পুলিশ ডেকে নিয়ে হত্যা করেছে দাবি স্ত্রী শাহেনা আক্তারের
বিএনপি নেতা হত্যায় ুব্ধ হবিগঞ্জবাসী
Published : Monday, 8 January, 2018 at 12:00 AM, Update: 07.01.2018 10:49:50 PM
বিএনপি নেতা হত্যায় ুব্ধ হবিগঞ্জবাসীদিনকাল রিপোর্ট : হবিগঞ্জের বিএনপি নেতা ও সাবেক পৌর কাউন্সিলর ইউনুস আলীকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে পুলিশ হত্যা করেছে বলে অভিযোগ করেছেন নিহতের স্ত্রী। তিনি বলছেন, চার মাস আগে স্বামীকে হয়রানি-নির্যাতনের অভিযোগ এনে পুলিশের বিরুদ্ধে মামলাও করেছিলেন। নিহত ইউনুস আলী পরিবারের লোকজন ও প্রতিবেশীরা দাবি করেন, ইউনুসকে পরিকল্পিতভাবে গুলি করে খুন করেছে পুলিশ। ঘটনার পর থেকে থামছে না ইউনুস আলীর পরিবারের লোকজন ও ৪ অবুঝ সন্তানের আহাজারি। : সরেজমিনে ইউনুস আলীর বাড়িতে গিয়ে তার স্ত্রী শাহেনা আক্তারের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, আমার স্বামীকে গত ৩১ ডিসেম্বর রাতে মোবাইলে কল দিয়ে একটি বিচারে নেয়ার নাম করে বাড়ি থেকে বের করে নিয়ে যায়। এরপর রাতে হঠাৎ আমার পরিচিত একজন ফোন দিয়ে জানায় পুলিশ আমার স্বামীকে গুলি করেছে। : ‘আমি তাৎণিক আমার ভাসুরকে নিয়ে ঘটনাস্থল আয়না শাহ (রহ.) মাজারের নিকট কাউছারের বাড়িতে যাই। তখন আমি আমার স্বামীকে দেখতে চাইলে পুলিশ আমায় ধমক দিয়ে বলে, অনেক সাহস বেড়ে গেছে, এখান থেকে ভাগ, না হলে ভালো হবে না। তাদের এমন ব্যবহার দেখে আমার ভাসুর আমাকে নিয়ে চলে আসেন।’ পুলিশের ভয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রতিবেশীরা বলেন, আমাদের এলাকার অত্যন্ত ভাল এবং সমাজসেবক লোক ছিলেন ইউনুস আলী। এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে ২০১৩ সালের ২৩ অক্টোবর অনুষ্ঠিত পৌরসভা নির্বাচনে এলাকাবাসীর পছন্দের প্রার্থী ইউনুস আলী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন। দলমত নির্বিশেষ সকলে তার জন্য কাজ করে বিপুল ভোট পেয়ে কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। : পরিবারের লোকজন জানান, ইউনুস আলী বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন, তিনি চুনারুঘাট পৌর যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক। রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকায় বিভিন্ন সময় পুলিশ বাদী মামলায় বেশির ভাগ আসামি হিসেবে তার নাম থাকতো। চুনারুঘাট থানা পুলিশ প্রায় সময়ই ব্যাপক নির্যাতন চালিয়েছে ইউনুস আলীর পরিবারের লোকজনের উপর। কয়েক মাস পূর্বে চুনারুঘাট থানার এএসআই দেলোয়ারের নেতৃত্বে ইউনুস আলীর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে তাকে না পেয়ে ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর ও ইউনুস আলীর স্ত্রী শাহেনা আক্তারকে মারধর করে গুরুতর আহত করে। : এসময় স্থানীয় লোকজন আহত অবস্থায় শাহেনাকে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। পুলিশের নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে বাধ্য হয়ে গত ৬ আগস্ট চুনারুঘাট থানার এসআই দেলোয়ার হোসেন, এসআই সাজিদ মিয়া, এসআই আতিকুল আলম খন্দকার, এসআই রিপন বড়ুয়া, এসআই জোসেফের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা দায়ের করেন। এই মামলাই কাল হয়ে দাঁড়ায় শাহেনা আক্তার ও তার পরিবারের। শাহেনার দায়েরকৃত মামলার কারণে চুনারুঘাট থানা পুলিশ চরম প্তি হয় বলেও জানান। : পুলিশ গণমাধ্যমকর্মীদের জানায়, ইউনুস আলী ছিল মাদক ব্যবসায়ী। তার নামে বিভিন্ন অভিযোগে মামলা রয়েছে চুনারুঘাট থানায়। গত ৩১ ডিসেম্বর রাত ১০টায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ খবর পায় ইউনুস আলী ও তার সহকর্মীরা আয়না শাহ (রহ.) মাজারের নিকটবর্তী কাউসার নামে এক যুবকের ঘরে মাদক সেবন করছে। সেখানে গিয়ে তাদের গ্রেফতার করতে চাইলে ইউনুস আলী পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। তাৎণিক তিনি একটি ধারালো অস্ত্র নিয়ে ওই দারোগাকে আহত করে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করার সময় এসআই আতাউর রহমান নিজের পিস্তল থেকে গুলি ছুঁড়লে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান। : এদিকে স্থানীয় এলাকাবাসী পুলিশের এমন মন্তব্য ভ্রান্ত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেও দাবি করছেন। ঘটনাস্থল আয়না শাহ (রহ.) মাজারের পার্শ্ববর্তী বাড়ির এক বাসিন্দা জানান, ঘটনার রাত প্রায় ১০টার দিকে আমি ঘরেই ছিলাম। হঠাৎ করে কয়েকটি বিকট শব্দ শুনতে পাই। পুলিশের ভয়ে আমরা কেউ ঘর থেকে বের হইনি। স্থানীয়রা জানান, এমন নির্মমভাবে প্রশাসনের লোক মানুষ মারতে পারে আগে জানতাম না। ইউনুস আলী যখন পানির জন্য যখন ছটফট করছিল তখন এক পুলিশ তার মুখের মধ্যে পা দিয়ে ছাপ দিয়ে ধরে। পরে তার একটি হাত মোছড়িয়ে ভেঙ্গে ফেলে। তার মৃত্যু নিশ্চিত করতে উপরের দিকে বুকের বামপাশে আরেকটি গুলি করার সাথে সাথে সেখানেই তার মৃত্যু হয়। : স্থানীয় মতাসীন দলের একজন দায়িত্বশীল নেতা এ প্রতিনিধিকে জানান, ইউনুস খুব ভালো মানুষ ছিলো। সমগ্র পৌর এলাকার কারো সাথে তার বিবাধ নাই, কখনো কারো সঙ্গে ঝগড়ায় জড়ায়নি সে। পুলিশ তাকে যেভাবে আইন নিজের হাতে তুলে নিয়েছে তা নিন্দনীয়, এই জঘন্য হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সদয় দৃষ্টি কামনা করছি। এ ব্যাপারে চুনারুঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ আমিরুজ্জামানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি। : এলাকাবাসীর প্রশ্ন, ইউনুস আলী জনগণের বিপুল ভোটে নির্বাচিত সাবেক কাউন্সিলর ছিলেন। তিনি যদি মাদকসেবী বা ব্যবসায়ীই হতেন তাহলেও তাকে এমন নির্মমভাবে খুন করা হলো কেন? দেশে তো আইন আছে, পুলিশ কেন নিজের হাতে আইন হাতে তুলে নিলো। এখন তার রেখে যাওয়া এই চার অবুঝ শিশুর (তিন মেয়ে ও এক ছেলে সুমি আক্তার (১০), সাফিয়া (৮), তানিয়া (৬) একটি অবুঝ ছেলে ৪ বছর বয়সী ফাহমিদ) দায়িত্ব কে নেবে? বাবা হারানো এই চার শিশুর কান্নায় এলাকার বাতাস ভারী হয়ে উঠছে। এছাড়াও স্থানীয় এলাকাবাসী দেশের গণমাধ্যমের সত্যতা না যাচাই করে এই ধরনের খবর প্রকাশ করায় নিন্দা জানান। ইউনুস আলীর স্ত্রী শাহেনা আক্তার বলেন, আমার স্বামী বিএনপি করার কারণেই তাকে নির্মমভাবে পুলিশ খুন করেছে। পুলিশের ভয়ে এখন পর্যন্ত আমি আমার স্বামীর এই নির্মম খুনের আইনি কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করতেও পারছি না। তবে আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে আমার স্বামীর খুনিদের ফাঁসি দাবি করছি। : এদিকে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সাথে সাাৎ করেছেন চুনারুঘাটে পুলিশের  গুলিতে নিহত  সাবেক কাউন্সিলর ও যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক মো. ইউনুস আলীর পরিবার। এসময় বেগম খালেদা জিয়া ইউনুস আলীর চার সন্তান ও সদ্য বিধবা স্ত্রীর খোঁজখবর নেন ও তাদেরকে সান্ত্বনা দেন, পরম মমতায় আদর করেন এবং তাদের হাতে দুই লাখ টাকার চেক তুলে দেন। শনিবার (৬ জানুয়ারি) রাত দশটায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয়ে এ অনুদান তুলে দেন। : : :





প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, আইয়ুব-ইয়াহিয়ার পথে হাঁটছেন শেখ হাসিনা। আপনিও কি তাই মনে করেন?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
33923 জন