উন্নত জাতি গঠনে বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব রয়েছে : রাষ্ট্রপতি
Published : Monday, 8 January, 2018 at 12:00 AM, Update: 07.01.2018 10:49:23 PM
ইবি (কুষ্টিয়া) সংবাদদাতা, দিনকাল : রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, ‘উন্নত জাতি গঠনে চাই উন্নত নাগরিক। আর উন্নত নাগরিক গঠনে বিশ্ববিদ্যালয়ের রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ও কর্তব্য।’ গতকাল রবিবার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুটবল মাঠে আয়োজিত চতুর্থ সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। : সমাবর্তন অনুষ্ঠানে তিনি আরো বলেন, ‘জাতীয় সমস্যার আলোকে কার্যকর নতুন জ্ঞান সৃষ্টি, উদ্ভাবন শক্তির সৃজন, প্রায়োগিক সুফলদানে সক্ষম বৈচিত্র্যধর্মী গবেষণার জন্য আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর অনেকখানি নির্ভরশীল। জাতি গঠনমূলক উচ্চমান অভিমুখী পরিকল্পনা সফল করতে, বিশ্বের অগ্রসর জাতিগুলোর সমকক্ষ হতে এবং আন্তর্জাতিক নেতৃত্বের আসনে উন্নীত হতে আমাদের সুপরিকল্পিতভাবে কঠোর শ্রমদান করতে হবে। বিসর্জন দিতে হবে ক্ষুদ্রস্বার্থ। আন্তরিক বলিষ্ঠ দেশপ্রেম চেতনাজাত সুকঠিন প্রতিজ্ঞাই আমাদের কাক্সিত সাফল্য এনে দিতে পারে। বৈজ্ঞানিক শিক্ষা ও তার প্রায়োগিক ব্যবহার, প্রযুক্তি দক্ষতা অর্জন ইত্যাদি ক্ষেত্রে আমাদের শিক্ষকমন্ডলীকে প্রাজ্ঞ দিক-নির্দেশনা দিতে হবে। গড়ে তুলতে হবে প্রয়োজনের নিরিখে উন্নত প্রজন্ম।’ : ডিগ্রিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি আরো বলেন, ‘তোমরা স্বীকৃতিপ্রাপ্ত উচ্চশিক্ষিত নাগরিক, দেশের সবচেয়ে আলোকিত অংশের গর্বিত সদস্য। দেশ ও জাতির প্রতি তোমাদের রয়েছে অনেক দায়িত্ব ও অঙ্গীকার। তোমরা নিষ্ঠা ও বিশ্বস্ততার সঙ্গে এ দায়িত্ব পালনে উন্মুখ বলে আমি দৃঢভাবে বিশ্বাস করি। তোমরা তোমাদের অর্জিত জ্ঞানের সফল প্রয়োগ ঘটাতে পারলে দেশ অনেক সমস্য থেকে মুক্ত হবে এবং দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।’ : প্রধান আলোচকের বক্তব্যে অধ্যাপক ড. জাফর ইকবাল বলেন, ‘পৃথিবীর সব মানুষেরই বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নিয়ে এক ধরনের মোহ রয়েছে। অনেকেরই ধারণা প্রযুক্তি মানে ভালো, প্রযুক্তি মানে গ্রহণযোগ্য। আসলে সেটি পুরোপুরি সত্য নয়, পৃথিবীতে ভালো যেরকম প্রযুক্তি আছে, ঠিক সেরকম অপ্রয়োজনীয় প্রযুক্তি এমনকি খারাপ প্রযুক্তি পর্যন্ত আছে। শুধু তাই নয়, সবচেয়ে বিপজ্জনক বিষয়টি হচ্ছে একটি প্রযুক্তি কারো কারো কাছে ভালো প্রযুক্তি হতে পারে আবার কারো কাছে সেটি ভয়াবহরকম বিপজ্জনক প্রযুক্তি হতে পারে। তার জ্বলন্ত প্রমাণ হচ্ছে সামাজিক নেটওয়ার্ক।’   : সমাবর্তনে সভাপতিত্ব করেন রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর মো. আবদুল হামিদ। প্রধান আলোচক হিসেবে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. জাফর ইকবাল উপস্থিত ছিলেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. হারুন-উর-রশিদ আসকারী, প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. শাহিনুর রহমান, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সেলিম তোহা বক্তব্য রাখেন। এছাড়া অনুষ্ঠানে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এসএম আব্দুল লতিফ, সকল অনুষদের ডিন, শিক্ষক এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি, শিক্ষকসহ ডিগ্রিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. সাইদুর রহমান, অধ্যাপক ড. সরওয়ার মুর্শেদ ও আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক  ড. আরমিন খাতুন। : এর আগে দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের কাছে অবস্থিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতিভাস্কর্য  ‘মৃত্যুঞ্জয়ী মুজিব’ এর উদ্বোধন করেন। পরে শোভাযাত্রাসহ অনুষ্ঠানস্থলে আগমন করেন। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫টি অনুষদের ডিনবৃন্দ বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের নিকট ডিগ্রিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের ডিগ্রি অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করেন। পরে রাষ্ট্রপতি ডিগ্রি অনুমোদন প্রদান করেন। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ এবং অধ্যাপক ড. জাফর ইকবালকে সৌজন্য স্মারক প্রদান করা হয়। রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে সৌজন্য স্মারক প্রদান করা হয়। বিকাল ৩টায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সমাবর্তনের সমাপ্তি ঘটে। : : : :





প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, আইয়ুব-ইয়াহিয়ার পথে হাঁটছেন শেখ হাসিনা। আপনিও কি তাই মনে করেন?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
33936 জন