বিশ্ব ইজতেমা সফল করতে ব্যাপক প্রস্তুতি
Published : Monday, 8 January, 2018 at 12:00 AM, Update: 07.01.2018 10:49:06 PM
টঙ্গী প্রতিনিধি, দিনকাল : বিশ্ব ইজতেমা সফল করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। গতকাল রবিবার গাজীপুর সিটি করপোরেশনের টঙ্গী কার্যালয় প্রাঙ্গণে স্থানীয় সংসদ সদস্য জাহিদ আহসান রাসেল এর সভাপতিত্বে ও গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ড. দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ুন কবীর-এর সঞ্চালনায় এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। ইজতেমায় সেবাদানে নিয়োজিত সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রায় সব বিভাগের প্রতিনিধিরা সভায় অংশ নেন। সভায় গাসিক মেয়র অধ্যাপক এম.এ মান্নান বক্তৃতায় বলেন,  বিশ্ব ইজতেমা সফল করার জন্য যা যা করার দরকার তাই করা হবে। ইতিমধ্যে সিটি করপোরেশনের প থেকে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। তিনি ইজতেমা সফল করার জন্য মহান আল্লাহ পাকের সাহায্য কামনা করেন। সভায় আরো বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার এম বজলুল করিম, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. হেলাল উদ্দিন, গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আজমত উল্লাহ খান, গাজীপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রাসেল শেখ, তাবলীগ জামাতের মুরুব্বি ড. রফিকুল ইসলাম প্রকৌশলী মো. গিয়াস উদ্দিন প্রমুখ। : তাবলীগ জামাতের এই মুরুব্বি সাবেক রাষ্ট্রদূত ড. মো. রফিকুল ইসলাম আরো বলেন, টঙ্গীর বিশ্বইজতেমায় যদি ভারতের মাওলানা সাদ সাহেব না আসেন, তবে এটা বিশ্ব ইজতেমা থাকবে না। এটা হবে আমাদের স্থানীয় ইজতেমা, পাকিস্থানী ম্যানেজড ইজতেমা। এটা হবে বাংলাদেশী ইজতেমা, বিশ্ব ইজতেমা হবে না। কারণ অনেক বিদেশী ও দেশের মুসল্লিরা জানিয়েছেন, সাদ সাহেব যদি বিশ্ব ইজতেমায় অংশ না নিতে পারেন তবে তারা এ ইজতেমায় অংশ নেবেন না। এটা পাকিস্তানীদের একটা চাল। এ ব্যাপারে তিনি সরকার তথা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা কামনা করেন। এছাড়া বিদেশী মুসল্লিদের জন্য অন অ্যারাইভাল ভিসার মেয়াদ ২১জানুয়ারি পর্যন্ত বাড়ানোরও অনুরোধ জানান তিনি। : তিনি আরো বলেন, বিশ্ব ইজতেমা নিয়ে একটি স্বার্থান্বেষী মহল চক্রান্ত করছে। : এসময় গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো. হারুন অর রশীদ জানান, টঙ্গী বিশ্বইজতেমা এলাকায় প্রায় সাত হাজার পুলিশ সদস্য আট ভাগে ভাগ হয়ে পাঁচস্তরে মুসল্লিদের নিরাপত্তা রা করবে। মুসল্লিদের প্রবেশ পথে সন্দেহভাজনদের মেটাল ডিটেক্টর, ১৫টি ওয়াচ টাওয়ার ও ৪১টি সিসি ক্যামেরা থেকে পুরো ইজতেমাস্থল পর্যবেণ করা হবে। সাদা পোশাকে প্রতি খিত্তায় ৬জন করে পুলিশ দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া রোহিঙ্গাদেরও নজরদারি করা হবে। বিশ্ব ইজতেমা এলাকায় হকার ও ভিুকমুক্ত করা হবে। এছাড়া রবিবার থেকে ইজতেমা শেষ না হওয়া পর্যন্ত গাজীপুরের পুলিশ সদস্যদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। যানচলাচল স্বাভাবিক রাখতে ইজতেমা ময়দানগামী সড়কগুলোতে ট্রাফিক পুলিশের ১৮শ সদস্য দায়িত্বপালন করবেন। এছাড়া সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেণের জন্য আলাদাভাবে জেলা প্রশাসন, পুলিশ, র‌্যাব ও  ফায়ার সার্ভিসের কন্টোল রুম স্থাপন করা হবে। : ঢাকা বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক মো. গাউস আল মুনির জানান,  ইজতেমা চলাকালে বিশেষ ট্রেন চালু হবে এবং প্রতিটি ট্রেন টঙ্গী রেলওয়ে জংশনে দুই মিনিট করে যাত্রা বিরতি করবে। : বিদ্যুত কর্তৃপ জানিয়েছে, ইজতেমা এলাকায় পাঁচটি ফিডারের মাধ্যমে  সার্বণিক বিদ্যুৎ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।   : গাজীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য জাহিদ আহসান রাসেল জানান, এবছর ১৫টি গভীর নলকূপের মাধ্যমে ইজতেমায় আগত মুসল্লিদের অজু-গোসলের জন্য প্রতিদিন প্রায় চার কোটি লিটার বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করা হবে। এছাড়া মুসল্লিদের জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক টয়লেট ও গোসলখানা স্থাপন করা হয়েছে। : গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র এমএ মান্নান জানান, ২৬টি ফগার মেশিনের মাধ্যমে মশক নিধনের ওষুধ স্প্রে করা হবে। ২১টি গার্বেজ ট্রাকের মাধ্যমে ইজতেমা ময়দান থেকে বর্জ্য অপসারণ, ধুলাবালি নিয়ন্ত্রণে পানি ছিটানোর ব্যবস্থা ও ময়দান এলাকায় প্রয়োজনী ব্লিচিং পাউডার সরবরাহ করা হবে। এখানে বিদেশী ক্যাম্পে রান্নার জন্য ১৩৬টি গ্যাসের চুলা স্থাপন করা হবে। বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা দেয়ার জন্য ৪৫টি চিকিৎসা সেবা কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে। : জেলা প্রশাসক দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ুন কবীর জানান, ইজতেমা এলাকাসহ আশপাশের এলাকায় অবৈধস্থাপনা উচ্ছেদ, অশ্লীল পোস্টার অপসারণ এবং হোটেল রেস্তোরায় বিশুদ্ধ খাবার নিশ্চিতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। : সেনাবাহিনীর প থেকে মুসল্লিদের যাতায়াতের জন্য তুরাগে ৭টি ভাসমান ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে। ৯ জানুয়ারি সকাল থেকে তা চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হবে। এর আগে ৮ জানুয়ারি সন্ধ্যার পর থেকে ইজতেমা ময়দানের পশ্চিমপাশের তুরাগ  নদে নৌযান চলাচল বন্ধ করা হবে। : বিশ্ব ইজতেমার মুরুব্বি মো. গিয়াস উদ্দিন জানান, ইতোমধ্যে বিশ্ব ইজতেমার প্রস্তুতির প্রায় ৯০ ভাগ সম্পন্ন হয়েছে। বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব আগামি ১২জানুয়ারি থেকে ১৪জানুয়ারি পর্যন্ত এবং দ্বিতীয় পর্ব ১৯ থেকে ২১জানুয়ারি পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিদফার শেষ দিনে আখেরি মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে। : ঢাকার উত্তরা ছাড়াও গাজীপুরের আটটি স্থানে মুসল্লিদের গাড়ি পার্কিং করার জন্য স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। তুরাগ নদীর পশ্চিম তীরে আইইউবিএটি ও আহসানিয়া মিশন ক্যান্সার হাসপাতালের মাঝ দিয়ে ইজতেমার প্রবেশপথ খুলে দেওয়ার দাবী জানিয়ে তিনি বলেন, উচ্চ আদালত থেকে আমরা রায় পেয়েছি। এর পরও ওই স্থানটি দখলমুক্ত হচ্ছে না। এব্যাপারে রাজউকের প থেকে কোন সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে না। : ১৯৬৭সাল থেকে টঙ্গীতে বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। ময়দানে মুসল্লিদের স্থান সংঙ্কুলান না হওয়ায় ২০১১সাল থেকে টঙ্গীতে দুই পর্বে বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রথম বছর যারা (যে ৩২ জেলার মুসল্লি) টঙ্গীর বিশ্বইজতেমায় অংশ নেবেন তারা পরবর্তী বছর সেখানে যাবেন না। ওই বছর এসব জেলার মুসল্লিরা নিজ নিজ জেলায় আঞ্চলিক ইজতেমায় শরিক হবেন। ২০১৫সাল থেকে প্রতিবছর টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমার পাশাপাশি জেলা জেলায় আঞ্চলিক ইজতেমা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। : : : : :





প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, আইয়ুব-ইয়াহিয়ার পথে হাঁটছেন শেখ হাসিনা। আপনিও কি তাই মনে করেন?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
33937 জন