা করার ক্ষমতা আপনাদের নেই। তাই আপনারা হাতে মৃত্যুর দন্ডাজ্ঞা নিয়ে জনগণকে ভয় দেখিয়ে নিজেদের স্বার্থ সিদ্ধি করতে চান। কিন্তু বারবার সেই সুযোগ আপনাদের আসবে না। ২০১৮ সালে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে গণতন্ত্রের বিজয় পতাকা উড়বে মানুষের ঘরে ঘরে। জনগণের অগ্রযাত্রায় আওয়ামী লীগ আর বলপ্রয়োগে প্রতিহত করতে পারবে না। : সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, অনেকেরই জ্বর সেরে যায়, কিন্তু আওয়ামী নেতাদের জ্বর সারে না, ক্ষমতার জ্বরের তীব্র মাত্রায় এরা প্রলাপ বকতে থাকে। ক্ষমতার সিংহাসন দীর্ঘস্থায়ী করার লক্ষ্যে সরকার পুলিশ ও দলীয় সন্ত্রাসীদের লেলিয়ে দিয়ে গতকাল বিএনপির শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পন্ড করার অপচেষ্টা চালিয়েছে। বিএনপির শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে হামলা চালিয়ে সরকার আরো  পৈশাচিক আরো কলঙ্কিত হলো। এমনিতে এই সরকার সকল পর্যায়ে বিতর্কিত। দেশে-বিদেশে এই সরকারের কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই। গতকালও বিবিসির প্রতিবেদনে হেড লাইন ছিল- বাংলাদেশের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন ছিল গণতন্ত্রের ওপর আঘাত। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও তা স্বীকার করে বলেছিলেন-৫ জানুয়ারির মতো প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন আর হবে না। : সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, সহ-দফতর সম্পাদক মো. মুনির হোসেন, সহ-প্রচার সম্পাদক আমিরুল ইসলাম খান আলীম প্রমুখ। : :





প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

নিখোঁজদের সন্ধানে স্বজনরা যাচ্ছেন জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলে। আপনি কি এ উদ্যোগ সমর্থন করেন?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
33794 জন